শাকিব হুসাইন
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৫ ১১:১৭ এএম
আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২৫ ১১:২৭ এএম
অলংকরণ : মিথিলা ভৌমিক, নবম শ্রেণি, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
ডাস্টবিনটা হাঁ করে আছে। হাআআ! হাআআ!
এ বাব্বাহ্, কত্ত বড় মুখ! ডিম্বাকৃতির।
ইস, খাবারদাবার খায় না বুঝি!
খেতে আর পায় কই? না খেয়ে আছে। সেই সকাল থেকে দুপুর অবধি। মনটা বেজায় দুঃখী। আশেপাশে খাবার দেখছে। কিচ্ছুটি নেই।
‘কপালটা বুঝি বড্ড খারাপ।
এই তো একটা মানুষ আসছে। হাতে একটা বাদামের ঠোঙা।
এবার মনে হয় কিছু জুটবে মুখে।’ ডাস্টবিনটা মনে মনে ভাবল।
একি, এ যে গুড়ে বালি!
মানুষটা সামনে দিয়ে গেল।
বাদামের ঠোঙাটা সামনে ফেলে দিল। মুখে দিতে পারল না! আচ্ছা পাজি মানুষ তো!
‘এই তো আরেকটা মানুষ আসছে। কলা খেতে খেতে। এবার নেহাত কলার খোসাটা জুটবে।’ আবারও ভাবল ডাস্টবিনটা।
ইস, এ মানুষটাও আচ্ছা পাজি তো! কলার খোসাটা মুখে না দিয়ে কী করল?
পেটে মারল।
কলার খোসা কি আর ওখানে থাকে! ফট করে নেমে গেল নিচে। নেমেই চট করে ঘুমিয়ে গেল।
না এভাবে আর থাকা যাচ্ছে না।
এবার ডাস্টবিনটা বাদাম ঠোঙাকে ডাক দিয়ে উঠল, ‘বাদাম ঠোঙা ভাই, ও বাদাম ঠোঙা ভাই।’
বাদাম ঠোঙাটা এতক্ষণ ঘুমোচ্ছিল। এই যা কাঁচা ঘুমটা ভেঙে গেল তার!
হাওয়ায় একটা ঘুরপাক খেয়ে বলল, ‘কে ডাকে এ সময়। সদ্য কাঁচা ঘুমটা নষ্ট করে দিল। কে ডাকে শুনি?’
‘আমি গো আমি।’
‘ওহ্, ডাস্টবিন, তুমি। তা এই ভরদুপুরে ডাকছ কেন বাপু?’
‘আসলে হয়েছে কী, সকাল থেকে এখন অবধি কিচ্ছুটি পড়েনি পেটে। তুমি চট করে পেটে ঢুকে পড়ো তো।’
‘ইস! শখ কত! বললে আর চলে গেলাম। তোমার শুধু খাইখাই বাপু। আমি এখানেই দিব্যি আছি। তোমার পেটে গিয়ে করবটা কী শুনি?’
‘ও বাদাম ঠোঙা ভাই রাগছ কেন গো! এই যে দেখছ না আকাশবুড়োটা কেমন বুম মেরে আছে। একটু পর তো বৃষ্টিছানারা নামবে। তারপর...’
‘তারপর কী বাপু?’
‘তুমিও ভিজে শেষ হয়ে যাবে। এরচে আমার পেটে এসে লুকাও দিকিনি। শান্তিতে ঘুমুতে পারবে।’
‘এভাবে তো ভেবে দেখিনি বাপু। তুমি তো ঠিকই বলেছ। তা আমাকে নিয়ে যাবে কে তোমার পেট অবধি?’
‘দাঁড়াও একটু ভাবতে তো দাও।
ইউরেকা! ইউরেকা! পেয়েছি পেয়েছি। বুদ্ধি পেয়েছি।’
‘তা কী বুদ্ধি পেলে শুনি?’
‘হাওয়া বুড়োকে একবার বলে দেখি।’
‘একদম একদম। ডাকো ডাকো।’
ডাস্টবিনটা হাওয়া বুড়োকে ডাকতে শুরু করল। হাওয়া বুড়োও শনশন করে চক্কর খেতে খেতে হাজির। চক্কর খেতে খেতে বলল, ‘তা ডাকছিলে কেন?’
‘বাদাম ঠোঙাকে আমার মুখে এনে দাও না হাওয়া বুড়ো।’ ডাস্টবিন বলল।
হাওয়া বুড়ো বলল, ‘ওহ, এই কথা। নে বাদাম ঠোঙা চড়ে বস আমার পিঠে।’
বাদাম ঠোঙা চড়ে বসল হাওয়া বুড়োর পিঠে। হাওয়া বুড়োও ফুঁস করে নামিয়ে দিল ডাস্টবিনের পেটে। ইস, ডাস্টবিনটা কতক্ষণ পর একটু খেলো। বাদাম ঠোঙাটা ডাস্টবিনের পেটে গিয়ে জম্পেশ ঘুমিয়ে গেল।
ডাস্টবিনটা ভাবল, ‘এবার কলার খোসাকে ডাক দেয়া যাক।’
অমনি ভাবনা অমনি ডাক।
ডাক ছেড়ে উঠল, ‘কলার খোসা ভাই ও কলার খোসা ভাই। একটু শুনবে?’
কলার খোসাটা চোখ কচলিয়ে বলল, ‘ওকি, ডাস্টবিন যে। ডাকছ বুঝি?’
‘শুধু শুধু মাটিতে পড়ে পড়ে ঘুমোচ্ছ। এরচে আমার পেটে এসে ঘুমাও না। শান্তিতে ঘুমোবে।’
‘কেন, কেন? তোমার পেটে ঘুমাতে হবে কেন?’
‘এই যে দেখো, একটু পর তো বৃষ্টিছানারা নামবে। ভিজে একাকার হবে। তারপর উঠবে চকচকে রোদ। তখন তো শুকিয়ে যাবে। তোমার চেহারা সুরত হবে বিদঘুটে। দুর্গন্ধ ছড়াবে চারদিকে। পরিবেশের ক্ষতি করবে। তারচে ভালো আমার পেটে এসে আরামসে ঘুমাও না।’
‘তুমি তো ঠিকই বলেছ। আমিও দুর্গন্ধ ছড়াতে চাই না। আমার জন্য পরিবেশের ক্ষতি হোক তা আমি কক্ষনো চাই না। আমি যাব তোমার পেটে। কেমনে যে যাই?
‘হাওয়া বুড়ো তো আর তোমাকে তুলতে পারবে না। দাঁড়াও একটু ভাবতে দাও।
ইউরেকা! পেয়েছি।’
‘তা কী পেলে শুনি?’
‘ওই যে একটা মানুষ আসছে। তোমার সামনে দিয়েই যাবে। দেখছ না চোখদুটো ওপরে করে হাঁটছে। একবার তোমার ওপরে পা পিছলে পড়ুক। তারপর দেখো শুধু।’
ওমা! ঠিকই ঠিকই মানুষটা কলার খোসার ওপরে পা পিছলে আলুর দম। কোনোমতে উঠেই কলার খোসাকে মারল ছুড়ে ডাস্টবিনের মুখে। ডাস্টবিনও গপ করে গিলে ফেলল। আর কলার খোসা তো পেটে গিয়েই আরামসে ঘুমিয়ে গেল!
এই যে, ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা কিন্তু সাবধানে হাঁটাচলা করবে, হ্যাঁ। আব্বুর হাত ধরে। আম্মুর হাত ধরে। আর কিছু খেলেই প্যাকেটটা ডাস্টবিনকে খেতে দেবে, কেমন! তুমিও খেলে। ডাস্টবিনও খাবে। কত্ত মজা, তাই না!!!!