সাদিয়া মোস্তফা
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৫ ১৪:১৬ পিএম
স্বাস্থ্যকর খাদ্য তালিকায় টক দইয়ের স্থান বেশ পুরনো। আমাদের বাড়িতে প্রায়ই বর্ষার সন্ধ্যায় ঠান্ডা টক দই খাওয়া হয়। টক স্বাদের এই দইয়ের রয়েছে অসাধারণ পুষ্টিগুণ। একে সুপারফুডও বলা হয়। এতে রয়েছে প্রোবায়োটিক, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান, যা শরীর ও মনের জন্য অপরিহার্য। চলুন জেনে নেওয়া যাক কী কী উপকারিতার জন্য টক দই খাবেন।
হজমশক্তি বাড়ায়
টক দইয়ে থাকে ল্যাকটোব্যাসিলাস ও অন্যান্য পুষ্টিকর প্রোবায়োটিক, যা অন্ত্রের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে এবং হজমে সহায়ক হয়। এটি বদহজম, গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য, এমনকি আইবিএস প্রতিরোধেও সাহায্য করে ।
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে
টক দইয়ের উপকারী ব্যাকটেরিয়া শরীরের অভ্যন্তরে গিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সক্রিয় করে তোলে। অ্যান্টিবডি উৎপাদন বাড়িয়ে বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

ওজন কমাতে সাহায্য করে
উচ্চ প্রোটিন ও নিম্ন ক্যালরিযুক্ত টক দই ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে এবং ফাস্ট ফুড বা মিষ্টির বিকল্প হিসেবে ওজন কমাতে সহায়তা করে।
হাড় ও দাঁত মজবুত করে
প্রতিটি এক কাপ টক দইয়ে প্রায় ২৭০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে, যা হাড় ও দাঁতের ঘনত্ব বাড়ায়, অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ ও রক্তচাপ ঠিক রাখায় টক দই কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্য উন্নত করে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে
নন-ফ্যাট দই নিয়মিত খেলে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রায় ২৪% হ্রাস পায়। এটি ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
ত্বক ও চুল ভালো রাখে
দইয়ে থাকা ভিটামিন, খনিজ ও প্রো-বায়োটিক ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি চুলের ফলিকল মজবুত করে, রুক্ষতা কমায় এবং ত্বকের যত্নে বানানো ঘরোয়া প্যাকে ব্যবহৃত হলে রোদে পোড়া দাগ কমে যায় এবং ত্বক ফর্সা করে।
দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ কমায়
গবেষণায় দেখা গেছে, ভাজাপোড়া খাদ্যের জায়গায় টক দই সেবন কর্টিসল হরমোনের মাত্রা কমানোর মাধ্যমে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ হ্রাসে সহায়ক হয়ে থাকে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ
টক দইয়ে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বয়স্ক রোগপ্রতিরোধে সহায়তা করে এবং বয়সের ছাপ কমিয়ে ত্বককে করে তোলে তরতাজা।
ক্যানসার প্রতিরোধে অবদান
ল্যাকটোব্যাসিলাস ও স্ট্রেপ্টোকক্কাস থার্মোফিলাস জাতীয় ব্যাকটেরিয়া কোলন ক্যানসারসহ অন্যান্য প্রদাহজনিত রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
টক দই সঠিক নিয়মে যেভাবে খাবেন
খালি পেটে বা খাবারের আগে- এটি খাবার হজম আর পুষ্টি শোষণ বাড়ায়
ভালো মানের প্লেন টক দই বেছে নিন- অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি নয়।
রান্নায় ব্যবহার করবেন না- গরম করলে টক দইয়ের প্রোবায়োটিক নষ্ট হয়ে যায়, প্রদাহ বাড়ে।
পরিমাণমতো খান- দিনে ১৫০-২০০ গ্রাম রেকমেন্ডেড।
এর বাইরে ত্বকের যত্নেও টক দই ব্যবহার করতে পারেন। টক দইয়ের সঙ্গে টমেটো, মধু, চন্দন মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে ত্বকের যত্নে ব্যবহার করতে পারেন।
দৈনন্দিন ব্যবহারের টিপস
টক দই কোনো ওষুধ নয়, বরং একপ্রকার প্রাকৃতিক প্রতিষেধক। এটি শরীরের ভেতর ও বাইরের নানা সমস্যার সমাধান করে, এক বাটি দইয়ে মিলতে পারে শত রকম উপকার। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় টক দই রাখুন সুস্থ জীবনধারার এক মজবুত সঙ্গী হিসেবে।