মাহিন মাহমুদ
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৫ ১৪:০২ পিএম
দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে আবহাওয়ার। বাড়ছে গরম আর অস্বস্তি। বাড়িতে থাকলেও যেমন গরম লাগে, তেমনই যারা বাইরে কাজে যান তাদেরও শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে দেখা দিচ্ছে অসুস্থতা। আবার শিশু-কিশোররাও স্কুলে যায়, খেলাধুলা করে, যার কারণে শরীরের পানি কমে গিয়ে শরীর হয়ে যেতে পারে পানিশূন্য। এককথায় প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস করছে মানুষ। অসাবধানতার কারণে গরমে হিটস্ট্রোকের সমস্যা হতে পারে অনেকেরই। তা ছাড়া সর্দি, জ্বর, ফুড পয়জনিং, পেটের নানা সমস্যা, ডায়রিয়ার মতো সমস্যাও বেড়ে যায়। শরীর ডিহাইড্রেট হয়ে গেলে এসব সমস্যা দ্রুত হয়, শরীর ক্লান্ত হয়ে যায়। কোনো কাজে এনার্জি পাওয়া যায় না। কী কী কারণে শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায় এবং কীভাবে এই সমস্যা এড়াবেন চলুন জেনে নেওয়া যাক।
কেন শরীর পানিশূন্য হয়
অতিরিক্ত তাপমাত্রা
গরমের সময় পরিবেশে তাপমাত্রা বেশি থাকে, যার কারণে ঘরে বাইরে সবখানেই অতিরিক্ত গরম অনুভূত হয়। ঘুমানোর সময় যদি ঘর বেশি গরম থাকে, তাহলে ঘুমের মধ্যেই ঘাম হতে পারে। এতে শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়তে পারে।

অতিরিক্ত ব্যায়াম
গরমের সময় ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। তবে এটা যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত হয়ে যায় সেক্ষেত্রে একটু দুশ্চিন্তা অবশ্যই করতে হবে। কারণ এতে শরীরের পানি কমে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে।
কী কী লক্ষণ দেখলে বুঝবেন পানিশূন্যতা দেখা দিয়েছে
পেশিতে খিঁচুনি বোধ করলে, বেশি অসুস্থ বোধ করলে, প্রচণ্ড পিপাসা পেলে, মুখ ও জিহ্বা শুকিয়ে গেলে, দুর্বলতা দেখা গেলে, মাথা বেশি ঘোরালে, একদমই ঘাম না হলে, ইউরিন কমে যাওয়া ইত্যাদি পানিশূন্যতার লক্ষণ। এই লক্ষণ চরম পর্যায়ে চলে গেলে ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।
শরীরের পানি ধরে রাখতে করণীয়
প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া। বেলা ১১টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত খুব প্রয়োজন না হলে বাইরে বের হওয়ার প্রয়োজন নেই। এ সময়ে রোদের ঝাঁজ বেশি থাকে। যদি নিতান্তই বের হতে হয় তাহলে অবশ্যই সঙ্গে পানির বোতল রাখুন। স্যালাইনের একটি প্যাকেটও সঙ্গে রাখবেন। শরীর পানিশূন্য হয়ে যাচ্ছে মনে হলে সঙ্গে সঙ্গে পানিতে মিশিয়ে খেয়ে নেবেন। এতে শরীরে এনার্জি ফিরবে।
বেশি বেশি তরল পান করুন
শরীর থেকে যে পরিমাণ পানি বের হয়ে যাচ্ছে, অবশ্যই তার থেকে বেশি পানি পান করতে হবে। বেশি বেশি তরল খাবার ও পানি খেতে হবে। পুদিনা, জিরা গুঁড়ো, বিটলবণ, ভাজা মসলা ইত্যাদি দিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন সুস্বাদু শরবত। তুলসীর বীজ বা পাতা, মৌরিও শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। রোজ রাতে পানিতে মৌরি ভিজিয়ে রেখে সকালে ছেঁকে পান করে নিন। বেশিক্ষণ খালি পেটে থাকবেন না, তাতেও শরীর দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এ সময় হাই-প্রোটিনযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। যদি আপনি প্রোটিন বেসড ডায়েটে অভ্যস্ত হন, তবে দিনে অবশ্যই আট থেকে ১২ গ্লাস পানি পান করতেই হবে। পাশাপাশি বর্জন করতে হবে বিয়ার ও ওয়াইনের মতো অ্যালকোহল। কারণ এগুলো ডিহাইড্রেশন বাড়িয়ে তোলে।
মৌসুমি সবজি ও ফল খান
বাজারে এখন প্রচুর মৌসুমি ফল ও সবজি পাওয়া যাচ্ছে। সেগুলো খেতে হবে নিয়মিত। আম, পাকা কলা, লিচু, তালশাঁস, আঙুরের মতো ফল খেলে শরীরে পানি জমা থাকবে। শরীরে পানির জোগান বাড়াবে পটোল, ঢেঁড়শ, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, লাউ, করলা, কুমড়ো, ডাঁটা, পেঁপের মতো সবজিগুলো। তা ছাড়া প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অবশ্যই ডাল, পাতলা ঝোল, আম বা তেঁতুলের পাতলা টক রাখুন।
খাবারে সতর্কতা
গরমের দিনে তেল-মসলাযুক্ত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। এই গরমে হালকা পাতলা খাবার খাওয়াই ভালো। কোনো দাওয়াতে গেলে ভারী খাবার কম খেতে হবে। ফাস্টফুড, ভাজাপোড়া এড়িয়ে চললে শরীরে আরাম হয়। সেই সঙ্গে মিষ্টিজাতীয় খাবার যেমন- কেক, পেস্ট্রি, চকলেট এসবও না খাওয়াই উত্তম। চা, কফি খাওয়ার অভ্যাস যদি থেকে থাকে, নিয়ন্ত্রণ করতে হবে সেটাও।