× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান

রাজপথে নারীর পদচিহ্ন

নাজনীন আক্তার

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৫ ১৫:২৫ পিএম

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৫ ১৫:২৬ পিএম

রাজপথে নারীর পদচিহ্ন

দিনটা ছিল ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই। ঘড়ির কাঁটায় তখন আনুমানিক রাত ২টা বাজে। হলের প্রতিটি রুমই অন্ধকার। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে সবাই ঘুমিয়ে পড়েছেন, কিন্তু আসলে কারও চোখেই ঘুম নেই। সবার চোখে-মুখে আতঙ্ক আর বুকে ভয়। পিনপতন নীরবতায় হৃৎপিণ্ডের বিটগুলোও যেন স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল। প্রতিটি মেয়ের সঙ্গে দা, বঁটি, ছুরি আর সেফটি স্প্রে। যেন জীবন আর সম্ভ্রম নিয়ে শঙ্কা। এই বুঝি স্বৈরাচার শাসকগোষ্ঠীর লেলিয়ে দেওয়া মানুষরূপী অমানুষগুলো হলগুলোতে প্রবেশ করে চালাবে অমানবিক নির্যাতন, করবে দলবদ্ধ ধর্ষণ। 

তখন বারবার আফসোস হচ্ছিল, ইশ! যদি ছেলে হতাম। কীভাবে লড়ব এই পশুদের সঙ্গে, কীভাবে বাঁচাব নিজেকে। কে বা রক্ষা করবে আমাদের। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে কি বড় অন্যায় করে ফেলেছি! 

ভয়, দুশ্চিন্তা, আতঙ্কে নির্ঘুমে এভাবে কেটেছে কত রাত। পরের দিন সকালে হলের সব মেয়ে জড়ো হই মিছিলে যাওয়ার জন্য। বড় আপুরা বললেন, ‘দেশের জন্য লড়তে যাচ্ছি, ফিরব কি না জানি না। কিন্তু অন্যায়ের কাছে আমরা কখনোই মাথা নত করব না।’ ফোনে মায়ের কল এসেছে। ওপার থেকে কণ্ঠস্বর ভেসে এলো, ‘আন্দোলনে যাসনি তো, মা? রুমেই থাকিস, এসবে যাস না।’ মাকে বলতে ইচ্ছে করল, এখন চুপ করে ঘরে বসে থাকার সময় নয়, এখন যে উচ্চকণ্ঠে গর্জে ওঠার সময়, এখন যে বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সময়। কিন্তু মাকে সেটা বলতে পারিনি। 

পরক্ষণে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রওনা দিলাম। একেকজন যেন প্রীতিলতা, সুনীতি ও শান্তির প্রতিচ্ছবি। হল গেটে তালা, অদম্য সাহসীরা ভেঙে ফেলেন সে তালা, মিলিয়ে যায় মিছিলের জনস্রোতে। হাতের কাছে যে যেটা পেয়েছি সেটাকেই বানিয়েছি প্রতিবাদের তলোয়ার আর প্রতিরোধের ঢাল ছিল অদম্য সাহস। এক হাতে লাঠি, অন্য হাতে লাল সবুজের পতাকা আর মুখে ছিল স্লোগানÑ ‘তুমি কে, আমি কে? রাজাকার, রাজাকার! কে বলেছে, কে বলেছে? স্বৈরাচার, স্বৈরাচার!’

‘কোটা না মেধা? মেধা মেধা!!’

‘আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দিব না।’

সবার মুখে যেন একই শব্দ, একই সুর, একই সাহস। এমনই ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাস ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান মাস, লাল জুলাই। সে জুলাই মাসে শত শত তরুণ-তরুণী রাজপথে নেমেছিলেন নিজেদের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে। সে রাজপথে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বহু অদম্য তাজা প্রাণ, আহত হয়েছেন শতাধিক তরুণ-তরুণী। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’-এ শহীদের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। উক্ত তালিকায় গণঅভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৪ জন। আহতদের সংখ্যা ১৪০১ জন। এর মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ হয়েছেন একজন, আহত হয়েছেন ৪০ জন।

জুলাই মাস কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে শুধু একটি মাস নয়, একটি চেতনা। ১১ জুলাই প্রতিবাদের যে আগুন শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে জ্বালিয়েছিলেন, সেখানে নারীরা ছিলেন ঠিক সামনে। ‘জুলাই আন্দোলন’ কুবির শিক্ষা-আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় আর তাতে নারী শিক্ষার্থীদের সাহসী অংশগ্রহণ ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যুক্ত করে।

পাঠদান আর শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ না থেকে এই আন্দোলনে সেই চিরাচরিত ধারণার দেয়াল ভেঙে নারী শিক্ষার্থীরা উঠে এসেছিলেন সম্মুখ সারিতে। তারা শুধু মিছিলেই হাঁটেননি, আন্দোলনের কণ্ঠও হয়ে উঠেছিলেন। হাতের প্ল্যাকার্ড, কণ্ঠের স্লোগান, মাথায় লাল নিশান ছিল প্রতিবাদের ভাষা।

বিগত স্বৈরাচার সরকারের কিছু নীতিনির্ধারণী অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা যখন একজোট হয়, তখন অনেকেই ভাবেনি মেয়েরা এই আন্দোলনে সামনে থাকবেন। কিন্তু তারা শুধু অংশগ্রহণ করেই থেমে থাকেননি, অবস্থান কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন, প্রশাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়েছেন এবং সন্ধ্যার পর নিরাপত্তাহীনতার ভয় সত্ত্বেও ক্যাম্পাসে অনড় থেকেছেন। তাদের এই সাহসিকতা কেবল আন্দোলনকে নয়, পুরো ক্যাম্পাস সংস্কৃতিকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক জান্নাতুল ইভা, গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিগুলো ব্যক্ত করে জানান, ‘জুলাই ১৮ তারিখে যেদিন কোটবাড়ি বিশ্বরোডে পুলিশ, বিজিবি আমাদের ওপর হায়েনাদের মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড, ফাঁকা গুলি কোনো কিছুই বাদ দেয়নি। গুলিবিদ্ধ হইনি তবে কয়েক দফায় টিয়ার গ্যাসে জ্ঞান হারিয়েছিলাম। শেষে কারা যেন মেডিকেলে নিয়ে গেলেন। পুলিশের মুখের ভাষা এত খারাপ হতে পারে সেদিন বুঝতে পেরেছি। এক পুলিশ আমার সঙ্গে যে খারাপ ব্যবহার করেছে আজও কাউকে বলতে পারিনি।’

৩ আগস্ট, কুমিল্লায় জিলা স্কুলের কর্মসূচি ছিল সকাল ১০টায় আর আমাদের কর্মসূচি ছিল বেলা ১১টায়। তাই তারা ১১টায় আমাদের সঙ্গে জয়েন করবেÑ এমনটাই ছিল পরিকল্পনা। কিন্তু লীগের পরিকল্পনা ছিল আমাদের আলাদা করে দিয়ে অত্যাচার চালানো। তারা সেই কাজটাই করল। ওইদিন লাঠির আঘাতে আমার পায়ে তিনটা ফাটল ধরেছে। প্লাস্টার ছিল মাসখানেক। ট্রিটমেন্ট নিতে গিয়েও আতঙ্কে ছিলাম। কত বোনদের সেদিন রাস্তায় ফেলে মেরেছিল, সেদিন সেটা পুরো দুনিয়া দেখেছে। আন্দোলনে মা-বোনেরা ছিল গাছের ডালের মতো। পাশে থেকে গাছগুলোকে রক্ষা করেছে বারবার।

‘আমি মেয়ে বলে পিছিয়ে যাইনি। প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই করে গিয়েছি। মাঠে যেমন ছিলাম, তেমন অনলাইনেও অ্যাকটিভ ছিলাম। কর্মসূচি ঠিক করার পর বৃহৎ গোষ্ঠী পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বটাও কাঁধে নিয়েছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে হাজারো গ্রুপে পোস্ট করা, নিষিদ্ধ সংগঠনের বিরুদ্ধে পোস্ট করাÑ সবকিছুই করেছি। অনলাইন প্রচারণার জন্য আমার নামটা এমনভাবে পরিচিতি পেয়েছিল যে, কত যে থ্রেট কল মেসেজ এসেছে তার কোনো হিসাব নেই। কত কল এসেছে মেরে ফেলবে পেলে এমন!’

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী খাদিজা খাতুন বলেন, ‘সত্যি বলতে, শুরুতে আমি এই আন্দোলনের প্রতি তেমন মনোযোগ দিইনি। কারণ সরকারি চাকরির প্রতি আমার কোনো আকর্ষণ ছিল না। তবে ১১ জুলাই কুমিল্লার রাস্তায় যখন আমার ভাইদের ওপর প্রথম হামলার খবর পেলাম, তখন আমার ভেতরে কিছু ভেঙে পড়ল। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য যেন একটা অদম্য শক্তি আমাকে রাস্তায় টেনে নিয়ে গেল। ক্যাম্পাস থেকে দূরে থাকতাম বলে একা একা এতখানি রাস্তা পার হয়ে যাওয়া একজন মেয়ে হিসেবে একটু কষ্টসাধ্য ছিল।’

‘আন্দোলনে আমাদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার ছিল স্লোগান। আমাদের স্লোগান শব্দগুলো ছিল বুলেটের মতো, অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল। স্কুলের একজন স্যারের কাছে শুনেছিলাম, ‘Word is mighter than the sword. আমাদের স্লোগানের প্রতিটি শব্দ ছিল আমাদের অস্ত্র, যা ক্ষতবিক্ষত করছিল স্বৈরাচারকে।’

‘রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আমি দেখছিলাম, মেয়েরা ব্যানার উঁচু করে স্লোগান দিচ্ছে। একপাশে ভাঙা কাচ, অন্যপাশে রক্তাক্ত মাটি। আমাদের প্রতিবাদ যেন এক যুদ্ধের ময়দান। রাস্তায় দাঁড়িয়ে মেয়েদের অদম্য দৃঢ় চেহারা দেখে মনে হচ্ছিল, কিছুই আমাদের থামাতে পারবে না। মেয়েরা যে শুধু মিছিল করছিল, তা নয়। ছাত্রলীগের পেটুয়া বাহিনীর হামলার শিকার ছেলেমেয়ে কেউই রক্ষা পাননি। তারা ভেবেছিল আক্রমণে মেয়েদের থামিয়ে দেওয়া যাবে, কিন্তু তারা সর্বোপরি ভুল ছিল। তারা তো জানে না আমরা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেছিলাম, যেখানে নারী-পুরুষের কোনো ভেদাভেদ ছিল না। সবাই একত্রে অস্ত্র হাতে শহীদি জীবনের শপথ নিয়েছিলেন। আমরা তো তাদেরই উত্তরসূরি।

এ ছাড়া নৃবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ফাতেমা তুজ জোহরা মিম জানিয়েছেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনাগুলো এখনও মনে পড়লে শিউরে উঠি। মূলত ৪ জুলাই থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। ১১ জুলাই সেটা চরম রূপ ধারণ করে যখন ছাত্র আন্দোলন চত্বরে আমাদের ভাইদের ওপর প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে পুলিশ নির্বিচারে টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ছুড়ে। ঘটনাস্থলে অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছিলেন। আন্দোলনের শুরুতে আমি ছিলাম না। কিন্তু নিজেদের ভাইদের ওপর এমন নির্মম অত্যাচার মেনে নিতে পারিনি। পরবর্তীকালে আমিও আন্দোলনে যোগ দিই।’

১১ জুলাইয়ের পর থেকে বিভিন্ন ধরনের থ্রেটকল পেতে শুরু করি। আওয়ামী লীগের দোসর ছাত্রলীগকর্মীরা সোশ্যাল মিডিয়াগুলোয় আমাকে নিয়ে বুলিং করা শুরু করে। ১৮ জুলাই নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিলে বিষয়টা আরও মাত্রায় বেড়ে যায়। তখন চারদিকে আন্দোলনের সমন্বয়কদের আটক করা হচ্ছিল, নিজে গুম হয়ে যাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু ছিল না। আন্দোলনের একটা ঘটনা আমি আজও ভুলতে পারি না। আন্দোলনগুলোতে আমাদের সঙ্গে কুমিল্লার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরাও যোগ দেয়। সেখানে একটা মেয়ের সঙ্গে আমার পরিচয় এবং ঘটনাক্রমে তার বাবার সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়েছিল। পরবর্তীকালে আন্দোলন শেষে আমি হলে ফিরে আসি। মেয়েটার বাবা আমাকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করেন, তার মেয়ে বাড়িতে রওনা দিয়েছে কি না। তখন মনে হচ্ছিল আমার পুরো দুনিয়া এখানেই থমকে গেছে, আন্দোলনে ছেলেমেয়েদের এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করার কারণে তার থেকে আমি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাই। একজন বাবার দেওয়া দায়িত্ব আমি রক্ষা করতে পারিনি। নিজের প্রতি রাগ হচ্ছিল, মনে মনে দোয়া করছিলাম আল্লাহ যেন তাকে নিরাপদে রাখেন। যদিও পরের দিন জানতে পারি যে, তিনি আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক ক্লাবে জড়িত থাকার সুবাদে আমার তখন মনে হয়েছিল দেশের এমন সংকটকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাহসী কণ্ঠে তাদের অনুপ্রেরণা দেওয়া দরকার।

গণিত বিভাগের উম্মে হাবিবা শান্তা জানান, আন্দোলনে যাওয়ার আগে মনে হচ্ছিল আর চুপ করে থাকা যায় না। এত দিন সহ্য করেছি, এবার রুখে দাঁড়াতেই হবে। সাহস পেয়েছিলাম সহপাঠীদের থেকে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া অন্যায়ের দৃশ্যগুলো যেন চোখে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। আজও মনে পড়ে বৃষ্টিতে ভিজে শত শত ছাত্রছাত্রী একসঙ্গে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিচ্ছিল। কারও হাতে প্ল্যাকার্ড, কারও গলায় প্রতিবাদের গান। টিয়ার গ্যাস, গুলি কিছুই থামাতে পারেনি আমাদের। সেই দৃশ্য আজও ভাসে চোখে। যদি আবারও এমন সময় আসে, আমি ভয় না পেয়ে রাজপথেই নামব। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা ভুল না, বরং সেটাই প্রয়োজন।

নারী শিক্ষার্থীদের এই অংশগ্রহণ সহজ ছিল না। পরিবার, সমাজ এমনকি অনেক সময় সহপাঠীদের মধ্যেও বিরূপ দৃষ্টিভঙ্গি ছিল ‘মেয়ে হয়ে আন্দোলনে কেন?’ ‘এ আন্দোলন করে কী হবে?’ কিন্তু তবু তারা ভয় না পেয়ে বলেছিলেন, ‘অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হলে আগে নিজেকে ভাঙতে হয়।’ কিছু শিক্ষার্থী নিজেদের ব্যক্তিগত ভয়, অভিজ্ঞতা ও প্রতিবাদকে একাকার করে মিছিলে দাঁড়িয়ে বলেছিলেনÑ ‘আমি শুধু শিক্ষার্থী নই, আমি একজন প্রতিবাদী নারী।’

জুলাই আন্দোলনের দিনগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং পুলিশের ভূমিকা ছিল অসহযোগিতামূলক। পুলিশ আমাদের ওপর হামলা চালালেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ছিল নীরব দর্শকের ভূমিকায়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই কুবি শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আন্দোলনের ডাক দেন। ক্যাম্পাস থেকে ছাত্র আন্দোলন চত্বরে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের উপস্থিতিতে পুলিশ নির্বিচারে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালায়। এমনকি তাদের ওপর উন্মুক্ত রাবার বুলেট, টিয়ার শেলসহ কাঁদানে গ্যাস ছুড়তে শুরু করে এবং ঘটনাস্থলে ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। পরবর্তীকালে কুবির নারী শিক্ষার্থীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে আন্দোলনকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবধি পৌঁছে নিতে সক্ষম হয়।

শিক্ষার্থী : গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা