আজলানের পাঠশালা
রবিউল কমল
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৫ ১৪:১০ পিএম
অলংকরণ : তাসফিয়া মহিব সামিরা, পঞ্চম শ্রেণি, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
তু মি তো প্রতিদিন বাসায় খাবার খাও! আম্মু রান্না করেনÑ সেই খাবার তুমি খাও। আচ্ছা তুমি কি কখনও ভেবেছ, গাছ কীভাবে খাবার পায়? গাছের আম্মু তো রান্না করে না, তাহলে গাছ কীভাবে বেঁচে থাকে?
তোমার কাছে হয়তো প্রশ্নগুলো অদ্ভুত লাগছে। কারণ তুমি কখনও এভাবে ভাবোনি। তবে এই প্রশ্নের উত্তর আছে। তার আগে বলে নিইÑ আমি আজলান। আমার একটি পাঠশালা আছে। নাম হলো ‘আজলানের পাঠশালা’। এখানে তোমাদের অদ্ভুত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে।
আগেই প্রশ্ন করেছিÑ গাছ কীভাবে বেঁচে থাকে? তুমি জানলে অবাক হবে, গাছের বেঁচে থাকতে সূর্যের আলো প্রয়োজন। সূর্যের আলোর শক্তি নিজের শরীরে নিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি দিয়ে নিজের খাবার তৈরি করে গাছ। যেভাবে তোমার আম্মু পানি ও চাল দিয়ে ভাত রান্না করেন।
গাছের খাবার বানানোর এই প্রক্রিয়ার একটি নাম দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীরা এই প্রক্রিয়ার নাম দিয়েছেন সালোক সংশ্লেষণ। বেশ কঠিন নাম! কঠিন হলেও নামটা মনে রাখতে হবে। তোমরা যখন বড় বড় ক্লাসে বিজ্ঞান পড়বে, তখন এই নামটা কাজে লাগবে।
বিজ্ঞানীরা বলেছেন, গাছের বেঁচে থাকার জন্য তিনটি মৌলিক উপাদান প্রয়োজন। এগুলো হলোÑ পানি, সূর্যের আলো ও কার্বন ডাই-অক্সাইড। আমরা যেমন বেঁচে থাকার জন্য শ্বাসের মাধ্যমে অক্সিজেন গ্রহণ করি, গাছেরা তেমনি কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে। গাছ যখন শ্বাসের মাধ্যমে কার্বন ডাই-অক্সাইড নেয়, তখন তারা অক্সিজেন বের করে দেয়। সেই অক্সিজেন নিয়ে আমরা বেঁচে থাকি। পৃথিবীতে অক্সিজেনের প্রধান উৎস হচ্ছে গাছ। তাই আমাদের বেঁচে থাকতে হলে গাছ বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
তাহলে তোমরা জানলে, গাছ সূর্যের আলোকে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করে, তারা বৃষ্টি থেকে পানি পায় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড শ্বাস নেয়। আরও জানলে, এই তিনটি উপাদান গ্রহণ ও তাদের খাদ্যে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে সালোক সংশ্লেষণ বলে।
এখন তোমার মনে প্রশ্ন আসতে পারে, গাছ কীভাবে সূর্যের আলো নিজের মধ্যে ধরে রাখে? আসলে গাছের পাতায় ক্লোরোফিল নামক একটি উপাদন থাকে। এটি ব্যবহার করে গাছ সূর্যের আলোকে নিজের মধ্যে নিয়ে নেয়। ক্লোরোফিল সবুজ, এ কারণে অনেক গাছ সবুজ দেখায়।
অনেক কঠিন কঠিন কথা শিখলে। এবার তাহলে সালোক সংশ্লেষণ নিয়ে আরেকটু বিস্তারিত বলি। একটি গাছ বা উদ্ভিদের কোষের অভ্যন্তরে ক্লোরোপ্লাস্ট নামক এক ধরনের কাঠামো থাকে। বলতে পারো ক্লোরোপ্লাস্ট একটি ঘর। ওই ঘরের মধ্যে ক্লোরোফিল থাকে।
সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার দুটি প্রধান ধাপ রয়েছে। প্রথম ধাপে সূর্যের আলো ক্লোরোপ্লাস্টে ধরা পড়ে। তারপর সেখান থেকে শক্তি নিয়ে অ্যাডিনোসিন ট্রাইফসফেট (এটিপি) নামক একটি রাসায়নিকে সংরক্ষণ করে। দ্বিতীয় ধাপে এই এটিপি চিনি ও জৈব যৌগ তৈরি করে। এই খাবার গাছ বেঁচে থাকতে ও বেড়ে উঠতে ব্যবহার করে।
সালোক সংশ্লেষণের প্রথম ধাপে অবশ্যই সূর্যের আলো থাকতে হবে। তবে দ্বিতীয় ধাপটি সূর্যের আলো ছাড়াইÑ এমনকি রাতেও ঘটতে পারে। দ্বিতীয় ধাপের একটি কঠিন নাম দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের দেওয়া নামটি হলো ক্যালভিন চক্র। বিজ্ঞানী মেলভিন ক্যালভিন ধাপটি আবিষ্কার করেছিলেন বলেই এই নাম।
আমরা বলছি, গাছের বেঁচে থাকার জন্য সূর্যের আলো ও পানি প্রয়োজন। তবে সবার কিন্তু একই পরিমাণ আলো ও পানি লাগে না। অনেকটা মানুষের মতোÑ কারও ক্ষুধা বেশি, আবার কারও কম। গাছেরও তাইÑ কারও কম পানি ও সূর্যের আলো লাগে, আবার কারও বেশি লাগে। এজন্য কিছু গাছে বেশি পানি দেওয়া হয়। কিছু গাছ সারা দিন সূর্যের আলোতে থাকতে পছন্দ করে। আবার কিছু গাছ ছায়া পছন্দ করে। তোমরা যারা ছাদে টবে গাছ লাগাও তারা এই বিষয়টি ভালো বুঝতে পারবে। দেখবে সব গাছে সমান পানি দিতে হয় না। আবার সব গাছ রোদে রাখতে হয় না। কোনো গাছে প্রতিদিন পানি দিতে হয়। আবার কোনো গাছে সপ্তাহে একবার পানি দিলেই হয়।
তাহলে আমরা শিখলামÑ উদ্ভিদের বেঁচে থাকার জন্য সূর্যের আলো, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রয়োজন। তারা এগুলো দিয়ে ক্লোরোফিলের মাধ্যমে নিজের খাবার তৈরি করে।
আরও শিখলামÑ গাছ অক্সিজেন দেয়, আমরা সেই অক্সিজেন নিয়ে বেঁচে থাকি। তাই আমাদের বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। তাহলে আমরা বেশি বেশি অক্সিজেন পাব, দম ভরে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারব।