পাবিপ্রবিতে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা
মাহি বিন জাকির
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৫ ১২:২০ পিএম
চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি এবং রানার্সআপ হয় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি।
তর্কের মার্জিত ও পরিশীলিত রূপই বিতর্ক। যুক্তিনির্ভর এই চর্চার মাধ্যমে যেমন তৈরি হয় চিন্তার বহুমাত্রিকতা, তেমনি গড়ে ওঠে আত্মবিশ্বাসী বক্তা ও নেতৃত্বের গুণসম্পন্ন তরুণ। বিতর্ক কেবল প্রতিযোগিতা নয়- এ এক ধরনের মানসিক কসরত, যার প্রভাবে সমাজের গতিপথও বদলে যেতে পারে।
বিতর্কের শক্তি আইন-আদালত, সংসদসহ রাষ্ট্রীয় পরিসরে আমরা দেখতে পাই। আর শিক্ষার্থীদের মাঝেও এই চর্চা দক্ষতা ও দল পরিচালনার সক্ষমতা তৈরি করে। সেই লক্ষ্যেই আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিতর্ক চর্চায় পৃষ্ঠপোষকতা করে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিতর্ক চর্চার বিস্তার ঘটানোর প্রয়াসে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত হলো দ্বিতীয় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৫। এর আগে ২০২১ সালে কবি বন্দে আলী মিয়ার শহর পাবনায় প্রথমবারের মতো আয়োজিত হয়েছিল এই প্রতিযোগিতা।
চার বছর পর আয়োজিত এবারের আসরটি ছিল আরও পরিপক্ব ও আয়োজনে সমৃদ্ধ। পাবিপ্রবির একমাত্র বিতর্ক সংগঠন পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির (PUSTDS) আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় সাড়া দিয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩২টি বিতর্ক দল অংশগ্রহণ করে। ৪ ও ৫ জুলাই দুদিনব্যাপী আয়োজিত প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয় পাবিপ্রবির নতুন একাডেমিক ভবন ১ ও ২-এ। পুরো আয়োজনে অংশ নেন ৯৬ জন বিতার্কিক এবং ৪৮ জন অভিজ্ঞ বিচারক। প্রথম দিন অর্থাৎ ৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় চারটি ট্যাব রাউন্ড ও কোয়ার্টার ফাইনাল। দ্বিতীয় ও শেষ দিনে ছিল সেমিফাইনাল ও চূড়ান্ত পর্ব। চূড়ান্ত পর্ব উপভোগ করতে পাবনা জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন।
ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এই পর্বের বিষয় ছিল- ‘এই সংসদ পরিবেশ, মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার আন্দোলনের মতো বিষয়গুলোতে সেলিব্রেটি ইনফ্লুয়েন্সারদের ভূমিকার ক্রমবর্ধমান প্রবণতাকে সমর্থন করে।’ বিষয়টি প্রস্তাব করে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, আর বিপক্ষ দলে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। অবশেষে চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি এবং রানার্সআপ হয় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি। ‘ডিবেটার অফ দ্য টুর্নামেন্ট’ নির্বাচিত হন আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিক তানজিদ সামির এবং ‘ডিবেটার অব দ্য ফাইনাল’ নির্বাচিত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিক ফারিয়া জান্নাত।
আয়োজনের মিডিয়া সহযোগী ছিল যমুনা টেলিভিশন, দৈনিক কালের কণ্ঠ, চ্যানেল ২১, রাইজিং ক্যাম্পাস, পাবিপ্রবি প্রেসক্লাব এবং পাস্ট ফটোগ্রাফিক সোসাইটি। এ বিষয়ে আয়োজক সংগঠন পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি রিদয় আলম উল্লাস বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পর্যায়ের একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজনের স্বপ্ন দেখছিলাম। নানা প্রতিকূলতায় সেটি সম্ভব হচ্ছিল না। তবে এবার ডিবেটিং সোসাইটির তরুণ ও অভিজ্ঞ সদস্যদের সম্মিলিত চেষ্টায় সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পেরেছে, আলহামদুলিল্লাহ।’
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবিপ্রবির সম্মানিত উপাচার্য প্রফেসর ড. এসএম আব্দুল আউয়াল। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন ‘জুলাই বিপ্লবের শহীদদের’। এরপর আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘পাবনার মতো একটি শহরে জাতীয় পরিসরে এত বড় আয়োজন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। সাধারণত এমন আয়োজন বড় শহরগুলোতে হয়, যেখানে স্পনসর ও সহায়তা পাওয়া সহজ। কিন্তু আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করেছে, সাহস, পরিকল্পনা ও নিষ্ঠা থাকলে আন্তর্জাতিক মানের আয়োজন ছোট শহরেও সম্ভব।’