জাহিদ খান
প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০২৫ ১২:১২ পিএম
বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে কান্ডারি
‘ছোটবেলা থেকে আমাদের বাড়িতে কেউ সাহায্য চাইতে এসে আমি কখনই খালি হাতে যেতে দেখিনি। তাই ছোট থেকে এ ইচ্ছা ছিলÑ বড় হয়ে অসহায় মানুষের জন্য কিছু করব। মাকে সব সময় বলতাম একটি শেল্টার থাকবে, রাস্তার সব পশুর রাখব, ট্রিটমেন্ট করব। আরেকটি শেল্টার থাকবে যেখানে এতিম বাচ্চারা থাকবে, পড়াশোনা করবে, আর থাকবে অসহায় বৃদ্ধরা।’ কথাগুলো বলছিলেন ‘কান্ডারি’ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও আফসারা তাসনীম আলভী।
সামাজিক সংগঠন কান্ডারি বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা আলভী বলেন, ‘বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আমার উপলব্ধি হয় চর এবং পাহাড়ি অঞ্চলের শিশুদের নিয়ে। আমি নিজে পাহাড়ি অঞ্চলে ঘুরতে গিয়ে দেখেছি সেখানকার শিক্ষার অবস্থা উন্নত নয়। আমাদের বাড়িতে দেখেছি অনেক মেয়ে কাজের জন্য আসত দক্ষিণাঞ্চল থেকে, যাদের খুব কম বয়সেই বিয়ে হয়ে গেছে।’
করোনা মহামারিতে পৃথিবী যখন থমকে গেছে তখন কান্ডারি অসহায় মানুষের জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে গেছে। সে সময়ের কথা স্মরণ করে আলভী বলেন, ‘কোভিডে পুরো পৃথিবী যখন থেমে গেছে তখন আমার পুরো পরিবার কোভিড-১৯ আক্রান্ত। দেশের বাইরে ভিন্ন স্টেটে থাকার কারণে আমি তাদের কাছ থেকে দেখতে পারিনি। সবকিছু মিলিয়ে অনেক খারাপ একটা অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন চিন্তা হলো এত উন্নত একটা দেশে মানুষ মারা যাচ্ছে এভাবে, তাহলে আমাদের দেশে কী হবে? চিন্তা করলাম কিছু একটা করা দরকার। আমার খুব কাছের এক বন্ধুকে আর আমার কাজিনকে জানাই, ওরা অনেক উৎসাহ দেয়। সঙ্গে আমার মেজো খালা আর খালুকে জানাই, তারাও আমাদের উৎসাহিত করেন এবং নানাভাবে সহযোগিতা করেন, করে যাচ্ছেন। আমরা ঠিক করি ফুড বক্স দেব মধ্যবিত্ত পরিবারদের। আর এভাবে আমাদের যাত্রা। পুরোটা ওভার নাইট ডিসিশন, আমাদের তখন নাম, লোগো কিছুই ঠিক হয়নি। শুধু একটা চিন্তা ছিল মানুষের জন্য কিছু করার। একটু বলে রাখি, কান্ডারি নামটা আমার আম্মুর দেওয়া। আমরা যখন কাজ শুরু করি, আম্মু অনেক অসুস্থ করোনায়, আম্মুর কথা বলার কোনো ক্ষমতা ছিল না। কাজ শুরু করার কিছুদিন পরে যখন আম্মুকে জানাই আমার কাজের কথা তখন উনি আমাদের নাম দেন কান্ডারি। সংগঠনের শুরু হয়েছিল চারজন দিয়ে, বর্তমানে ৩০ জন সদস্য। এ ছাড়া কাজের ক্ষেত্রবিশেষে ভলান্টিয়ার থাকে কান্ডারির।’
প্রজেক্ট পাঠশালা
প্রজেক্ট পাঠশালার প্রধান লক্ষ্য চর ও পাহাড়ি অঞ্চলে শিক্ষার মান উন্নত করা। প্রজেক্ট পাঠশালার আওতায় কান্ডারির দুটি স্কুল রয়েছে। একটি কুড়িগ্রামের ছোট একটি চরে, অন্যটি পাইকগাছা খুলনার দেলুটি গ্রামে, সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে। দেলুটি স্কুলটি অবস্থিত সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে, যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে অঞ্চলটির ক্ষতি হয়। প্রতিষ্ঠাতা আলভী বলেন, ‘আম্ফানে স্কুলটি ভেঙে যাওয়ার পর যখন আমরা খোঁজ পাই তখন বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে আমাদের যেতে লেগেছিল এক সপ্তাহ। নদীপথ ছাড়া আর কোনো রাস্তা নেই স্কুলটিতে যাওয়ার। ফান্ড তুলে কাজ শুরু করতে লেগেছিল আট মাস, অনেকের কাছে হাস্যকর লেগেছিল যে আমরা চরাঞ্চলে স্কুল করব। কিন্তু আমরা সফল হয়েছি।’ কান্ডারি নিয়ে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে আলভী বলেন, ‘অনুভূতিটা আসলে এক কথায় বলে বোঝানোর মতো না। আমি কখনও কল্পনা করিনি আমার একটা সামান্য উদ্যোগে এত বড় ভালো কিছু হবে।’ এর সঙ্গে তিনি আরও যোগ করে বলেন, ‘সবকিছু সম্ভব হয়েছে কান্ডারির হার না মানা টিমের কারণে। আমরা একটা পরিবারের মতো সবাই, সবার কষ্টে-সুখে আমরা একসঙ্গে থাকি।’