সাদিয়া মোস্তফা
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৫ ১৩:৪২ পিএম
ঘরের প্রধান সৌন্দর্য হচ্ছে ফার্নিচার। এর মাধ্যমে প্রকাশ পায় শৈল্পিক রুচিরও। সঠিক যত্নের অভাবে ফার্নিচার হারাতে পারে আভিজাত্য ও স্থায়িত্ব। তাই ঘরের প্রতিটি ফার্নিচারের সঠিক যত্ন নেওয়া জরুরি। সঠিক পরিচর্যা করলে দীর্ঘদিন ফার্নিচার নতুনের মতো থাকবে। চলুন এ নিয়ে কিছু টিপস জানা যাক।
নিয়মিত পরিষ্কার করুন
ফার্নিচারের নকশার ফাঁকে ফাঁকে ধূলিকণা জমে থাকে। নিয়মিত পরিষ্কারের অভাবে ফার্নিচার তার সৌন্দর্য হারাতে পারে। প্রতিদিন সম্ভব না হলেও এক-দুই দিন পরপর শুকনো নরম সুতি কাপড় দিয়ে ফার্নিচার পরিষ্কার করতে হবে। কাঠের ফার্নিচার পরিষ্কারে কখনোই ভেজা কাপড় ব্যবহার করা উচিত নয়। শুকনো সুতি কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। লেদারের ফার্নিচারের জন্য হালকা ভেজা অর্থাৎ পানি নিংড়ে কাপড়টি দিয়ে পরিষ্কার করে তারপর শুকনা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। গ্লাসের ফার্নিচার বা টেবিল ভিনেগারমিশ্রিত পানি বা গ্লাস ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করে তারপর শুকনা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন।

গরম তাপ থেকে দূরে রাখুন
সূর্যের গরম তাপ বা সূর্যের ক্ষতিকর ইউভি-রশ্মি ফার্নিচারের রঙ নষ্ট ও ফার্নিচারে ফাটল সৃষ্টি করে। তাই সরাসরি রোদে ফার্নিচার রাখা থেকে বিরত থাকুন। প্রয়োজনে ঘরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন অথবা জানালায় ভারী পর্দা ব্যবহার করুন।
ম্যাট ব্যবহার করুন
কখনোই ফার্নিচারের ওপর গরম কিছু রাখবেন না, এতে ফার্নিচারের গায়ে দাগ পড়ে এবং রঙ নষ্ট হয়। তাই সব সময় ফার্নিচারের ওপর ম্যাট ব্যবহার করবেন। একইভাবে গ্লাস টেবিল/ডাইনিং টেবিলের ওপরও গরম জিনিস বা পাত্র রাখবেন না, টেবিল ম্যাট বা টেবিলের ওপর কাপড় ব্যবহার করুন। ফার্নিচারের গায়ের দাগ দূর করতে লেবুর রস ও অলিভ অয়েলের মিক্সচার খুবই কার্যকর। ১ টেবিল চামচ লেবুর রসের সঙ্গে ২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে কাঠের ফার্নিচারের ওপর লাগিয়ে নরম কাপড় দিয়ে দাগ তুলে ফেলুন। এরপর শুকনা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন।
পোকামাকড়ের হাত থেকে সুরক্ষা
যেকোনো ফার্নিচারের প্রধান শত্রু ঘুণ পোকামাকড়। যেকোনো ফার্নিচারে পোকামাকড়ের উপদ্রব হতে পারে। বিশেষ করে কাঠের ফার্নিচারে ঘুণ, তেলাপোকার উপদ্রব হয়। ফার্নিচার পোকামাকড় থেকে রক্ষা করতে নিমপাতা, কর্পূর, নিমের তেল বা স্পিরিট একসঙ্গে মিশিয়ে স্প্রে তৈরি করে নিন। এ স্প্রে ফার্নিচার পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা করবে। ফার্নিচারে যেন উপদ্রব না হয় তাই ছয় মাস পরপর নিমের তেল স্প্রে করুন। এ ছাড়া এক মাসে একবার নারকেল তেলের সঙ্গে কর্পূর মিশিয়ে ফার্নিচারের কোনায় দিয়ে রাখুন, এতে পোকামাকড় সমস্যায় ভালো সমাধান পাবেন।
আঁচড় বা দাগ প্রতিরোধ
স্থানান্তর করতে গিয়ে অনেক সময় ধাক্কা খেয়ে ফার্নিচারে আঁচড় লাগতে বা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কাচের হলে আঘাত লেগে ভেঙে যেতে পারে তাই ফার্নিচার সরানোর সময় অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। মডার্ন ফানিচারগুলো এখন বিভিন্ন ফাংশন দিয়ে তৈরির ফলে সহজে বাঁকানো যায়, ফার্নিচার সরানোর সময় সেগুলা অবলম্বন করতে হবে। প্রয়োজনে শক্ত কাঠবোর্ড বা মোড়ক দিয়ে মুড়িয়ে নিলে আর সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হবে না এবং আঁচড় বা দাগ ও পড়বে না।
ফার্নিচার মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ
পুরোনো ফার্নিচার রক্ষণাবেক্ষণ করতে রঙ বা বার্নিশ অনেক কার্যকর পদ্ধতি। বিশেষ করে কাঠের ফার্নিচার এক-দেড় বছর পরপর বার্নিশ করলে ভালো থাকে, উজ্জ্বলতা বেড়ে নতুনের মতো দেখায়। লেদার ফার্নিচারের ক্ষেত্রে কয়েক মাস পরপর লেদার কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। স্টিলের ফার্নিচারে মরিচা ধরা প্রতিরোধ করতে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন এবং প্রয়োজনে অ্যান্টি-রাস্ট স্প্রে ব্যবহার করুন। অন্য ফার্নিচারগুলো পলিশিং করলে বেশিদিন টেকসই হবে। পুরোনো ফার্নিচারও নতুন রঙ বা পালিশ করে নতুনের মতো করে তুলতে পারেন। এ ছাড়া ফেটে যাওয়া ফার্নিচারগুলো মেরামত করুন দ্রুত, না হলে ভেঙে পড়তে পারে।