চুয়েটে জাতীয় রোবটিকস ও প্রযুক্তি উৎসব
গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৫ ১৬:৩৫ পিএম
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) (৮ মে) জাতীয় রোবটিক্স ও প্রযুক্তি উৎসব ‘MIE ROBOLUTION 1.0’ আয়োজিত হলো। বিশ্ববিদ্যালয়টির মেকাট্রনিক্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হয় ভিন্নধর্মী এই উৎসব। ৮ মে থেকে ১০ মে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য এই উৎসবে ৪১টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে অংশগ্রহণ করেছে সাত শতাধিক শিক্ষার্থী।
উৎসবে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, মেকাট্রনিক্স, রোবটিক্স, সফটওয়্যার ও ডিজাইনভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়। ‘MIE ROBOLUTION 1.0’ এর বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিল টেকাথন যেটি দেশের প্রথম সরাসরি যন্ত্র এবং সফটওয়্যারের সমন্বিত হ্যাকাথন। এ ছাড়াও আয়োজিত হয় ক্যাড প্রতিযোগিতা, রোবো সকার, লাইন ফলোয়িং রোবট, প্রজেক্ট শোকেজ ও দাবা প্রতিযোগিতাও।
-6829b7fce384b.jpg)
উৎসবের প্রথম দিন ৮ মে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে কেক কাটার মধ্যে দিয়ে উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। এরপর র্যালি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল সম্মেলন এবং ফিফা গেমিং ইভেন্টের মাধ্যমে শেষ হয়েছে প্রথম দিনের কার্যক্রম। বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূঁইয়া। এরপর একটি কারিগরি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় রোবটিকস ও প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানান চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সজল চন্দ্র বণিক, রুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. রুকনুজ্জামান, ট্রান্সকম লিমিটেডের প্লান্ট ব্যবস্থাপক শুভদীপ ভট্টাচার্য, ইলেকটিক লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম, সিমেন্সের টিম লিড মিঠু কুমার ভৌমিক ও বাংলাদেশ স্টিল রোলিং লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. শহীদুল ইসলাম।
উপাচার্য মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূঁইয়া বলেন, ‘রোবটের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার বৈশ্বিক অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। এরই মধ্যে রোবটের ব্যবহার শ্রমবাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। যেসব কাজ যান্ত্রিক ও পুনরাবৃত্তিমূলক, সেসব ক্ষেত্রে রোবট মানুষের বিকল্প হিসেবে কাজ করছে। তাই বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তথ্যপ্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে যেতে রোবটিকস ও বিজ্ঞানচর্চার কোনো বিকল্প নেই। তরুণ প্রজন্মকে রোবটিকস শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি। শিক্ষার্থীরা রোবটিকসে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে নিজেদের মেধা বিকশিত করার সুযোগ পাবে।’
৯ মে দ্বিতীয় দিন অনুষ্ঠিত হয়েছে লাইন ফলোয়িং রোবট, সকার বট এবং টেকাথন প্রতিযোগিতা। উৎসবের শেষ দিন ১০ মে অনুষ্ঠিত হয় প্রজেক্ট উপস্থাপন, ক্যাড প্রতিযোগিতা এবং দাবা প্রতিযোগিতা। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি হয়েছে।
এই উৎসব উপলক্ষে মেকাট্রনিক্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এর বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. প্রসঞ্জীত দাশ বলেন, ‘এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো, বাংলাদেশে প্রযুক্তি ও রোবটিক্স শিক্ষার প্রতি তরুণদের আগ্রহ তৈরি করা, তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ানো এবং একটি মানসম্মত জাতীয় প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা। এটি শুধু একটি ইভেন্ট নয় বরং প্রযুক্তিপ্রেমী তরুণদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার প্লাটফর্ম। এ ছাড়াও এই উৎসবে দেশসেরা গবেষক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও অনুপ্রেরণা বাড়িয়ে তুলবে। আয়োজনে দেশের স্বনামধন্য কিছু শিল্প কারখানা থেকেও বিশেষজ্ঞ দল এসেছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল তাদের সঙ্গে আমাদের বিভাগের একটি সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলা।’
উৎসবটিতে অনুষ্ঠিতব্য বিভিন্ন প্রতিযোগিতার জন্য পুরস্কার হিসেবে ছিল মোট ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। উৎসবে CAD প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে টিম ফেনল। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে টিম কুর্ভা প্যারাবলিকা মনজা। উৎসবের বিশেষ অংশ ‘টেকাথন’-এ প্রথম স্থান লাভ করে টিম আলফা, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে IUT_guys এবং ETE Brothers একটি সম্মানসূচক পুরস্কারে ভূষিত হয়। MIE ROBOLUTION 1.0 শুধু একটি প্রতিযোগিতা ছিল নাÑ এটি ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ, যেখানে আগামী প্রজন্ম তাদের প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তাধারা, উদ্ভাবনী মানসিকতা ও দলগত কাজের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পেয়েছে।
দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত ‘লাইন ফলোয়িং রোবট’ প্রতিযোগিতায় লিভিং ইউনিভার্সিটির টিম সলভার প্রথম স্থান অর্জন করে এবং কুয়েটের লাল কবুতর দ্বিতীয় স্থান লাভ করে। একই দিনে অনুষ্ঠিত ‘রোব সকার’ প্রতিযোগিতায় সোহরাওয়ার্দী কলেজের ব্ল্যাক সেবারস চ্যাম্পিয়ন হয়, আর রানার আপ হয় AUST-এর ইন্ডাকশন মোটর। রোবটিক প্রতিযোগিতাগুলোতে রোবটের নিয়ন্ত্রণ, গতি, কৌশল এবং স্কোরিং দক্ষতার ভিত্তিতে দলগুলোর মূল্যায়ন করা হয়।
উৎসবের শেষ দিনটি ছিল রঙিন ও বৈচিত্র্যপূর্ণ। এদিন অনুষ্ঠিত হয় পোস্টার উপস্থাপন, CAD ডিজাইন ও দাবা প্রতিযোগিতা, যা পুরো উৎসবে নতুন মাত্রা যোগ করে। প্রতিটি ইভেন্টেই প্রতিযোগীদের সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাধারার ছাপ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।