হাবিব ওসমান
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৫ ১২:৪২ পিএম
মাত্র ১৩ বছর বয়সের একটি ছেলে। নতুন কিছু উদ্ভাবন করাই যেন তার নেশা। মজার মজার গল্প বলা রোবট বানিয়ে রীতিমতো সবাইকে চমকে দিয়েছে সে। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌর এলাকার আড়পাড়া গ্রামের শাহজাহান আলী ও আদুরি বেগম দম্পতির একমাত্র ছেলে আল সিয়াম। সে স্থানীয় শোয়াইবনগর দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এ বয়সেই সিয়াম নিজ মেধা খাটিয়ে তৈরি করেছে বাস, ট্রাক, ট্রাক্টর, ডাম্প ট্রাক, মিনিবাস, গাড়ি, নানা রকম খেলনাসহ মজার মজার গল্প বলা ছোটবড় বেশ কয়েকটি রোবট। কিশোর সিয়ামের এ প্রতিভায় মুগ্ধ পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীসহ সবাই। শুধু তাই নয়, বাড়িতে রীতিমতো ছোট্ট একটি গবেষণাগার বানিয়ে ফেলেছে সে। এ গবেষণাগারে রয়েছে নানা ধরনের স্বল্পমূল্যের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি। এ ঘরে বসেই সে তৈরি করেছে রোবট, স্মার্ট বাসসহ একাধিক ছোটবড় যানবাহন। তার তৈরি রোবট কথার উত্তর দিচ্ছে, বলছে গল্প, এমনকি আজানও দিচ্ছে সাবলীলভাবে।
সিয়ামের মা আদুরি বেগম জানান, ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি সিয়ামের উদ্ভাবনের ব্যাপারে বেশ আগ্রহ। তাদের আর্থিক অবস্থা ভালো না। সিয়ামের এসব উদ্ভাবনের জন্য টাকার প্রয়োজন হয় আর টাকা ম্যানেজ করার জন্য তিনি বাসায় পোল্ট্রি মুরগির ছোট একটি ফার্ম করেছেন। এসব যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ফার্মের মুরগি বিক্রি করে ওর উদ্ভাবনের টাকা সংগ্রহ করা হয়। টাকা জোগাড় করতে তার খুব কষ্ট হলেও ছেলের প্রতিভার কাছে সব কষ্টই দিনশেষে কমে যায়। সিয়ামের বাবা অসুস্থ। তিনি এসবের জন্য মোটেও রাজি ছিলেন না। ওর টুকিটাকি যন্ত্রপাতি কেনার জন্য অর্থ মা নিজেই জোগাড় করেন। পরে ছেলের আগ্রহ দেখে তার এসব তৈরি করার জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।
-67f616b0aef06.jpg)
আল সিয়ামের বাবা শাহজাহান আলী প্রথমে ছেলের এসব তৈরি করা পছন্দ করতেন না। ছেলের আগ্রহ দেখে পরে টুকিটাকি জিনিস কিনে দেন। তবে ছেলের সব যন্ত্রপাতি কিনে দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব না। সিয়ামের চাহিদামতো যন্ত্রপাতি কিনতে সহযোগিতা করলে ভালো কিছু তৈরি করতে পারবে বলে বিশ্বাস করেন সিয়ামের বাবা-মা ও এলাকাবাসী।
প্রতিবেশী আসগর আলী বলেন, ‘শাহজাহান ভাই খুবই গরিব মানুষ। বর্তমানে অসুস্থ থাকায় কাজ করতে পারেন না। তার ছেলে সিয়াম অনন্য প্রতিভার অধিকারী। সে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময়ই আশ্চর্য সব যন্ত্রপাতি তৈরি করা শুরু করে। এখন দেখছি ছোটবড় বেশ কয়েকটি রোবট তৈরি করেছে। সে হাঁটাচলা করছে আবার রোবটের কাছে কিছু জিজ্ঞাসা করলে উত্তর দিচ্ছে সাবলীলভাবে। আবার সুমধুর সুরে আজানও দিচ্ছে। এ রোবটসহ সে ট্রাক, মাটি কাটা ভেকু মেশিন, গাড়ি, প্রাইভেট কার, স্মার্ট বাস, ট্রাক্টরসহ অসংখ্য আশ্চর্য সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি তৈরি করেছে। সিয়ামকে যদি সরকারিভাবে সাহায্য করা যায় তাহলে সে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে। তার তৈরি যন্ত্রপাতি জনকল্যাণকর কাজে ব্যবহৃত হবে বলে আমি মনে করি।’
-67f616c8b5d5b.jpg)
নিজের উদ্ভাবন নিয়ে সিয়াম বলে, ‘আমি স্মার্ট বাস, ট্রাক, রোবটসহ একাধিক যন্ত্র তৈরি করেছি। আমার তৈরি রোবট আমার বানানো ডিভাইস দিয়ে চালাই। পড়ালেখার পাশাপাশি এগুলো আমি তৈরি করি। আমার স্বপ্ন আমি এমন কিছু আবিষ্কার করব যা দিয়ে দেশের উপকার হবে। আমি সরকারিভাবে যদি কিছু সহযোগিতা পাই তাহলে আশ্চর্য কিছু তৈরি করব, যা দেশের কাজে লাগবে। আমার অনেক স্বপ্ন কিন্তু অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করতে পারছি না। রাতে শুয়ে আমি অনেক কিছু কল্পনা করি কিন্তু অর্থের অভাবে সেগুলো বাস্তবে রূপ দিতে পারি না।’
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেদারুল ইসলাম বলেন, ‘আল সিয়াম রোবটসহ বিভিন্ন জিনিস উদ্ভাবন করেছে এটা নিঃসন্দেহে একটি ভালো কাজ। সে অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। আল সিয়ামই খুদে বিজ্ঞানী থেকে একদিন নামকরা বিজ্ঞানী হবে এবং তাকে দিয়ে দেশের কল্যাণকর কাজের অগ্রগতি হবে বলে আমি মনে করি। তার কোনো সহযোগিতা লাগলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সিয়ামের পাশে থাকব।’