আফসানা মিমি
প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৫ ১২:৫৮ পিএম
কোরবানির ঈদ তো চলেই এলো। এই ঈদে শপিংয়ের বাহুল্যতা পোশাকের দিকে নয়, বরং ঘর পরিষ্কার, রান্নাবান্না আর মসলা প্রস্তুতেই চলে যায়। এত কাজের ভিড়ে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি কাজ হচ্ছে ফ্রিজ পরিষ্কার করা। কারণ বছরজুড়ে যত কিছু ফ্রিজে জমতে থাকে সেগুলো সরিয়ে না ফেললে মাংস রাখার জায়গা হয় না। আবার জমে থাকা মাছ, মাংস থেকে যে রক্ত পড়ে বরফ হয়ে থাকে, সেগুলোর কারণেও অনেকখানি জায়গা ভরে যায়। তাই সব মিলিয়ে ঈদের আগে ফ্রিজ অবশ্যই পরিষ্কার করে নিতে হবে। কিছু নিয়ম মেনে ফ্রিজ পরিষ্কার করলে ঈদের সময় ঝামেলা কম হবে।
ফ্রিজ খালি করে বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা
ফ্রিজ পরিষ্কার করতে বেশ সময় লাগে। শুরুতেই বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে নিতে হবে। পরিষ্কারের আগে অনেকক্ষণ ফ্রিজ বন্ধ রাখতে হয়। এরপর ফ্রিজে রাখা জিনিসগুলো সরিয়ে রাখুন। কয়েক ঘণ্টা পর বরফ গলে গেলে বাকি প্যাকেটগুলো সরিয়ে নিতে হবে।
সেলফ ও পার্টস আলাদা করে ধোয়া
ফ্রিজের ভেতরের যেসব অংশ সহজে খোলা যায়Ñ যেমন সেলফ, ড্রয়ার, ডিম রাখার ট্রে ইত্যাদি; সেগুলো খুলে কুসুম গরম পানি ও হালকা ডিটারজেন্ট মিশ্রণে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। কাচ বা প্লাস্টিকের দাগ লাগা অংশে লেবুর রস বা ভিনেগার ব্যবহার করলে তা সহজে উঠে যাবে।
বরফের ট্রে পরিষ্কার করা
ফ্রিজার থেকে বরফের ট্রে বের করে বরফের টুকরাগুলো ফেলে দিন। এখন সাবান পানি আর ভেজা কাপড় দিয়ে পুরো ফ্রিজ ভালো করে পরিষ্কার করে নিন। তারপর শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিন।
জীবাণুমুক্ত ও গন্ধহীন রাখতে মিশ্রণ তৈরি
ফ্রিজের ভেতরের অংশ পরিষ্কারের জন্য একটি ঘরোয়া মিশ্রণ তৈরি করা যেতে পারে। এক লিটার গরম পানিতে আধা কাপ বেকিং সোডা মেশান। এই মিশ্রণ জীবাণু নাশ করে ও দুর্গন্ধ দূর করে। একটি নরম কাপড় বা স্পঞ্জ দিয়ে ভেতরের দেয়াল, কোনা ও দরজা ভালোভাবে মুছে নিন।
দরজার রাবার পরিষ্কার
ফ্রিজের দরজার পাশে যে রাবার থাকে সেটি ব্যবহার করতে করতে আঠাল হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করলে ছোট ছোট পোকাও বাসা বাঁধতে পারে। ভিনেগার মেশানো পানিতে কাপড় বা ব্রাশ ভিজিয়ে রাবারটি পরিষ্কার করে নিতে হবে।
শুকিয়ে বাতাস চলাচলের সুযোগ দেওয়া
ফ্রিজ পরিষ্কারের পর সব অংশ একটি শুকনো ও পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে নিন। অন্তত ২০-৩০ মিনিট ফ্রিজ খোলা রাখুন, যাতে ভেতরের আর্দ্রতা সম্পূর্ণ দূর হয় এবং বাতাস চলাচল করতে পারে। ভেতরে যেন দুর্গন্ধ না হয়, সেজন্য কয়েকটি পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন। যেমনÑ ফ্রিজের এক কোণে এক বাটি বেকিং সোডা রেখে দেওয়া, বাটিতে শুকনো ওটমিল রাখা, ছোট কোনো পাত্রে কফির গুঁড়ো রাখা, ছোট ছোট তুলার বল বানিয়ে ভ্যানিলা এসেন্সে ডুবিয়ে রেখে দেওয়া ইত্যাদি। এগুলোর মধ্য থেকে যে উপাদানগুলো আপনার ঘরে আছে, সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন দুর্গন্ধ দূর করার জন্য।
ফ্রিজ চালু ও খাবার গুছিয়ে রাখা
পরিষ্কারের পর ফ্রিজ আবার চালু করুন এবং ঠান্ডা হতে দিন। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী খাবারগুলো বায়ুরোধী পাত্রে গুছিয়ে রাখুন। রান্না করা খাবার ও কাঁচা উপকরণ আলাদা রাখার চেষ্টা করুন। এতে দুর্গন্ধ কমবে ও খাবারের মান বজায় থাকবে।
পরিচ্ছন্ন ফ্রিজ, পরিপাটি ঈদের আয়োজন
ঈদের আনন্দ শুধু খাবার-দাবার বা আয়োজনেই সীমাবদ্ধ নয়; তা নির্ভর করে গোছানো প্রস্তুতির ওপরও। একটি পরিচ্ছন্ন ও সাজানো ফ্রিজ শুধু রান্নার কাজকে সহজ করে না, অতিথি আপ্যায়নের অভিজ্ঞতাকেও করে স্বস্তিদায়ক। মাংস ভালোভাবে কেটে ধুয়ে ফ্রিজে রাখতে হবে। জিপলক ব্যাগ ব্যবহার করলে বেশি ভালো। এতে মাংসের রক্ত ছড়িয়ে পড়ে দুর্গন্ধ হবে না। যেকোনো কাজই আগে থেকে গুছিয়ে নিলে জীবন চলাচল সহজ হয়। আর কোরবানি ঈদের প্রস্তুতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ তো এই ফ্রিজ পরিষ্কার ও সঠিকভাবে গুছিয়ে রাখাটাই।