আরফাতুন নাবিলা
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৫ ১২:৩৬ পিএম
আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৫ ১৪:১১ পিএম
দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও এখন দর্শকদের মুখে মুখে ‘উৎসব’-এর নাম। এখনও যে সিনেমাহলে পরিবার নিয়ে সবাই সিনেমা দেখতে যেতে চান, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি করে দিয়েছে উৎসব। এই চলচ্চিত্রে নব্বইয়ের দশক ও বর্তমান সময়ের ছিল দারুণ এক মেলবন্ধন যা পরিপূর্ণভাবে দেখা গিয়েছে ফ্যাশনেও। উৎসব চলচ্চিত্রে ফ্যাশনের একাল- সেকালের গল্প নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা
তানিম নূর পরিচালিত বাংলা চলচ্চিত্র ‘উৎসব’ এখনও সগৌরবে দর্শকদের সিনেমাহলে নিয়ে আসছে। চলচ্চিত্রের গল্প ও অভিনয়ের পাশাপাশি রয়েছে পোশাকের অবদানও। কলাকুশলীদের পোশাক বাছাইয়ের এই কঠিন কাজটির দায়িত্ব পালন করেছেন কস্টিউম ডিজাইনার তানিয়া রহমান।
পোশাক নিয়ে ভাবনার শুরু
উৎসবের গল্প পুরোটাই পরিবারকেন্দ্রিক। এখানে তাই পোশাক নিয়ে চিন্তা করাটা কিছুটা চ্যালেঞ্জের তো ছিলই। যেহেতু এখানে এক রাতের গল্প আবার তার মধ্যে অনেকগুলো জায়গার পরিবর্তন, সেহেতু দর্শককে প্রতিটি দৃশ্যের সঙ্গে সংযুক্ত রাখার জন্য পোশাকের সামঞ্জস্য থাকাটা জরুরি ছিল। এই সামঞ্জস্য ধরে রাখার দায়িত্ব ছিল কস্টিউম ডিজাইনার তানিয়া রহমানের হাতে। চরিত্র অনুযায়ী মানানসই পোশাক নির্বাচন সম্পর্কে তানিয়া জানালেন, গল্প শোনার পর শুরুতেই প্রতিটি চরিত্রের বায়োগ্রাফি নিয়ে ভেবেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রথমেই স্ক্রিপ্ট পাওয়ার পর নিজেরাই একটা কস্টিউম প্ল্যান করলাম। এটার চ্যালেঞ্জিং ইস্যুটা ছিল তিনটা ভূত কোন পোশাকে সামনে আসবে। স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী আমরা তাদের কেমনভাবে দেখাতে চাই। তারা খুব সাধারণভাবে আসবে নাকি ভৌতিকভাবে আসবে- এগুলো নিয়ে শুরুতে স্ক্রিপ্ট রাইটার ও পরিচালকের একসঙ্গে বসে অনেক আলোচনা করতে হয়েছে। ওনারা আমাদের যেভাবে ব্রিফ করেছেন, আমরা শুরুতে সেভাবেই কস্টিউম ডিজাইন করেছি। পরে এটাতে খুব বেশি বদল করতে হয়নি। শুধু আর্ট ডিরেক্টরের সঙ্গে বসে লোকেশন অনুযায়ী রঙগুলো নির্ধারণ করতে হয়েছে।’
সাদিয়া আয়মান ও তানিয়া রহমান
এক রাতের গল্প
সিনেমার মূল ঘটনা মূলত এক রাতের। এই এক রাতেই তিনজন ভূত আসে , জাহাঙ্গীর চরিত্রকে অনেকগুলো জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়, অতীত ও ভবিষ্যৎ দেখানো হয়, সব মিলিয়ে অনেকগুলো চরিত্রের চলাচল। এক্ষেত্রে তানিয়াদের দলের চ্যালেঞ্জ ছিল জাহিদ হাসানকে মানানসই একটি পোশাকে রাখা। কারণ তাকে ঘরের পোশাকে থাকতে হবে, আবার বাইরে, কমিউনিটি সেন্টারে যেতে হবে। পোশাকের জন্য তাকে যেন বেমানান না লাগে এগুলোর দিকে খেয়াল রাখাটা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। রাতের বেলা প্রতিটি জায়গার ব্যাকগ্রাউন্ড, দেয়ালের রঙ, চরিত্রগুলো কীভাবে ফুটে উঠবে, এগুলো নিয়ে তারা অনেক ভেবেছেন। এ কাজে তাদের ডিরেক্টর অব ফটোগ্রাফি রাশেদ জামান বেশ সাহায্য করেছেন। জয়া আহসানের তিনবার বদল হলেও চঞ্চল চৌধুরী ও অপি করিমের পোশাক একটাই ছিল। যেহেতু জাহিদ হাসানের পোশাকটি এখানে খুব সাধারণ, তাদের চেষ্টা ছিল অন্যদের পোশাকগুলো যেন একটু রঙিন, চকচকে হয়। যেন তাদের সহজেই আলাদা করা যায়। বিগ স্ক্রিনে কেমন লাগবে এই পর্যবেক্ষণে তারা বেশ কয়েকবার বিভিন্ন পোশাকে লুক টেস্ট করেছেন।
জাহিদ হাসান ও জয়া আহসান
জাহিদ হাসান ও একটি লাল পাঞ্জাবি
চলচ্চিত্রের শেষাংশে দেখা যায় জাহিদ হাসান লাল পাঞ্জাবি পরে প্রাক্তন স্ত্রীর বাসায় গেছেন দেখা করতে। স্বাভাবিকভাবেই জিজ্ঞেসা ছিল, মাঝবয়স পার করার পর একজন ব্যক্তিকে লাল পাঞ্জাবিতে ভালো লাগবেÑ এটা উৎসব টিম কীভাবে ভাবল? তানিয়া রহমান জানালেন, এখানেই আসলে জাহিদ হাসান তার কারিশমা দেখিয়েছেন। সিনেমার শুরু থেকেই আমরা দেখেছি কীভাবে জাহিদ হাসান ওরফে জাহাঙ্গীর কৃপণ ছিলেন। পুরনো শার্ট, ছেঁড়া বেল্ট, মলিন জুতোÑ এগুলোই ছিল তার জীবনযাত্রার সঙ্গী। তিনি কখনও উৎফুল্ল হতেন না। ভালো জীবনযাপনেও তার আগ্রহ ছিল না। কিন্তু ভূতদের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর জীবনের যে পরিবর্তন তার মাঝে আসে, সেখানে লাল রঙটাই আদর্শ ছিল পরিবর্তন বোঝানোর জন্য। তানিয়া বলেন, ‘জাহিদ ভাইকে লাল রঙের পাঞ্জাবিতে যে ভালো লাগবে, সেটা নিয়ে আমরা শুরু থেকেই নিশ্চিত ছিলাম। কারণ উনি সব সময় এত সুন্দরভাবে প্রতিটি পোশাক ক্যারি করেন যে, এটা নিয়ে আমাদের খুব বেশি ভাবতে হয়নি। এই পাঞ্জাবির রঙ লাল হওয়ার অবশ্য আরেকটি কারণ আছে। তার প্রাক্তন স্ত্রী জেসমিন যখন তাকে একটি লাল পাঞ্জাবি দিয়ে বলে, এটা পরে তুমি আমার সঙ্গে পরীক্ষার হলে যাবে, সেসময় এটি আর তার পরা হয়নি। পরে তিনি এই পাঞ্জাবিটি পরেন আবারও জেসমিনের সঙ্গে দেখা করার দিনই। কিন্তু তত দিনে তাদের দুজনের পথ দুদিকে চলে গেছে। জাহিদ ভাইয়ের এই পাঞ্জাবি রাজশাহী সিল্কে তৈরি। আমরা চেষ্টা করেছি নিজেদের ঐতিহ্যকেও চলচ্চিত্রে তুলে ধরতে।’
মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন জয়া আহসান
উৎসবে যে তিনজন ভূত ছিল তার মধ্যে জয়া আহসান আবির্ভূত হন টিনএজ হিসেবে। এখানে তার পোশাক তিনবার পরিবর্তন করা হয়। টিনএজ লুকের সঙ্গে মিল রাখার জন্য জয়া আহসান এখানে পরেছিলেন ঢোলা জিন্সের প্যান্ট, টি-শার্ট, কালারফুল বিডস দিয়ে তৈরি হেয়ার ব্যান্ড, কালারফুল অ্যাকসেসরিজ। বাস্তব জীবনেও জয়া আহসান বেশ ফ্যাশন সচেতন। চলচ্চিত্রেও তাকে সেভাবেই তুলে ধরা হয়েছে। যেহেতু জয়ার চরিত্রটা বেশ মজার ছিল, সেই কারণে তাকে ট্রেন্ড বুঝে কালারফুল পোশাক পরানো হয়েছে। শুরুতে টিনএজ, এরপর মধুমিতা সিনেমা হলে নায়িকাদের মতো করে পরা শাড়ি, ছাদে বাকিদের সঙ্গে কথা বলার সময় আরেকটা পোশাকÑ সব মিলিয়ে জয়া দেখিয়েছেন তার ফ্যাশনেবল রূপ। অভিনয়ের মাঝে অপি করিমও একবার বলেছেন, ‘এই ভূতটা শুধু কস্টিউম চেঞ্জ করে। আছে শুধু ঢং নিয়ে।’ তানিয়া বলেন, ‘জয়া আপার চরিত্রটা যেহেতু একটু মজার তাই আমরা চেয়েছিলাম তার পোশাকগুলো একঘেয়ে লাগবে না। সেগুলো যেন কালারফুল হয়, ফিউশন থাকে। সাধারণত জয়া আহসান যেগুলো ক্যারি করেন, সেখান থেকেই আসলে ইনস্পায়ার্ড হয়ে তার পোশাকগুলো নির্বাচন করা।’

নব্বই দশকের সাজে সৌম্য জ্যোতি ও সাদিয়া আয়মান
রঙিন অপি ও গতানুগতিক চঞ্চল চৌধুরী
অপি করিমকে আমরা চিরাচরিত শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজ পরিহিত দেখেই অভ্যস্ত। এই পরিচিত লুকের বাইরে কীভাবে ওনাকে ভিন্নভাবে প্রেজেন্ট করা হয়, সেটা নিয়েই কাজ করেছেন তানিয়া ও তার দল। পরিচালক তানিম নূর শুরু থেকেই বলেছিলেন অপি করিমকে শাড়িতে তিনি দর্শকদের সামনে আনতে চান না। এটা তাদের জন্য বেশ বড় একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। কয়েকটা পোশাক দিয়ে লুক টেস্ট দেওয়ার পর এই পোশাকটাই নির্বাচিত হয়। প্যান্টের সঙ্গে টি-শার্ট, তার ওপর কালারফুল ওয়েস্ট কোর্ট, সঙ্গে গাঢ় সাজÑ এ রকমই ছিল অপি করিমের লুক। তার জন্য টিপিক্যাল কোনো কস্টিউম তারা বাছাই করেননি। বরং ভিন্ন ধরনের লুকেই যেন অপি করিমের ব্যক্তিত্ব ফুটে ওঠে সেই চেষ্টাই করেছেন।
ভূত চরিত্রে অভিনয় করছেন বলেই যে ভূতের পোশাকে সামনে আসতে হবেÑ এটা চাননি পরিচালক তানিম নূর। সবাই মিলে তাই সাধারণ পোশাক বেছে নিয়েছিলেন যেন পোশাকে নয়, বরং তারা তাদের কাজের মাধ্যমে ভূত ব্যাপারটা ফুটিয়ে তোলেন। চঞ্চল চৌধুরীর শার্টের কলারটা একটু ভিন্ন রকম ছিল, বদল আনা হয়েছিল চুলের স্টাইলেও।
নব্বই দশকের সাজে সৌম্য ও সাদিয়া
উৎসবে নব্বই দশক ও বর্তমানÑ দুটো দুই গল্প ছিল। আর সেসময় কী ধরনের পোশাক পরা হতো, কী ধরনের লুক ক্রিয়েট করা হতো, এগুলো নিয়ে সবাইকেই বেশ গবেষণা করতে হয়েছে। এ সময়ের গল্পে উল্লেখযোগ্য দুটো চরিত্র ছিল সৌম্য ও সাদিয়ার। তাদের দুজনের প্রেম, খুনসুটি, বিয়ে, বিচ্ছেদ- পুরো জার্নিটাই বেশ লম্বা। প্রতিটি জায়গায় তাই সৌম্য ও সাদিয়ার পোশাকে বেশ গুরুত্ব দিতে হয়েছে। বিশেষ করে সাদিয়ার। কারণ প্রেমের সময়ে তার লুক যেমন থাকে, বিচ্ছেদের সময় কিন্তু অনেকটাই বদলে যায়। সেই হিসেবে পোশাকও বেছে নিতে হয়েছে।
সাদিয়া আয়মান
সাদিয়ার পোশাক আমাদের নব্বই দশকের সেই পুরনো দিনের ফ্যাশনের কথা মনে করে দেয়। যেখানে মেয়েদের ফ্যাশনে ছিল লেইস ড্রেস, এক রঙা জামায় আলাদাভাবে লেস লাগিয়ে করা নকশা, গলার নকশায় বোতাম, জর্জেট ওড়না কখনও গলায় কখনোবা কাঁধের একপাশে নেওয়া, চুড়িদার পায়জামা। সাজ বলতে চুলের একপাশে হাফ পিন দিয়ে আটকানো, চোখে হালকা আইলাইনার আর ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক। সেই সময়ের কোনো সাজ পোশাককে বাড়তি চাকচিক্যে এই চলচ্চিত্রে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়নি। বরং সময়ের মেলবন্ধনটাই ফ্যাশনকে এগিয়ে নিয়ে গেছে আরও এক ধাপ।
পোশাক ও সাজটা এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ মানুষ যেন সেই সময়টার সঙ্গে নিজেকে সংযুক্ত করতে পারে। এখানে মেকআপ আর্টিস্ট শফিকের অবদান অনেক বেশি ছিল বলে জানালেন তানিয়া। সাদিয়ার মেকআপ ও চুলের সাজের পুরোটাই সে খুব যত্ন নিয়ে করেছে। সৌম্য ও সাদিয়ার প্রেম ও বিয়ের সময়টাতে পোশাক বেশ রঙিন থাকে, যেন তাদের তারুণ্য ভালোভাবে ফুটে ওঠে। বিয়ের পর সংসারের টানাপড়েনে ধীরে ধীরে সেই রঙগুলো ফিকে হয়ে আসতে থাকে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে দুটো চরিত্রের উথান-পতন দেখানো বেশ বড় একটা চ্যালেঞ্জ ছিল।
সৌম্য ও সাদিয়ার পোশাক নির্বাচনে তারা নিজেরা কীভাবে চেষ্টা করেছেনÑ এ বিষয়ে তানিয়া বলেন, ‘এই দুজন মানুষ তাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছেন। শুরু থেকেই বারবার পোশাক নিয়ে ট্রায়াল দেওয়া, লুক টেস্ট দেওয়া, রাজশাহীতে খুব অল্প সময়ের শুটিংয়ে বারবার পোশাক বদলানো প্রতিটি কাজে ওরা দুজন খুব স্বতঃস্ফূর্ত ছিল।’
উৎসবে কাজের অভিজ্ঞতা
উৎসব নিয়ে কাজ শুরু করার সময় থেকেই সবারই গল্পের ওপর ভরসা ছিল। যখন গল্পের কাজ শুরু হয় তখনই তারা বুঝতে পেরেছিলেন এই গল্প দর্শককে হল পর্যন্ত আনবেই। তানিয়া জানালেন, কাজ করতে গিয়ে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি তো অবশ্যই হতে হয়েছে। কারণ বিগ স্ক্রিন আর সিরিজের কাজ পুরোপুরি আলাদা। বিগ স্ক্রিনে অনেক কিছুই চোখে পড়ে। সেদিকে আমাদের সবাইকেই খেয়াল রাখতে হয়েছে। ভুল হলে বা কাজ ভালো না হলে সমালোচনাটাও অনেক বেশি হয়। তাই সবাই সতর্ক ছিলাম।
উৎসবে তানিয়া রহমান শুধু কস্টিউম ডিজাইনারই ছিলেন না, তিনি কাস্টিং ডিরেক্টরও ছিলেন। তাই তার দায়িত্বও অনেক বেশি ছিল। কস্টিউম টিমে মিলি ও অ্যাসিস্ট্যান্ট কামরুল, কাস্টিংয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট কাস্টিং ডিরেক্টর শাহাদাতের মতো টিম মেম্বার ছিল বলে তানিয়ার কাজগুলো সহজ হয়েছে বলে জানালেন তিনি। পরিচালক তানিম নূরের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল- জানতে চাইলে তানিয়া বলেন, ‘তানিম ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করার সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে তিনি অনেক ঠান্ডা মাথার মানুষ। তিনি কাজ নিয়ে বাড়তি চাপ দেন না, তবে তিনি যেভাবে যা চান সেভাবেই সেটা করতে হয়। কোনো ধরনের বোঝা মাথায় নিয়ে তার সঙ্গে কাজ করতে হয় না আসলে। এটা সব সময়ই আনন্দের আমার জন্য।’
পুরো চলচ্চিত্রের পেছনে যে মানুষটার নাম বারবার এসেছে তিনি পরিচালক তানিম নূর। পারিবারিক ঘরানার এই ছবিটি যে সাধারণ মানুষের এত ভালো লাগবে, সেটা তিনি বিশ্বাস করতেন। উৎসবে দুই সময়ের ফ্যাশন নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তানিম নূরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্র তো আসলে একা হয় না। এখানে কাস্টিং ডিরেক্টর, কস্টিউম ডিজাইনার, আর্ট ডিরেক্টর, মেকআপ আর্টিস্ট, সবশেষে অভিনেতা-অভিনেত্রী সবারই অবদান থাকে। পোশাক পরিকল্পনার ব্যাপারটাও এমনই। কস্টিউম ডিজাইনারের পুরো টিমের সঙ্গে বসে নানা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নব্বই দশকের যে ফ্যাশন আমরা চলচ্চিত্রে দেখেছি, সেটা আমরা তো অনেকখানি জানতামই। বাকি পুরনো দিনের বাংলা ও হিন্দি সিনেমা দেখে বেশ কিছু ইন্সপিরেশন নিয়েছি সবাই। এই রেফারেন্সগুলো আমাদের অনেক কাজে লেগেছে।’
কস্টিউম ডিজাইনার তানিয়া রহমানের ব্যক্তিগত জীবন
কস্টিউম ডিজাইনার তানিয়া রহমান
তানিয়া রহমানের ব্যক্তিগত জীবনও বেশ সমৃদ্ধই বলা চলে। খুলনা ইউনিভার্সিটি থেকে কস্টিউম ডিজাইনিং-এ অনার্স এবং হোম ইকোনমিকস থেকে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে মাস্টার্স করেছেন। পড়াশোনা শেষ করে আফসানা মিমির প্রতিষ্ঠান গ্রিন স্ক্রিনে যুক্ত হন। সেখানে তার সঙ্গে ইনহাউস অনেক কাজ করেছেন। বেশ কিছু ডেইলি সোপেও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। টিভিসির কাজ তার করা হয়নি, কেবল ফিকশনেই তানিয়ার আগ্রহ বেশি। খুব শিগগিরই তানিয়ার নতুন আরেকটি কাজ আসতে যাচ্ছে। নতুনভাবে তিনি দর্শকদের ভালো লাগার অনুভূতি দেবেন বলেই আমাদের বিশ্বাস।