আফসানা মিমি
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৫ ১৩:২৭ পিএম
গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চারপাশের প্রকৃতি যেমন পরিবর্তিত হয়, তেমনই ঘরের বা বাগানের গাছগুলোয়ও এর প্রভাব পড়ে। প্রখর রোদ, শুষ্ক বাতাস ও পানির অভাবে গাছের পাতা ঝরে যায় বা গাছ মরে যায়। তাই গরমের সময় গাছের সঠিক যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গাছের আর্দ্রতা ধরে রাখা
গরমের সময় গাছের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো পানির অভাব। গাছ ভালো রাখার জন্য প্রতিদিন নিয়মিত পানি দিতে হবে। তবে শুধু পানি দেওয়াই নয়, কখন পানি দেওয়া উচিত, সেটাও জানা জরুরি। সাধারণত সকালে অথবা বিকালে, যখন তাপমাত্রা কম থাকে, তখন গাছে পানি দিলে এটি ভালোভাবে শোষিত হয় এবং দ্রুত শুকিয়ে যায় না। যারা সারা দিন অফিসে থাকেন গাছে পানি দেওয়ার সময় পান না, তারা সকাল ও বিকালের পরিবর্তে রাতে গাছে পানি দিতে পারেন। টবে লাগানো গাছের ক্ষেত্রে মাটির ওপরের স্তর শুকিয়ে গেলে পানি দেওয়া উচিত।
এ ছাড়া মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে মালচিং একটি কার্যকর পদ্ধতি। গাছের গোড়ায় শুকনো পাতা, খড় বা অন্যান্য জৈব পদার্থ বিছিয়ে দিলে মাটির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং আর্দ্রতা দীর্ঘক্ষণ বজায় থাকে। এটি গাছের শিকড়কে অতিরিক্ত গরম থেকে রক্ষা করে। বিশেষ করে ফুলগাছ ও সবজির ক্ষেত্রেই মালচিং বেশি উপকারী।

তীব্র রোদ থেকে গাছকে সুরক্ষা দিতে ছায়ার ব্যবস্থা করাটা অত্যন্ত জরুরি। বারান্দায় রাখা টবের গাছগুলোকে ছায়াযুক্ত স্থানে সরিয়ে রাখা উচিত। যদি বাগানের গাছ হয়, তাহলে পাতলা কাপড় বা নেট দিয়ে ঢেকে রাখা যেতে পারে। এতে সূর্যালোকের অতিরিক্ত তাপ গাছের ওপর সরাসরি পড়বে না।
সার প্রয়োগ
গরমের সময় গাছের পুষ্টি চাহিদা বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত সার দেওয়া উচিত। জৈব সার বা তরল সার ব্যবহার করা গাছের জন্য স্বাস্থ্যকর। নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ সার বিশেষত পাতা সতেজ রাখতে সহায়ক। তবে অতিরিক্ত সার দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত, নইলে গাছের ক্ষতি হতে পারে। কম্পোস্ট, ভার্মি কমপোস্ট বা নিম তেল মিশ্রিত পানি ব্যবহার করতে পারেন।
পোকামাকড় দমন
গরমে পোকামাকড়ের উপদ্রব তুলনামূলক বেড়ে যায়, বিশেষ করে মিলিবাগ, মাকড়সা মাইট, অ্যাফিড ইত্যাদি। তবে পোকা দমন করতে রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার করা থেকেও বিরত থাকতে হবে। নিম তেল বা অন্যান্য প্রাকৃতিক কীটনাশক ব্যবহার করে পোকামাকড় দমন করা যেতে পারে। সেই সঙ্গে নিয়মিত গাছের পাতা ও ডাল পরীক্ষা করা জরুরি। এ ছাড়া গাছের আশপাশে পরিষ্কার রাখলে পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়।
জলাবদ্ধতা দূরীকরণ
গরমে অতিরিক্ত পানি দেওয়া হলেও মাটিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে টবের গাছের ক্ষেত্রে তলার ছিদ্রটি পরিষ্কার রাখা উচিত, যাতে করে বাড়তি পানি বের হয়ে যেতে পারে। জলাবদ্ধতা গাছের শিকড়ের ক্ষতি করতে পারে এবং পচন ধরাতে পারে।
ঝরঝরে মাটি
মাটি যেন পানি ধরে রাখতে পারে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। কাদা বা খুব শক্ত মাটি হলে তাতে কিছুটা বালু ও জৈব সার মিশিয়ে দিলে মাটি ভালো থাকবে। গরমে মাটি ফেটে গেলে হালকা কুপিয়ে আলগা করে দিন, এতে বাতাস ঢুকে শিকড় সতেজ থাকবে।
নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার
নিয়মিত গাছের টবে হওয়া আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। চারাগাছের অন্যতম বড় শত্রু এসব আগাছা। গরমে অনেক সময় চারা তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়। আগাছা বেশি হলে এমনটা হতে পারে। তাই এসব আগাছা ছাঁটাই করলে চারা যেমন দ্রুত বড় হবে, তেমনি থাকবে সতেজ।
ছাদবাগানে সতর্কতা
এই মৌসুমে ছাদ চাষিদের চিন্তা একটু বেশিই থাকে। কারণ সূর্যের আলো বা তাপ সবটুকুই ছাদের ওপর পড়ে। তাপ তীব্র হলে ছাদে যাওয়াই মুশকিল। তাই প্রথমেই গাছগুলোর জন্য ছায়া নিশ্চিত করতে হবে। টবসহ গাছগুলো সরিয়ে ছায়াযুক্ত স্থানে রাখতে হবে। অনেকের ছাদে জায়গা ফিক্সড করে দেওয়া থাকে গাছের জন্য। এমন হলে সূর্যের আলো প্রতিরোধ করতে গাছের ওপর গ্রিন শেড দিলে গাছগুলো সুরক্ষিত থাকবে।
গরমের সময় গাছের সঠিক যত্ন নেওয়া প্রয়োজন, যাতে তারা তীব্র তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে এবং সতেজ থাকে। ওপরের কিছু সহজ পদক্ষেপ অনুসরণ করলে আপনার প্রিয় গাছগুলোকে গরমেও সুস্থ, সবুজ রাখা সম্ভব।