সকালে কাজে বের হওয়ার সময় রোদ ছিল, কিছুক্ষণ পরই অঝোর ধারায় বৃষ্টি। প্রস্তুতি না থাকায় অগত্যা ভিজতেই হলো। ভালো করে চুলও শুকাল না, যার কারণে ভ্যাপসা গরম আর বাতাসের অতিরিক্ত আর্দ্রতায় মাথার ত্বক বারবার ঘেমে যাচ্ছিল। এ থেকে মাথার ত্বকে দুর্গন্ধ হতে পারে। ব্যাপারটিকে খুব একটা বড় মনে না হলেও এর কারণে যেকোনো সময় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন। অথচ অনেকেই জানেন না কেন এমন হচ্ছে বা এর সমাধানটাইবা কী।
কেন এ সমস্যা হয়
বর্ষাকালে বাতাসের আর্দ্রতা বেড়ে যায় বলে মাথার ত্বকে ঘাম, তেল বা ময়লা জমে থাকে। দুর্গন্ধ বাড়ার আরেকটি কারণ হচ্ছে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের বৃদ্ধি। এই সমস্যাগুলো হয় মূলত কয়েকটি কারণে-
- বর্ষাকালে ঘাম বেশি হয় বলে মাথার ত্বকে ঘাম ও তেল মিশে আঠালো ভাব তৈরি করে। এতে ব্যাকটেরিয়া সহজেই তৈরি হয়।
- অনেকেই নিয়মিত শ্যাম্পু করেন না বা ভালো করে চুল ধুয়ে নেন না। এতে মৃত কোষ জমে মাথার ত্বকে দুর্গন্ধ তৈরি হয়।
- মাথার ত্বক যদি বেশি আর্দ্র থাকে, তখন ছত্রাকের সংক্রমণ বেশি হয়।
- তৈলাক্ত ত্বকই শুধু নয়, মাথার ত্বকের তৈলাক্ততা নিয়ে যারা ভুগছেন তারাও এই সমস্যায় ভুগবেন।
- বাইরে যাওয়ার আগে বা চাকরিসূত্রে অনেককেই চুলে নানা ধরনের পণ্য ব্যবহার করতে হয়। সঠিকভাবে পরিষ্কার না করলে এসব পণ্যের রাসায়নিক মাথার ত্বকে জমে দুর্গন্ধ হতে পারে।
- দুশ্চিন্তা করলে হরমোন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। এ কারণে মাথার ত্বকে বাড়তি তেল উৎপাদন বা চুলকানির সমস্যা হতে পারে। এ থেকেও দুর্গন্ধ হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।
- এই সমস্যা কখনও কখনও খাবারের সঙ্গেও যুক্ত। যেসব খাবারের গন্ধ বেশ কড়া, সেগুলোও দায়ী থাকতে পারে। যেমনÑ পেঁয়াজ, রসুন।
- যাদের খুশকির সমস্যা আছে, তাদের স্ক্যাল্পে মৃত কোষ জমে। এই খুশকি একসময় ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, হতে পারে দুর্গন্ধও।
- গরম পানি দিয়ে চুল ধোয়ার অভ্যাস আছে অনেকের। এতে চুল ও মাথার ত্বকের তেলের যে ভারসাম্য তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তেল যদি একদম কমে যায়, তাহলে ত্বক আরও সিগন্যাল দেয় তেল তৈরির জন্য। এতে স্ক্যাল্প আরও বেশি তৈলাক্ত হতে থাকে। এতে দুর্গন্ধ বাড়তে থাকে।
যেভাবে সমাধান মিলবে
- সপ্তাহে ২-৩ বার চুলে নিয়মিত শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। শ্যাম্পু বাছাই করার সময় দেখে নিন এটি সালফেটমুক্ত কি না। এতে মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেলের ভারসাম্য বজায় থাকবে। যারা ছত্রাকের সমস্যায় ভুগছেন তারা অ্যান্টি-ফাঙ্গাল শ্যাম্পু বেছে নিন।
- শ্যাম্পু লাগিয়ে ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন। এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং জমে থাকা ময়লা দূর হয়। শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার লাগানোর পর ভালোভাবে চুল ধুয়ে ফেলুন।
- চুলের যত্নে প্রাকৃতিক বিভিন্ন উপাদানÑ যেমন লেবু, নিমের পাতা, অ্যাপল সিডার ভিনেগার, টি ট্রি অয়েল ব্যবহার করতে পারেন।
- এক কাপ কুসুম গরম পানিতে ২ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন। গোসলের পর মাথার ত্বকে ও চুলে ভালোভাবে লাগিয়ে ৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। এবার ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
- আমন্ড বা জোজোবা অয়েলের সঙ্গে ২-৩ ফোঁটা টি ট্রি এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে মাথার ত্বকে ও চুলে লাগিয়ে নিন। ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে দুর্গন্ধের সমস্যা দূর হবে। নিম তেলও এভাবে ব্যবহার করতে পারেন।
- ২ কাপ পানিতে ২-৩ চা চামচ অ্যাপল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে এই মিশ্রণ দিয়ে চুল ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এতে ব্যাকটেরিয়া দূর হয় এবং চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ে।
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন। এতে শরীর ও মাথার ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে।
- মাথার ত্বকে তেল উৎপাদন যেন না বাড়ে সেজন্য ভাজাপোড়া খাবার কম খান।
- চুল ঘেমে গেলে দ্রুত শুকিয়ে নিন, নইলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বাড়তে পারে।
- সঠিক ডায়েট মেনে চলুন এবং খাদ্য তালিকায় অতিরিক্ত গন্ধ তৈরি করে এমন খাবার রাখবেন না।