অদ্বৈত মারুত
প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৫ ১২:২০ পিএম
আপডেট : ০৩ মে ২০২৫ ১২:৩৫ পিএম
অলংকরণ :তাসফিয়া মাহির সামিরা, পঞ্চমে শ্রেণি, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
আগে এমন হয়নি। সে রাতেই প্রথম ঘটনাটি ঘটল। রাহাম ঘুমিয়ে পড়েছিল সন্ধ্যারাতেই। মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল তার। সঙ্গে সঙ্গে সে কী চিৎকার! অমন আকাশপাতাল এক করে চিৎকার করলে আর কেউ ঘুমিয়ে থাকতে পারে, বলো? রাহামের মা যেমন পারল না, তেমন বাবাও। সবাই তড়িঘড়ি করে ছুটে এলেন রাহামের কাছে। এমনকি পাশের ঘর থেকে দুই হাতে চোখ কচলাতে কচলাতে ছুটে এলো ছোটবোন হিমু। সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে রাহামের দিকেÑ কী হলো এমন!
রাহাম মায়ের গলা
জড়িয়ে ধরল। আদুরে গলায় বলল, উঁহু, খুব মাথাব্যথা করছে গো! ব্যথায় মরে যাচ্ছি!
মা কপালে হাত
রাখলেন, চিন্তিত গলায় বললেন, কই, জ্বর তো নেই। তাহলে হঠাৎ মাথাব্যথা কেন?
রাহাম একটু চুপ
থেকে আস্তে করে বলল, আমি ম্যাজিক বইয়ের ওপরে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম!
মা হেসে ফেললেন।
ঠিক তখনই জানালার বাইরে কিছু একটা পড়ার শব্দ হলো।
রাহাম জানালার
দিকে তাকাল। বাইরে একটা গাছে বসে আছে বিশাল এক প্যাঁচা। গা ঘুরিয়ে, চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে
আছে তার দিকেই। হঠাৎ প্যাঁচা কথা বলে উঠল!
Ñআমি প্যাঁচা
মামা। তুমি যে বইয়ের ওপরে ঘুমিয়েছিলে, সেটা আমার দাদার দাদার বই!
রাহাম আঁতকে উঠল।
Ñতাহলে মাথাব্যথা
কেন?
প্যাঁচা মামা
বলল, বইটা রাতে তোমার মাথার মধ্যে অঙ্কের প্রশ্ন ঢুকিয়ে দিয়েছে। তাই ব্যথা!
রাহাম বলল, হুম,
স্বপ্নে দেখেছি, ৫ + ৫ = চিতল মাছ!
প্যাঁচা মামা
হেসে বললেন, চিন্তা কোরো না। মাথাব্যথা আমি ঠিক করে দেব। তবে তার আগে আমাকে তিনটা জিনিস
দিতে পারো কি না দেখোÑ এক চামচ হাসি, এক ফোঁটা চিংড়ির ঘ্রাণ আর একটা পুরোনো বালিশের
গল্প!
রাহাম হেসে ফেলল,
দৌড়ে রান্নাঘরে গেল। চিংড়ির হাড়ি খুলে একটু ঘ্রাণ নিল, তারপর নিজের পুরোনো বালিশটা
নিয়ে এসে বলল, এই বালিশ একবার আমাকে স্বপ্নে বালিশপুরে নিয়ে গিয়েছিল!
প্যাঁচা মামা
খুশি হয়ে হাঁড়িতে সব ঢাললেন। তারপর ফুঁ দিলেনÑ ঝুং ঝাং ঝুম! ব্যথা গিয়ে আয় ঘুম!
রাহামের মাথা
ঠান্ডা হয়ে গেল, ব্যথাও মিলিয়ে গেল!
সে খুশিতে বলে
উঠল, ইস! এটা তো মজার মাথাব্যথা!
প্যাঁচা মামা
চোখ টিপে বললেন, সব মাথাব্যথা খারাপ হয় না। কিছু মাথাব্যথা দারুণ গল্প তৈরি করে দেয়।
তারপর ডানা মেলে
উড়ে গেলেন দূরে কোথাও।
রাহাম জানে, মাথাব্যথা
এলেই একটা নতুন গল্প অপেক্ষা করে তার জন্য!