তানভীর হাসান রামিম
প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৫ ১২:৪২ পিএম
দুই দিনব্যাপী ‘ইকোপ্রেনিউরস বুটক্যাম্প ২০২৫’
সকালটা ছিল অন্যরকম। বরিশালের সদর রোডের সেলিব্রেশন পয়েন্টে জমায়েত হয়েছিলেন একদল উদ্যমী তরুণ। তাদের চোখে একটাই স্বপ্ন- পরিবেশবান্ধব ব্যবসার মাধ্যমে গড়া একটি টেকসই সমাজ।
আয়োজনটি ছিল দুই দিনব্যাপী ‘ইকোপ্রেনিউরস বুটক্যাম্প ২০২৫’। লাল-সবুজ সোসাইটি ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ আয়োজনে অংশ নেন বরিশালের সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তারা। শুরুটা হয়েছিল ৬৫ জন তরুণের আবেদন দিয়ে। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচিত হন সেরা ২০ জন, যাদের নিয়ে হয় মূল প্রশিক্ষণ পর্ব। উদ্দেশ্য একটাই, তাদেরকে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গড়ে তোলার উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া। ৯ এবং ১০ মে দুদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত বুটক্যাম্পের মূল আলোচনায় ছিল সবুজ ব্যবসা মডেল, টেকসই পণ্য ডিজাইন, পরিবেশবান্ধব বিপণন কৌশল, বাস্তবভিত্তিক অর্থায়ন ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরির নানা দিক।
তরুণদের পাশে ছিলেন অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকরা। হ্যাপি ভেঞ্চার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ হাসান শিখিয়েছেন সবুজ উদ্যোগ কীভাবে শুরু করতে হয়। ব্যবসায়িক পরিকল্পনার খুঁটিনাটি নিয়ে কথা বলেন রাকিব বায়ানি। পেটেক্স হ্যান্ডিক্রাফটের পরিচালক মো. তানভীর হোসাইন পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক মানের বিপণন কৌশল নিয়ে প্রশিক্ষণ দেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের উপপরিচালক দীপু হাফিজুর রহমান। প্রশিক্ষণ শেষে উদ্যোক্তারা নিজেদের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তাদের পরিকল্পনায় উঠে আসে পরিবেশ রক্ষার বাস্তবধর্মী চিন্তা। কেউ চেয়েছেন বর্জ্য রূপান্তরের মাধ্যমে পরিবেশ পুনরুদ্ধার করতে, কেউ গড়তে চান আদর্শ কুটির শিল্প। কারও ভাবনায় জেলেদের জন্য ভাসমান ফ্লোট তৈরির পরিকল্পনাও ছিল। এসব পরিকল্পনা শুধু পরিবেশ রক্ষায় সহায়ক নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তও খুলে দিতে পারে। তরুণ উদ্যোক্তা দীপক নাথ তার উদ্যোগ সম্পর্কে বলতে গিয়ে জানান, ‘পরিবেশ দূষণ রোধে সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব অপরিসীম। আমার লক্ষ্য, বর্জ্য পুনঃব্যবহারের মাধ্যমে টেকসই ব্যবসা গড়ে তোলা এবং মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি করাÑ যাতে তারা বর্জ্যকে অপচয় নয়, সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে।’
পাট, মেক্রাম ও ওয়েস্ট ফেব্রিক নিয়ে কাজ করছেন মোছা. মায়া। তার সবুজ ও কুটির শিল্প সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি কাজ করছি পাট, মেক্রাম ও ওয়েস্ট ফেব্রিক নিয়ে। এগুলো সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব এবং মানুষের কোনো ক্ষতি করে না। বর্তমানে ছোট পরিসরে কাজ চলছে, তবে আমার স্বপ্ন বড় পরিসরে এগুলোকে পৌঁছে দেওয়া। কারণ এখন এসব পণ্যের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।’ বর্জ ব্যবস্থাপনার জন্য ফ্লোট তৈরি এবং উপকূলীয় জেলেদের নিয়ে কাজ করছেন উদ্যোক্তা জহিরুল ইসলাম। তিনি জানান, ‘কুয়াকাটা একটি পর্যটন এলাকা, যেখানে বছরে অসংখ্য পর্যটক প্লাস্টিক ব্যবহার করেন। সেই প্লাস্টিক বোতল রিসাইকেল করে জেলেদের জন্য স্বল্পমূল্যের বয়া (ফ্লোট) তৈরি করা, পাশাপাশি পেট প্লাস্টিক থেকে ফ্লেক্স তৈরি করে বিক্রির মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করাই আমাদের লক্ষ্য। বর্তমানে আমরা বাজার যাচাই শেষ পর্যায়ে এনেছি এবং জেলে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছি।’
লাল-সবুজ সোসাইটির জাতীয় কার্যনির্বাহী বোর্ডের সদস্য মোস্তাকিমা রহমান বিনীতা বললেন, ‘আমরা চাই, এই তরুণদের হাতে তৈরি হোক আগামী দিনের সবুজ বাংলাদেশ। আমরা বিজয়ী উদ্যোক্তাদেরকে আগামী তিন মাস কারিগরি সহায়তা দেব যেন তাদের ব্যবসা আরও অধিক সম্প্রসারিত হয়।’ সমাপনী দিনে অনুষ্ঠিত পরিকল্পনা উপস্থাপনা ও মূল্যায়ন পর্বে বিচারকদের রায়ে সেরা তিনজন উদ্যোক্তাকে দেওয়া হয় ১০ হাজার টাকা করে পুরস্কার।