× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সঠিক হাঁস চিনবেন যেভাবে

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৫ ১৪:৪৬ পিএম

সঠিক হাঁস চিনবেন যেভাবে

গ্রামে বেড়াতে গেলে উঠানে হাঁটতে থাকা একটা হাঁস দিয়েই রাজকীয়ভাবে হয়ে যেত খাবারের আয়োজন। গ্রাম ছাড়িয়ে হাঁসের মাংসের চাহিদা এখন শহরেও ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে। আবার পারিবারিকভাবেও হাঁসের চাহিদা অনেক বেড়েছে আগের চেয়ে। তবে হাঁস কিনতে গিয়ে অনেকেই বিপাকে পড়ে যান চিনতে না পারার কারণে। সঠিক হাঁস চেনার কয়েকটি উপায় সম্পর্কে চলুন জেনে নেওয়া যাক। 

রাজহাঁস 

রাজহাঁস বা Swan একটি বড় আকৃতির ও সুন্দর জলচর পাখি। এটি হাঁস প্রজাতির হলেও আকার ও সৌন্দর্যে আলাদা। রাজহাঁস চেনার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য- 

সাধারণ হাঁসের তুলনায় অনেক বড়, ডানা মেললে ২ মিটারেরও বেশি লম্বা হতে পারে। লম্বা ও সুন্দর গলাÑ এটিই রাজহাঁসের প্রধান বৈশিষ্ট্য। বেশিরভাগ রাজহাঁস সাদা রঙের হয়। কিছু প্রজাতি কালো বা কালো-সাদা মিশ্র রঙের হয়। সাধারণত রাজহাঁসের ঠোঁট কমলা বা লালচে রঙের হয়, মাঝে মাঝে কালো চিহ্ন থাকে। এদের পানিতে ভেসে থাকার ভঙ্গি অনেকটা রাজকীয়— শান্ত ও ধীর। উড়তে গেলে জোরে পাখা ঝাপটায় এবং পানির ওপর দৌড় শুরু করে। সাধারণ হাঁসের মতো ‘ক্যাঁক ক্যাঁক’ নয়, বরং এক ধরনের বাঁশির মতো সুরেলা শব্দ করে। এরা জোড়া বেঁধে থাকে, সাধারণত জীবনসঙ্গী একবার নির্বাচন করলে আজীবন একসঙ্গেই থাকে। হ্রদ, নদী বা শান্ত জলাশয়ে এই হাঁস বেশি দেখা যায়।

পাতিহাঁস 

সাধারণত গৃহপালিত হাঁস বা Domestic Duck খুব সহজেই চেনা যায়। এরা মূলত হাঁস পরিবারের ছোট আকারের সদস্য এবং গ্রামে-গঞ্জে প্রায়ই দেখা যায়।

পাতিহাঁস চেনার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য- 

পাতিহাঁস দেখতে রাজহাঁসের মতো বিশাল নয়, এরা সাধারণত মাঝারি বা ছোট আকৃতির হয়। এদের শরীর একটু মোটা ও গোলাকার হয়ে থাকে। গলা রাজহাঁসের মতো লম্বা নয়, ছোট ও মোটা। বিভিন্ন রঙে পাওয়া যায়Ñ সাদা, বাদামি, কালচে, ধূসর, অথবা মিশ্র রঙ। গৃহপালিত পাতিহাঁস সাদা রঙের বেশি দেখা যায়। এদের ঠোঁট ছোট, চওড়া ও সমতল। সাধারণত হলুদ, কমলা বা কালচে রঙের হয়ে থাকে। একটু ভারী ভঙ্গিতে হাঁটে, দুলে দুলে চলা এদের বৈশিষ্ট্য। পানিতে সাঁতার কাটতে ভালোবাসে এবং সহজে ডুব দিয়ে খাবার খুঁজে আনে। সাধারণত জোরে ‘ক্যাঁক ক্যাঁক’ শব্দ করে। পাতিহাঁস মানুষ পোষে মাংস, ডিম ও ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করার জন্য। এরা সহজেই খাপ খাইয়ে নেয় এবং দলবদ্ধভাবে চলে।

বাউ ডাকহাঁস 

কিছু অঞ্চলে বাউ ডাকহাঁসকে ডাকহাঁস বা খাঁটি হাঁসও বলা হয়। বাংলাদেশে খুব পরিচিত এক ধরনের হাঁস এটি। মূলত গৃহপালিত হলেও এরা অর্ধবন্য প্রকৃতির, মাঠ-ঘাট, খাল-বিলে ঘুরে ঘুরে খায়। 

বাউ ডাকহাঁস চেনার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য- 

পাতিহাঁসের চেয়ে একটু লম্বাটে ও হালকা-পাতলা গড়নের হয় এই হাঁস। শরীর শক্তপোক্ত, কিন্তু রাজহাঁসের মতো বড় নয়। গলা সাধারণত পাতিহাঁসের তুলনায় কিছুটা লম্বা। শরীরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাউ ডাকহাঁস সাধারণত বাদামি, ধূসর, কালচে বা মিশ্র রঙের হয়। অনেক সময় গলায় বা পিঠে ডোরা-ডোরা দাগ থাকে। একেবারে সাদা রঙের বাউ ডাকহাঁস সচরাচর কম পাওয়া যায়। এদের ঠোঁট লম্বাটে ও সরু ধরনের। সাধারণত কালো বা গাঢ় রঙের হয়ে থাকে। হাঁসগুলো খুব চঞ্চল প্রকৃতির, খোলা মাঠে দৌড়ায় ও খেলে বেড়ায়। পানিতে দক্ষভাবে সাঁতার কাটে, খাবার খুঁজতে ডুব দেয়। শস্যক্ষেত, বিল-ঝিলে পোকা, শামুক, ঘাস, ধানের দানা খুঁজে খায়। নামের মতোই, এদের ডাক জোরালো ও টানটান, অনেকটা ‘বাউ-বাউ’ বা ‘ব্যাউ-ব্যাউ’ জাতীয় শব্দ। দলবেঁধে ডাকতে থাকলে সহজেই চেনা যায়।

চীনা হাঁস 

বাংলাদেশে এখন অনেকেই চীনা হাঁস (Chinese Duck, অনেক সময় একে Pekin Duck বা Peking Duck বলা হয়) পালন করেন। এরা আসলে চীনের এক বিশেষ প্রজাতির হাঁস, যাদের মূলত মাংস উৎপাদনের জন্য পালন করা হয়।

চীনা হাঁস চেনার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য- 

পাতিহাঁসের তুলনায় চীনা হাঁস বড় ও মোটা। শরীর চওড়া ও ভারী, মাংসালো গড়ন। সাধারণত এই হাঁসের পালক সাদা থাকে। অন্য কোনো রঙ বা দাগ থাকে না। এই হাঁসের গলা পাতিহাঁসের তুলনায় কিছুটা লম্বা কিন্তু রাজহাঁসের মতো অত লম্বা নয়। ঠোঁট চওড়া ও মোটা, সাধারণত কমলা বা হলুদাভ রঙের। কমলা বা হলুদ রঙের মোটা পা থাকে। হাঁটার সময় ভারী ভঙ্গি দেখা যায়। পাতিহাঁসের মতো দৌড়াদৌড়ি বা চঞ্চল নয়। বরং একটু ভারী ও ধীরস্থিরভাবে হাঁটে। পানিতে সাঁতার কাটলেও বেশি চটপটে নয়। সাধারণ হাঁসের ‘ক্যাঁক ক্যাঁক’ ধরনের ডাকই করে, তবে শব্দ অনেক সময় ভারী শোনায়। এদের মূলত খামারে বা বাড়িতে পালন করা হয়। দ্রুত মোটা হয়, তাই মাংস উৎপাদনে জনপ্রিয়। প্রাকৃতিকভাবে খাবার খোঁজার চেয়ে মানুষ যে খাবার দেয় তাই বেশি খায়।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা