কাজী নওশিণ লায়লা
প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৫ ১৫:১০ পিএম
চলছে মধু মাস, বাজার ভর্তি এখনও পাওয়া যাচ্ছে আম। যাদের বাগান আছে তাদের বাড়িতে এখনও আমের সমারোহ। বাজার থেকেও বেশ বেচাকেনা চলছে আমের। অথচ কিছুদিন পরে আর পাওয়া যাবে না এই সুস্বাদু এই ফলটি। অপেক্ষা করতে হবে পরের বছরের। তবে সারা বছর যদি আম খেতে চান তাহলে কিছু নিয়ম মেনে সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন।
আম সংরক্ষণের নিয়ম
১) কাঁচা আম সরাসরি আচার, মোরব্বা, ক্যান্ডি, আমস্বত্ব করে সংরক্ষণ করা যায়।
২) জেলি, জ্যাম বানিয়েও রাখতে পারেন।
৩) টুকরো করে কেটে লবণ পানিতে ডুবিয়ে সংরক্ষণ করলে বেশ অনেকদিন ভালো থাকে।
৪) আমচুর হিসেবে শুকিয়ে রাখতে পারবেন।
৫) পাকা আমের ক্ষেত্রে অবশ্য আলাদা প্রসেস। সংরক্ষণের জন্য বেশি পাকা আম নেবেন না। খানিকটা শক্ত ও খোসায় কোনও দাগ নেই এমন আম বাছাই করুন। অতিরিক্ত পাকা আম সংরক্ষণ করতে চাইলে পিউরি করে তারপর সংরক্ষণ করবেন।
৬) আম সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সবসময় ছোট বক্স বা ছোট জিপলক ব্যাগ ব্যবহার করবেন। এতে প্রয়োজনমতো বের করে নেওয়া যাবে। নাহলে অল্প খানিকটা আম প্রয়োজন হলে পুরো বক্সই ডিফ্রস্ট করতে হবে। এতে আমের স্বাদ আর পুষ্টি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
ছবি - কাজী নওশিণ লায়লা
ফ্রিজে সংরক্ষণ পদ্ধতি
১) আম টুকরো করে কেটে নিন। আঁটির চারপাশ থেকে আম কেটে নিয়ে আঁটি ফেলে দিন। এবার বক্সে আমের টুকরো নিয়ে মুখবন্ধ করে নিন শক্ত ঢাকনা দিয়ে। রেখে দিন ডিপ ফ্রিজে।
২) জিপলক ব্যাগে আম সংরক্ষণ করতে পারেন। এজন্য আম ছোট টুকরা করে কেটে জিপলক ব্যাগে নিয়ে নিন। মুখবন্ধ করে সামান্য একটু ফাঁকা রাখুন। ঐ ফাঁকা অংশ দিয়ে স্ট্র ঢুকিয়ে ভেতরে থাকা বাতাস বের করে মুখ পুরোপুরি সিল করে দিন। রেখে দিন ফ্রিজারে।
৩) আমের পিউরি করে সংরক্ষণ করতে পারেন। এজন্য ব্লেন্ডারে মসৃণ করে ব্লেন্ড করে বরফ জমানোর ট্রেতে করে রেখে দিন ডিপ ফ্রিজে। ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর বের করে ট্রে থেকে আমের বরফগুলো আলাদা করে নিন। সেগুলো জিপলক ব্যাগে নিয়ে বাতাস বের করে সিল করে দিন। রেখে দিন ডিপ ফ্রিজে।
৪) চাইলে আস্ত আমও সংরক্ষণ করতে পারেন। আম খবরের কাগজ দিয়ে মুড়ে জিপলক ব্যাগ বা মুখবন্ধ প্লাস্টিকের র্যাপে নিয়ে রেখে দিন ফ্রিজারে। খাওয়ার ২/৩ ঘন্টা আগে ফ্রিজ থেকে নামিয়ে নিলেই হবে।
৫) পাকা আম ব্লেন্ড করে কিছু সময় চুলায় জ্বাল করে নিন। এবার রোদে শুকিয়ে পিছ পিছ করে কেটে ম্যাঙ্গোবার বানিয়ে নিন। চুলায় জ্বাল না দিয়েও করতে পারেন।
এখন সারা বছর বারোমাসি আম পাওয়া যায়। এগুলোর অবশ্য দাম বেশি। যাদের আম পছন্দ তারা এভাবে সংরক্ষণ করে দীর্ঘদিন খেতে পারবেন।