সানজিদা ইমু
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৫ ১২:৩৯ পিএম
মুম্বাইয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে বিজয়ী চার শিক্ষার্থী
বাংলাদেশ দল ১৮তম ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিয়াড অন অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স (IOAA) ২০২৫-এ ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে। প্রতিযোগিতার প্রতিটি বিভাগে পুরস্কার জিতে নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। দলের চারজন অংশগ্রহণকারীই সম্মাননা অর্জন করে দেশে ফিরেছে, যা এই মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক আসরে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তাসদিক আহমেদ বাংলাদেশের জন্য রৌপ্যপদক জিতেছেন, আর ফারহান সাজিদ অর্জন করেছেন বেস্ট গ্রুপ অ্যাওয়ার্ড। এ ছাড়াও ফারিয়া মাহমুদ ও মো. রকনুজ্জামান সম্মানসূচক পুরস্কার লাভ করেছেন। ফলে দলের প্রতিটি সদস্যই নিজেদের মেধা ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এই সম্মিলিত সাফল্য আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান উৎকর্ষের প্রতিফলন। আয়োজক কমিটি বাংলাদেশের এ অর্জনকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা বলে প্রশংসা করেছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে থাকা দলনেতা ও একাডেমিক প্রশিক্ষকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। এ গৌরবময় মুহূর্ত আবারও প্রমাণ করেছে যে বৈশ্বিক বিজ্ঞান অঙ্গনে বাংলাদেশের সম্ভাবনা অপরিসীম, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও বড় স্বপ্ন দেখাতে অনুপ্রাণিত করবে। আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড (আইএও) একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃত জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কিত বাৎসরিক ইভেন্ট, যা মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য (১৪-১৮ বছর বয়স) আয়োজন করা হয়।
আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের পর্বগুলো ৩টি ভাগে বিভক্ত : তত্ত্বীয়, পর্যবেক্ষণীয় এবং ব্যবহারিক। তত্ত্বীয় পর্বের সমস্যাগুলো সাধারণত জ্যোতির্বিজ্ঞান, জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞান, স্থান এবং গ্রহ বিষয়ক পদার্থবিদ্যা অথবা কাল্পনিক পরিস্থিতি বিষয়ক ক্লাসিক্যাল সমস্যা থেকে দেওয়া হয়। পর্যবেক্ষণীয় পর্বে থাকে তারকা, তারকামণ্ডলী, তারকার আপেক্ষিক ঔজ্জ্বল্য এবং কৌণিক দূরত্ব নির্ণয়, দূরবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার অথবা অন্যান্য পর্যবেক্ষণীয় কৌশল। ব্যবহারিক পর্বে থাকে পর্যবেক্ষণলব্ধ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সমস্যা এবং তার প্রস্তাবকৃত সমাধান। আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের সমস্যাগুলো কল্পনাশক্তি, সৃজনশীলতা এবং মুক্তচিন্তার বিকাশের লক্ষ্যে সাজানো হয়। সমস্যাগুলো শিক্ষার্থীদেরকে সমস্যাগুলো স্বতন্ত্রভাবে শনাক্ত করতে, মডেল নির্বাচন করতে, প্রয়োজনীয় অনুমান, বিবেচনা, বহুমাত্রিক হিসাব বা লজিক অপারেশন পরিচালনার জন্য উদ্দীপ্ত করে। পর্বগুলো দ্রুততা বা স্মৃতিশক্তি অথবা আনুষ্ঠানিক তথ্য বা যুক্তি জ্ঞানের পরীক্ষা নয়। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোতে জাতীয় অলিম্পিয়াড এবং ক্যাম্প আয়োজনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের অংশগ্রহণকারীদের বাছাই করা হয়।
মুম্বাইয়ে বাংলাদেশের এ অর্জনকে আয়োজক কমিটি ইতিহাসের অন্যতম সেরা বলে প্রশংসা করেছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে থাকা দলনেতা ও একাডেমিক প্রশিক্ষকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। এ গৌরবময় মুহূর্ত আবারও প্রমাণ করেছে যে বৈশ্বিক বিজ্ঞান অঙ্গনে বাংলাদেশের সম্ভাবনা অপরিসীম, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও বড় স্বপ্ন দেখাতে অনুপ্রাণিত করবে।