আরিফ ইসলাম
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৫ ১২:৩২ পিএম
আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৫ ১৬:০৯ পিএম
ভ্রমণ জীবনের একটি সুন্দর অভিজ্ঞতা, যেখানে কিছুদিনের জন্য আমরা রুটিন জীবন থেকে দূরে গিয়ে নিজের ও প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটাই। তবে এ আনন্দময় অভিজ্ঞতাটি যেন কোনো ঝামেলা ছাড়াই উপভোগ করা যায়, তার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় ইলেকট্রিক গ্যাজেট সঙ্গে রাখা জরুরি। বিশেষ করে যদি ভ্রমণকাল তিন থেকে সাত দিনের হয়, তখন প্রতিদিনের ছোটখাটো চাহিদার কথা মাথায় রেখে একটু পরিকল্পনা করলেই যাত্রা হয় অনেক বেশি আরামদায়ক ও প্রযুক্তিসহায়ক।
মোবাইল ফোন ও পাওয়ার ব্যাংক
মোবাইল ফোন তো বটেই, একটা ভালো মানের পাওয়ার ব্যাংক এ তালিকায় সবার ওপরে। কারণ অনেক সময় রাস্তায় বা দূরবর্তী স্থানে চার্জ করার সুযোগ পাওয়া যায় না। অন্তত ১০,০০০mAh বা তার বেশি ক্যাপাসিটির একটি পাওয়ার ব্যাংক সঙ্গে রাখলে ফোন, ক্যামেরা বা অন্যান্য ছোট ডিভাইস চার্জ দেওয়া সহজ হয়।
ক্যামেরা ও আনুষঙ্গিক
ভ্রমণের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য অনেকেই ফোনের বাইরে ক্যামেরা ব্যবহার করেন। ডিএসএলআর হোক বা ছোট কোনো অ্যাকশন ক্যাম, তার সঙ্গে অবশ্যই নিতে হবে অতিরিক্ত ব্যাটারি, মেমোরি কার্ড, চার্জার ও একটি হালকা ট্রাইপড। যারা ভিডিও করেন বা ব্লগিং করেন, তাদের জন্য ছোট একটি মাইক্রোফোনও বেশ উপকারী হতে পারে।

মাল্টিপ্লাগ ও ইউএসবি হাব
হোটেল বা রিসোর্টে অনেক সময় পর্যাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট পাওয়া যায় না। তাই একটি মাল্টিপ্লাগ বা ইউএসবি হাব সঙ্গে থাকলে একসঙ্গে একাধিক ডিভাইস চার্জ দেওয়া যায়। এতে সময় ও ঝামেলা দুটোই বাঁচে।
টর্চলাইট ও হেডল্যাম্প
যারা ট্রেকিং বা অফবিট জায়গায় যান তাদের জন্য টর্চ বা হেডল্যাম্প অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বিদ্যুৎ না থাকলেও এসব আলোয় রাস্তাঘাট, তাঁবু বা হোটেল রুমে চলাফেরা সহজ হয়।
পোর্টেবল ফ্যান বা হিটার
গ্রীষ্মকালে ভ্রমণে থাকলে ছোট একটি রিচার্জেবল ফ্যান আরাম এনে দেয়। আবার শীতপ্রধান এলাকায় গেলে হ্যান্ড হিটার বা হিটিং প্যাড কাজে লাগতে পারে।
ইলেকট্রিক কেটলি বা হটপট
অনেকেই সকালে চা বা কফি ছাড়া শুরু করতে পারেন না। দূরবর্তী স্থানে গেলে খাবার গরম করতেও ছোট একটি ইলেকট্রিক কেটলি দারুণ উপকারী হতে পারে।
ব্লুটুথ স্পিকার ও অন্যান্য
ভ্রমণের সময় ছোট একটি ব্লুটুথ স্পিকার পরিবেশ প্রাণবন্ত করে তোলে। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যাতে অন্য পর্যটকরা বিরক্ত না হন।
নয়েজ ক্যানসেলিং হেডফোন
কখনও কখনও ভ্রমণ বিরক্তিকর হয়ে উঠতে পারে অতিরিক্ত শব্দের কারণে। বিমানে বাচ্চাদের কান্নার শব্দ, হোটেলে প্রচুর কথা বলা প্রতিবেশী অথবা এয়ারপোর্ট বা রাস্তার নানান শব্দ মেজাজ বিগড়ে দিতে পারে। তাই ব্যাগে রাখতে পারেন নয়েজ ক্যানসেলিং হেডফোন। এটি ব্যবহারে শব্দ তো কমবেই, সঙ্গে পরে থাকতেও আরাম, সাউন্ড কোয়ালিটিও দুর্দান্ত।
ই-রিডারস
ঘুরতে গেলে নানান জিনিসের ভারে বই বহন করাটা একটু ঝামেলারই বটে। এতে ব্যাগের ওজন বেড়ে যায়। তাই বই পড়ার আগ্রহ থাকলে ই-রিডারগুলো সঙ্গে নিতে পারেন। পুরো লাইব্রেরিটাই সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে পারবেন সহজেই। যেমন কিন্ডল ই-রিডারের দারুণ একটি অপশন।
জিপিএস ট্র্যাকার
ভ্রমণে বের হয়ে লাগেজ বা ব্যাগ হারিয়ে গেলে সেই ট্রিপ তখন দুঃস্বপ্নের মতো মনে হয়। এ সমস্যায় পড়ে পুরো ট্রিপ নষ্ট করতে না চাইলে জিপিএস ট্র্যাকার ব্যবহার করতে পারেন। আপনার জিনিসপত্রের ট্র্যাক এটি রাখবে, আর আপনি নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াতে পারবেন।
পোর্টেবল ওয়াটার পিউরিফায়ার
ঘুরতে গেলে যে সব জায়গায় আপনি পরিচ্ছন্ন ও বিশুদ্ধ খাবার পানি পাবেন তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। একটি পোর্টেবল ওয়াটার পিউরিফায়ার থাকলে যেকোনো জায়গায় বিশুদ্ধ পানি পান করার নিশ্চয়তা থাকে। তাই ট্যুরে গেলে এ গ্যাজেটটি সঙ্গে রাখতে পারেন।
স্মার্ট ভ্রমণ শুধু ডেস্টিনেশননির্ভর নয়, বরং প্রস্তুতির ওপরও নির্ভর করে। তিন থেকে সাত দিনের ট্যুরে একটু পরিকল্পনা করে প্রয়োজনীয় ইলেকট্রিক গ্যাজেট সঙ্গে রাখলে যাত্রাপথ হয় অনেক বেশি নিশ্চিন্ত, আনন্দময় এবং প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আরও স্মার্ট। অতএব ব্যাকপ্যাক গোছানোর সময় এ গ্যাজেটগুলোর জায়গা দিতে ভুলবেন না।