মূল (রুশ) : মিখাইল প্লিয়াতস্কোভস্কি ইংরেজি : স্পিরিন ইয়েভগেনি ভাষান্তর : সানজিদা সিদ্দিকা
প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৫ ১৩:০২ পিএম
আঁকা : ভ্লাদিমির সুতেয়েভ
জেনে অবাক হয়ো না যে, এ গল্পটি একটি ছোট্ট পোকাকে উৎসর্গ করা হয়েছে। হ্যাঁ, সত্যিই এক পোকা। যে কিনা খুবই সাধারণ। সে এত ছোট্ট ছিল যে, তার নাম রাখতেও তারা ভুলে গিয়েছিল। কীভাবে সে বিখ্যাত হয়েছিল সে কথা পরে বলছি।
তার আগে বলি স্বপ্নের কথা। সবারই নিজের স্বপ্ন থাকে, তাই না?
যেমন ধরোÑ বাঘ শাবক ডোরাকাটা উড়তে চায়। কিন্তু তার কোনো পাখা নেই। জেব্রা টেলনিক তোশকের মতো ডোরাকাটা হতে হতে ক্লান্ত। রাতে সে স্বপ্ন দেখে তার গায়ের রঙ বাদামি হয়ে গেছে। স্বপ্নে যে সু্ন্দর রঙটি পায় তা দেখে খুশিতে আয়নায় নিজেকে দেখতে থাকে।
পোকাটিরও একটি স্বপ্ন ছিল। সে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখত। ছোট থেকে অনেক বিশাল বড় হওয়ার। পোকাটি একবার শামুক ধীরুজের কাছে জানতে চাইল, ‘কোনো ওষুধের দোকানে বড় হওয়ার জাদুকরী ওষুধ বিক্রি করে তুমি কি তা জানো?’
Ñ শামুকটি বলল, ‘আমি জানি না।’ সত্যিই কি তোমার ওসব দরকার?
Ñ ‘খুব দরকার’ দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে পোকাটি বলল। আমি বড় হতে চাই। হাতি হেলদোলের মতো অত বড় না হই অন্তত গন্ডার থপথপের চেয়ে যেন ছোট নয়।
Ñ আরে কেন?
Ñ সে তুমি বুঝবে না, ধীরুজ! বড় হলে লোকজন আমাকে খেয়াল করবে। তাদের সঙ্গে দেখা হলে আমাকে স্বাগত জানাবে।
Ñ এতে কী এমন সুখ আছে? শামুকটি ধীরে ধীরে তার শিংওয়ালা মাথা নাড়াল।
Ñ কে জানে এতে কী সুখ আছে? পোকাটি খুব ভাবনা সহকারে বলল। কিন্তু তুমি যদি না জানো কোন ওষুধের দোকানে বড় হওয়ার জাদুকরী বড়ি বিক্রি করে, তাহলে তোমার সঙ্গে বলার মতো আমার আর কোনো কথা নেই।
ব্যস, ওইদিনই তারা আলাদা হয়ে গেল।
ঠিক এর কিছুক্ষণ পড়েই ঘটনাটি ঘটেছিল। গন্ডার থপথপ চল্লিশটি ডিম ভাজছিল। এরপর বৈদ্যুতিক চুলাটি বন্ধ করতে ভুলে গিয়েছিল। আর তখন কী ঘটতে পারে, তা সবারই নিশ্চয়ই জানা। আগুন ধরে গেল।
গন্ডার থপথপ ভয় পেয়ে গেল। আর সাহায্যের জন্য সবাইকে ডাকতে লাগল। সব প্রাণী ছুটে এলো। কুমির দাঁতাল, জিরাফ দীঘল শির, বাঘ শাবক ডোরাকাটা এবং আরও অনেকে। তারা ছুটে এলো ঠিকই কিন্তু সবাই ওখানে দাঁড়িয়ে থাকল।
তারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখে-ই যাচ্ছে।
বাড়িতে আগুন লেগেছে, তাও দেখে যাচ্ছে। বাড়িটি পুড়ছে কিন্তু কেউ আগুন নেভাচ্ছে না।
সবাই জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছে আর তাই কেউ-ই আগুন নেভাচ্ছে না। একমাত্র পোকাটি-ই দিশেহারা হয়নি। সে উদ্ধারকারী দলের কাছে ওড়ে গেল। সে ফায়ার টায়ারের ওপরে বসল। দেখল কেউ নেই। পরে দেখে অগ্নিনির্বাপক হাতিরা তামার হেলমেট পরে ডোমিনো খেলছে, কিন্তু কেউ-ই তার দিকে ফিরেও দেখছে না।
Ñ আগুন! পোকাটি চিঁ চিঁ করে বললÑ বাঁচাও! সাহায্য করুন।
Ñ কোথায় আগুন? কী পুড়ছে? অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা ত্রস্ত হয়ে পড়ল।
Ñ গন্ডার থপথপের বাড়িতে আগুন লেগেছে। দয়া করে এক মিনিটও নষ্ট করবেন না। আমার খুব দুঃখ হচ্ছে থপথপের জন্য। কাঁদো কাঁদো নয়নে পোকাটি চিৎকার করল।
হাতিগুলো তাদের পিঠে জলের ব্যারেল নিল আর উদ্ধারের জন্য ছুটে গেল। তারা গন্ডার থপথপকে আগুন থেকে টেনে বের করল। আর তাদের শুঁড় দিয়ে পানি ছিটিয়ে আগুন নেভাল। অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের যদি এমন শুঁড় থাকে, তাহলে তাদের জল দেওয়ার পাইপের কোনো দরকারই নেই।
পোকাটি অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের ওপর খুব খুশি হয়েছিল। তারা গন্ডার থপথপের জীবন বাঁচিয়েছে, তাই পোকাটি খুশিতে আত্মহারা হয়ে বাতাসে নানা কায়দায় ডিগবাজি দিতে লাগল।
কিন্তু এখনও কেউ তাকে খেয়াল করেনি। আর কেউ ভাবতেও পারেনি অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের যে ডেকেছিল, সে আর কেউ নয় পোকাটিই ছিল। একমাত্র শামুক ধীরুজ সে কথা জানতে।
Ñ তুমি খুব ভালো মেয়ে, পোকা! শামুক প্রশংসা করল। বিপদের সময় তুমি তোমার বুদ্ধি বিবেচনা হারাওনি আর গন্ডার থপথপের জান বাঁচিয়েছ। ডিম ভাজতে গিয়ে যে কি না প্রায়ই মরেই যাচ্ছিল। এটা নিয়ে আমি আমাদের স্থানীয় পত্রিকায় একটি আর্টিকেল লিখব। আর তাদের অনুরোধ করব লেখাটা যেন বিশিষ্ট স্থানে ছাপা হয়।
Ñ ‘আমি কী করেছি’, অবাক হয়ে পোকাটি বলল, তেমন বিশেষ কিছুই না। ইশ! হাতে যদি কিছু বড় হওয়ার জাদুকরী বড়ি পেতাম।
Ñ ‘তোমার কেন বড় হওয়ার বড়ি দরকার’, শামুক ধীরুজ বলল। মানছি আকারে তুমি খুব ছোট কিন্তু তোমার হৃদয় অনেক বড়। আর এটাই হলো সবচেয়ে জরুরি।
** টেলনিক- আনুভূমিক ডিজাইনের একপ্রকারের গেঞ্জি, যা রাশিয়ান সেনাবাহিনীর লোকেরা ইউনিফর্ম হিসেবে পরে।