সাদিয়া মোস্তফা
প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৫ ১২:৫৩ পিএম
গরমকালে অতিরিক্ত ঘাম আর ঘামাচি আমাদের নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এটি যেমন অস্বস্তিকর, তেমনি ত্বকের নানা সমস্যা, চুলকানি এবং ইনফেকশনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে বিশেষ কিছু নিয়ম মেনে চললে এই সমস্যা অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
ঘামাচি কেন হয়
ঘামাচি ত্বকের এমন একটি অবস্থা, যার ফলে ত্বকে চুলকায়। কখনও কখনও শরীরের বিভিন্ন অংশে লাল ছোপ দেখা দেয়। বছরের যে মাসগুলোতে প্রচণ্ড গরম থাকে এবং শরীরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঘাম হয়, সে সময় ঘামাচি হয়। ত্বকের এ সমস্যা খুব অস্বস্তিকর। ঘামাচি হলে ত্বকের ওপর লাল ছোপ ফুটে ওঠে, খুব ছোট ছোট ফোস্কার মতো হয়, ত্বকে প্রচণ্ড চুলকানি হয়, গায়ের জামাকাপড় চামড়ার সঙ্গে ঘষা লাগলে খুব অস্বস্তিবোধ হয় এবং ত্বক রুক্ষ হয়ে ওঠে এবং খসখসে হয়ে যায়। এ উপসর্গগুলো সাধারণত ঘাড়-গলা, কাঁধ, বুক এবং পিঠে দেখা যায়। কিছু ক্ষেত্রে ঘামাচি কনুইয়ের ভাঁজে এবং কুঁচকিতেও হয়।

ঘাম থেকে মুক্তি পেতে করণীয়
১। প্রতিদিন দুইবার ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করুন
প্রথমত, প্রতিদিন অন্তত দুইবার ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করা উচিত। ঘাম এবং ধুলাবালু জমে ঘামাচি দেখা দেয়, তাই শরীর পরিষ্কার রাখাটা খুব জরুরি। সম্ভব হলে অ্যান্টিসেপটিক সাবান ব্যবহার করতে হবে, যাতে জীবাণু সংক্রমণ থেকে ত্বক রক্ষা পায়।
২। হালকা ও ঢিলেঢালা জামাকাপড় পরুন
জামাকাপড়ের ক্ষেত্রেও সচেতন থাকা দরকার। গরমে সিন্থেটিক বা টাইট কাপড় ঘামের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। তাই ঢিলেঢালা ও সুতির কাপড় পরা উচিত, যা ঘাম শুষে নেয় এবং শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
৩। খাবারে সচেতনতা আনুন
খাবারের মধ্যেও ঘামের ওপর প্রভাব ফেলে এমন উপাদান থাকে। যেমন ঝাল, অতিরিক্ত মসলা, চা-কফি ও লবণ খেলে শরীরের তাপমাত্রা বাড়ে এবং ঘাম বেড়ে যায়। এসবের পরিবর্তে বেশি করে পানি, ডাবের পানি, শসা, তরমুজ, দই ইত্যাদি খাওয়া উচিত, যেগুলো শরীর ঠান্ডা রাখে এবং ঘাম কমায়।
অতিরিক্ত ঘাম হলে কী করবেন
অতিরিক্ত ঘাম হলে পানিতে সামান্য ফিটকিরি মিশিয়ে গোসল করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এ ছাড়া ঘামে ভেজা জামাকাপড় দ্রুত পরিবর্তন করতে হবে এবং পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে ঘন ঘন শরীর মুছে নিতে হবে, যাতে ত্বক শুষ্ক থাকে।
ঘামাচিতে করণীয়
ঘামাচি দেখা দিলে আক্রান্ত স্থানে চুলকানো বা ঘষাঘষি করা যাবে না। এতে ত্বকের অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে। এ সময় আক্রান্ত স্থানে শুকনো পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে। কারও ত্বক অতিমাত্রায় সংবেদনশীল হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ লাগানোই ভালো। শিশুদের ক্ষেত্রে আরও বেশি সাবধানতা প্রয়োজন। ঘাম জমে এমন জায়গা যেমনÑ ঘাড়, বগল, কুঁচকি ইত্যাদি প্রতিদিন বারবার পরিষ্কার রাখা উচিত।
ঘামাচি প্রতিরোধে ১০টি প্রাকৃতিক ঘরোয়া সমাধান
অতিরিক্ত ঘাম রোধে প্রাকৃতিক কিছু উপাদান বেশ কার্যকর। যেমন, আপেল সাইডার ভিনেগারে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান শরীরের pH ব্যালেন্স করে ঘাম কমাতে সাহায্য করে।
সবশেষে বলা যায়, ঘাম ও ঘামাচি গরমে খুবই সাধারণ সমস্যা হলেও, একটু যত্নশীল হলেই এর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। প্রতিদিন পরিষ্কার থাকা, সঠিক জামাকাপড় পরা ও কিছু প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার করলে ত্বক সুস্থ রাখা সম্ভব। শিশুদের ক্ষেত্রেও আরও বেশি সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি। সমস্যা গুরুতর হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।