স্বপ্নিল কুমার ভদ্র
প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৫ ১৪:০০ পিএম
আঁকা : মেহেরুন্নিসা, সপ্তম শ্রেণি, রানী নীহার দেবী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মানিকছড়ি, খাগড়াছড়ি
আমি আসলে খুবই ভ্রমণপিপাসু। ঘুরতে আমার খুব ভালো লাগে। ইচ্ছে করে দূর দিগন্ত পাড়ি দিতে। তাই আমি আমার গল্পগুলোর মধ্যেও বেড়ানো চরিত্রগুলোকে যুক্ত করি। সম্প্রতি আমি আমার বাবার সঙ্গে বেড়িয়ে এসেছি বাংলার অন্যতম প্রাচীন নগরীর নিদর্শন পানাম নগর। কী কী করলাম, কী কী দেখলাম সেই কাহিনীই আজ বলব তোমাদের।
বার্ষিক পরীক্ষা শেষ। ভাবছি, কী কী করা যায়। পছন্দের বইগুলোর তালিকা করে ফেলেছি। কোথায় কোথায় যাওয়া যায়, তাই ভাবছি। বিকালে বাবা কলেজ থেকে ফেরার পথে একটা দারুণ খবর নিয়ে এলেন। আগামীকাল অর্থাৎ ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ আমরা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁর পানাম নগরে বেড়াতে যাচ্ছি। আমি খুব খুশি হলাম। রাতেই ক্যামেরা, বাইনোকুলার, নোটবুক, কিছু কলম ইত্যাদি প্রস্তুত করে ব্যাগ গুছিয়ে রাখলাম। বাবা আগেই ফোন দিয়ে ওখানকার যাবতীয় বন্দোবস্ত করে রেখেছেন। রাতে উত্তেজনায় আমার ঘুম হলো না। পানাম নগর নিয়ে বইয়ে পড়েছি, এবার প্রথম দর্শন। পরদিন খুব ভোরে ঘুম ভেঙে গেল। ঘড়িতে তখন ভোর পাঁচটা। ভোরের আলো ফোটেনি এখনও। আমি আর বাবা ফ্রেশ হয়ে সকালের হালকা খাবার খেয়ে তৈরি হয়ে নিলাম।
আমরা থাকি ময়মনসিংহে। আমরা নারায়ণগঞ্জ ঢাকা হয়ে যাইনি সময় বেশি লাগবে বলে। নরসিংদী হয়ে গিয়েছি। প্রথমেই চলে গেলাম মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ডে। সেখান থেকে বাসে উঠে বসলাম। সকালের নাস্তা সারলাম আপেল, কলা, সেদ্ধ ডিম আর বার্গার দিয়ে। এরপর আমরা ধীরে সুস্থে ভ্রমণকালীন আনন্দ উপভোগ করতে লাগলাম। বাবা সিটে বসে খানিকটা ঘুমিয়ে নিলেন। কিন্তু আমি মুগ্ধ হয়ে বাসের জানালা দিয়ে বাইরের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে লাগলাম। খুব সুন্দর। শীতের সকাল হওয়ায় কুয়াশার জন্য ভালো দেখা যাচ্ছিল না। এরপর যখন কুয়াশার ওপর সূর্যের আলো পড়ল, তখন লাগল অদ্ভুত সুন্দর। এরপর আমরা গাজীপুরের মাওনা, রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাস, কাপাসিয়া, নরসসিংদীর ইটাখোলা, মাধবদী, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, ঈদবারদী হয়ে প্রবেশ করলাম প্রাচীন বাংলার সমৃদ্ধ নগরী সোনারগাঁয়ে। এরপর পৌঁছে গেলাম প্রাচীন পানাম নগরে। এর ভবনগুলো অনেক পুরোনো। ধারণা করা হয়, আনুমানিক ৪৫০ বছর আগে থেকে এর নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। পরিত্যক্ত হয়ে যাওয়ার পর ২০২০ সালে এর সংস্কার কাজ সম্পাদন করা হয়। বাবা আর আমি টিকিট কেটে ভেতরে ঢুকলাম। নগরীর ভিতর দিয়ে একটি রাস্তা চলে গেছে। রাস্তার দুপাশে সারিবদ্ধ মুখোমুখি মোট ৫২টি দালান কালের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। কথিত আছে, জমিদার ঈশা খাঁর পদচারণা ছিল এই নগরে। ইউরোপীয় শিল্পরীতির সাঙ্গে সুলতানি শিল্পরীতির মিশেল ঘটিয়ে
এই দালানগুলো তৈরি করা হয়েছিল।
তোমরা কোনো এক ছুটির দিনে দেখে আসতে পার বাংলার গর্ব এই পানাম নগর।
সপ্তম শ্রেণি, ইউনিক প্রগ্রেসিভ স্কুল, ময়মনসিংহ