হুমায়রা রহমান
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৫ ১১:৫৯ এএম
আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৫ ১৫:১২ পিএম
অলংকরণ : মিথিলা ভৌমিক। নবম শ্রেণি, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
দিপ্পি বইটা ছিঁড়ে ফেলল। মা দেখলেন দিপ্পি জেদ করে বই ছিঁড়ে ফেলেছে। তিনি প্রচণ্ড রেগে গেলেন। দিপ্পিকে বকা দিয়ে বললেন, দিপ্পি-ই! ই! তোমার এত বড় সাহস! কেন বই ছিঁড়ছো? আমি এক্ষুনি হিমালয় ভূতকে ডাকব। তাকে বলব, তুমি খুব দুষ্টুমি করছো। দাঁড়াও হাঁকছি।
মা হাঁকেÑ হিমালয় ভূউউত! তুমি কোথায়? হিমালয় পাহাড়ে? এসো।
দুষ্টু ছেলে দিপ্পি
দুষ্টুমি করছে হেব্বি
এসো! এসো! নিয়ে যাও, নিয়ে যাও
হিমালয় পাহাড়ে
সবচেয়ে উঁচু, আহারে।
অমনি হিমালয় ভূতটা চলে এলো। মা বলল, দেখ, এই হচ্ছে দিপ্পি। ওকে নিয়ে যাও তো।
হিমালয় ভূত তো মানুষের বাচ্চা ধরে না। সে বলল, মানুষের বাচ্চা আমি ধরি না তো। তাই বলছি আমাকে ধরতে বোলো না!
দিপ্পি কিছুটা শান্তি পেল। ওর বুকটা ফুলে উঠল। এখন ওর সাহস কিছুটা ফিরে এসেছে। হিমালয় ভূতটাকে সে বলল,
মানুষের বাচ্চা ধরো না
ধরোটা কী?
মানুষের মাকে ধরো?
মানুষের বাবাকে ধরো?
হিমালয় ভূতটা বলল,
থাকি আমি পাহাড়ে
কত খাবার সেখানে
আহারে!
দিপ্পি বলল,
সেখানে কী পাওয়া যায়?
কুকুর বিড়াল?
হাঁস মুরগি?
হিমালয় ভূত বলল,
আস্ত ছাল ছাড়ানো
সুস্বাদু মাংসের স্তূপ
পাওয়া যায় সেখানে খুব!
দিপ্পি বলল,
কীসের মাংস?
গরু? ছাগল?
হাঁস? মুরগি?
ঠিক বলেছি কি?
হিমালয় বলল, ভেড়া।
মা এতক্ষণ ধরে শুনছিল সবকিছু। এবার প্রশ্ন করার পালা। মা প্রথমে হিমালয়কে বলল, আচ্ছা হিমালয়, তুমি থাকো কোথায়?
হিমালয় মাথা নাড়িয়ে বলল, আমার কোনো থাকার জায়গা নেই।
মা হিমালয়কে কিছু বলবে বলে ঠোঁট ফাঁক করবেন, ঠিক তখনই দিপ্পি হিমালয়কে বলল, আচ্ছা, তুমি আমাদের এখানে থাকবে?
হিমালয় হেসে বলল, হ্যাঁ।
এর পর থেকে হিমালয় দিপ্পিদের বাসায় থাকে। দিপ্পি হিমালয়কে নিজের বন্ধুর মতো এবং মা নিজের ছেলের মতো আগলে রেখেছে।
হিমালয়কে তারা কখনও কোনো কষ্ট পেতে দেয়নি।