× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

উপহারে মোমবাতি

রওনক জাহান পুষ্প

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৫ ১৩:২৯ পিএম

ছবি - মুনরুট ও চুড়ির গল্প

ছবি - মুনরুট ও চুড়ির গল্প

মোমবাতির সঙ্গে আমাদের স্মৃতি মূলত ছোটবেলায় লোডশেডিং হলে মোম জ্বালিয়ে পড়তে বসার অথবা একটা মোমবাতি জ্বালিয়ে তার চারপাশে সবাই মিলে বসে গল্প শোনার। কালক্রমে লোডশেডিংয়ে মোমবাতির জায়গা দখল করে নিয়েছে বিভিন্ন ধরনের লাইট, মোবাইলের ফ্ল্যাশ ইত্যাদি। কিন্তু মোমবাতি ফিরে এসেছে নতুন রূপে। মোমবাতি থেকে এখন শুধু মিটিমিটি আলো নয়, ছড়াচ্ছে সুগন্ধও। বিভিন্ন রঙ ও সুগন্ধে এখন পাওয়া যায় সুগন্ধি মোমবাতি। আর এই মোমবাতি বিভিন্ন উপলক্ষে উপহার হিসেবেও দারুণ।

সুগন্ধি মোমবাতির রয়েছে বেশকিছু উপকারিতা। শুধু ঘরের শোভা বাড়ানো ছাড়াও মোমবাতির সুগন্ধ বিভিন্নভাবে মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

- মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে বিভিন্ন ঘ্রাণের সুগন্ধি মোমবাতি। ল্যাভেন্ডার, ক্যামোমাইল, চন্দন কাঠ- এ ধরনের সুগন্ধিগুলো মনকে শান্ত করে, মাথার ওপর থেকে চাপ কমায় এবং দুশ্চিন্তা কমাতে সাহায্য করে বলে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।

- মন ভালো ও ফুরফুরে রাখার কাজটিও করতে পারে সুগন্ধি মোমবাতি। গন্ধরাজ, লেবু, কমলা অথবা আপনার পছন্দের যেকোনো গন্ধের একটি মোমবাতি যেমন ঘরে আলো আর উষ্ণতা ছড়াবে, তেমনি আপনার মনও ভালো রাখবে।

- ঘর সাজানোরও একটি চমৎকার অনুষঙ্গ হতে পারে এ ধরনের মোমবাতি। আগের মতো লম্বা সাদাই নয় শুধু, বিভিন্ন রকমের ফুল, ফল, বিভিন্ন থিমের মোমবাতি, এমনকি ঘরবাড়ি আর মুখরোচক খাবারের আদলেও পাওয়া যায় এগুলো। এই মোমবাতিগুলো দেখতে এতটাই আসলের কাছাকাছি যে, ভুলক্রমে খাবার ভেবে খেয়ে ফেলার চেষ্টাও করতে পারেন আপনি! অথবা ফুলদানি ভর্তি করে রাখতে পারেন মোমবাতি ফুল, যা সুগন্ধ ছড়ালেও ঝরে পড়বে না কখনও।

- কিছু সুগন্ধ ঘুমের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। ল্যাভেন্ডার, ক্যামোমাইল, এম্বার, ভ্যানিলা এ ধরনের সুঘ্রাণগুলো ঘুম আনতে সাহায্য করে বলে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। ছোট্ট একটা সুগন্ধি মোমবাতি অল্প কিছুক্ষণ জ্বালিয়ে রাখলেই ঘুমের সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে। তবে মোমবাতি জ্বালিয়ে রেখে ঘুমিয়ে পড়বেন না যেন!

- বর্ষা বা অতিরিক্ত ভ্যাপসা আবহাওয়ায় প্রায়ই ঘরে স্যাঁতসেঁতে ভেজা ভেজা ধরনের গন্ধ হয়, যা মোটেও ভালো নয়। সুগন্ধি মোমবাতি এক্ষেত্রে একই সঙ্গে উষ্ণতা ছড়ায় আর এই ভ্যাপসা গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে। জমে থাকা ভেজা দুর্গন্ধ সরাতে এয়ার ফ্রেশনারের চাইতেও ভালো কাজ করে এগুলো। আর বৃষ্টির দিনে সুন্দর পরিবেশে একটা মোমবাতি তো আলাদা রোমান্টিক আবহ তৈরি করবেই।

- উপহার হিসেবেও দারুণ সুগন্ধি মোমবাতি। বিভিন্ন বিশেষ দিবস ও উপলক্ষ অনুযায়ী অন্য অনেক রকম উপহারের সঙ্গে সঙ্গে নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছে সুগন্ধি মোমবাতি। জন্মদিন, ভালোবাসা ও বন্ধু দিবস, ঈদ ইত্যাদি বিশেষ দিন অনুযায়ী রয়েছে আলাদা আলাদা থিমের আর সুগন্ধের মোমবাতি। যেমনÑ ভালোবাসা দিবসে প্রাধান্য পায় লাল রঙ ও স্ট্রবেরি বা গোলাপের ঘ্রাণ, ঈদে আতরের সুগন্ধ, জন্মদিনে পছন্দের ফুল বা সুগন্ধের মোমবাতি ইত্যাদি বিভিন্নভাবে উপহারের খাতায় নাম লিখিয়ে নিয়েছে।

- যোগব্যায়াম ও অ্যারোমাথেরাপিতে সুগন্ধি মোমবাতির জায়গা আরও অনেক আগে থেকেই পাকা। বলা হয়, মোমের আলোতে মন শান্ত হয়, একটি শিখার দিকে একাগ্র মনে তাকিয়ে থাকতে থাকতে মনোযোগ আসে। এ ছাড়া ভিন্ন ভিন্ন সুগন্ধের মোমবাতি অ্যারোমাথেরাপিতে কাজে লাগে। কিছু কিছু সুগন্ধ এমনকি শরীরের ব্যথা কমাতেও সাহায্য করে বলে জানা যায়। এ ছাড়া আলাদা আলাদা সুগন্ধ মানুষের মনের আলাদা আলাদা অংশকে উদ্দীপিত করে বলে ধারণা করা হয়।

যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে 

- মোমবাতি এমন স্থানে জ্বালাতে হবে যার আশেপাশে দাহ্য পদার্থ থাকবে না। মোমবাতি জ্বালানোর জন্য আলাদা মোমদানি ব্যবহার করতে হবে।

- একটানা অনেকক্ষণ বা সম্পূর্ণ বদ্ধ ঘরে মোমবাতি জ্বালানো যাবে না। কয়েক ঘণ্টা পর মোমবাতি মনে করে নিভিয়ে দিতে হবে।

- কেনার সময় অবশ্যই উন্নত মানের মোমবাতি কিনতে হবে। প্রাকৃতিক সয়া মোম বা মৌমাছির মোম সবচেয়ে ভালো। চেষ্টা করতে হবে কেমিক্যাল মোম না কেনার।

- ডেকোরেটিভ মোমবাতিগুলো বাড়ির পোষাপ্রাণী ও শিশুদের কাছ থেকে দূরে রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, এগুলো নিয়ে যেন বাচ্চারা না খেলে।

সুগন্ধ সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে তবেই মোমবাতি কিনতে হবে। কোনো ফুল, ফল বা খাবারে এলার্জি থাকলে সচেতনতার জন্য সেই সুগন্ধের মোমবাতি না কেনাই ভালো।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা