সাইদ সাজু
প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৫ ১৩:১০ পিএম
রাজশাহীর তানোর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে মুন্ডুমালা পৌর এলাকার ময়েনপুর গ্রামের প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো বট আর পাকুড় গাছের যুগলবন্দি দৃষ্টিনন্দন রহস্যে ঘেরা বটবৃক্ষের গল্প শুনিয়ে বাচ্চাদের ঘুম পাড়ান মায়েরা। গাছটির প্রকৃত বয়স কত? তা নিশ্চিতভাবে জানা না গেলেও এলাকায় ওই গাছটি ‘রহস্য ঘেরা বটবৃক্ষ’ হিসেবে পরিচিত এবং সমাদৃত। বিভিন্ন এলাকা থেকে এই গাছ দেখতে এসে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরাও। গাছ নিয়ে আলাপচারিতার পাশাপাশি তুলছেন ছবিও।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রায় ৪০০ বছর ধরে দাঁড়িয়ে থাকা গাছটিকে শুধু বটগাছ বললে ভুল হবে, বট আর পাকুড় বৃক্ষের দৃষ্টিনন্দন যুগলবন্দি এক রহস্য ঘেরা এই বৃক্ষ। এর মূল গোড়া কোনটিÑ তাও কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন না। তবে, দেখতে ঘোড়ার মতো। ময়েনপুর গ্রামের প্রবেশ মুখে রাস্তার ধারে বিশাল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে গাছটির শাখা-প্রশাখা। শিকড়-বাকড়ে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। বটগাছটি আজও রয়েছে তাজা তরুণ আর চিরসবুজ। বার্ধক্যের ছাপ একটুও পড়েনি। সে কারণেই এ বটগাছকে ঘিরে রয়েছে নানা রহস্যের পাশাপাশি কল্পকাহিনী।
গাছটি ঘিরে এলাকায় নানা রহস্য ও কল্পকাহিনী চলে আসছে বংশপরম্পরায়। এসব বিবেচনায় দাবি উঠেছে গাছটিকে প্রাচীন ঐতিহ্যের সাক্ষী হিসেবে টিকিয়ে রাখার। এটি একটি মূল্যবান প্রত্নসম্পদ হিসেবেও রক্ষণাবেক্ষণের দাবি সচেতন মহলের। ইতিহাস-ঐতিহ্যের অনেক দুর্লভ তথ্য অনুসন্ধানে গবেষকদের জন্য গাছটি মূল্যবান উপাদানও হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় মুসলমান সম্প্রদায়রা গাছটির তলায় বছরে দুবার ঈদের নামাজ আদায় করেন।
ঈদের নামাজের পাশাপাশি হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায়ের নানা কাহিনী প্রচলিত রয়েছে গাছকে ঘিরে। সেসব কাহিনী ৪০০ বছর আগে থেকে উপমহাদেশের হিন্দু-মুসলমানদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক বিরল দৃষ্টান্ত। গাছটি এখনও কালের সাক্ষী হয়ে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে মাথা উঁচু করে। গাছটি কাছে টানে সব বয়সি মানুষের। গাছটির শীতল ছায়ায় মন জুড়িয়ে যায় ক্লান্ত পথিকের। মজার ব্যাপার হলো মায়েরা ছোট বাচ্চাদের এ গাছের গল্প বলতে বলতে ঘুম পাড়ান এখনও। ছোটবেলা থেকে এ ধরনের গল্প শুনতে শুনতে তাদের মধ্যে ভয়ভীতিসহ নানা রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ গাছ সম্পর্কে অনেকের অনেক রকম ধারণাও জন্মেছে। রয়েছে অনেক ঘটনাও।
ময়েনপুর গ্রামের বাসিন্দা আতাউর রহমান বলেন, গাছ-সংলগ্ন ওই জায়গা সরকারি খাস সম্পত্তির তালিকাভুক্ত। এই বটগাছটি কত শত বছর আগেরÑ তা কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারেন না। এমনকি অনেক বয়স্ক মানুষই এই বটগাছের ইতিহাস সম্পর্কে কিছুই বলতে পারেননি। শুধু এটাই বলতে পারেন যে তারা এই পৃথিবীর বুকে জম্মানোর পর থেকেই সেই একই রকম দেখে আসছেন এই গাছটি।
বটগাছের নিচে অবস্থিত মন ঘোষ নামের এক চা দোকানি বলেন, তিনি দীর্ঘদিন থেকে বটগাছের নিচে মুদিখানার ব্যবসা করে আসছেন। তিনিও জানেন না এই বটগাছের রহস্য। তবে প্রতি বছর ঈদের নামাজ আদায় করার জন্য স্থানীয় লোকজন কিছু এলাকা ঘিরে ওই বটগাছের নিচে ঈদগাহ নির্মাণ করেছেন। বর্তমানে অনেকেই এই বটগাছ দেখার জন্য সেখানে আসেন। তিনি বলেন, ‘পর্যবেক্ষণের অভাবে বটগাছটির সৌন্দর্য হারিয়ে যাচ্ছে।’
সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সেখানে গড়ে উঠতে পারে বড় ধরনের বিনোদন কেন্দ্র, আর যা থেকে আয় করতে পারবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ওই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আহাদ মণ্ডল বলেন, এ গাছ দেখতে প্রতিদিন অনেক মানুষ আসেন। তাই এ গাছটির জন্য তারা গর্বিত ও আনন্দিত।