গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০২৫ ১২:০৮ পিএম
রক্তদান ছাড়াও বিভিন্ন মানবিক সহায়তা দিয়ে থাকে ব্লাডম্যান
কমিক বইয়ের সুপারহিরো চরিত্র সুপারম্যান বা স্পাইডারম্যানের মতোই ‘ব্লাডম্যান’ চেষ্টা করে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে, দ্রুততম সময়ে মুমূর্ষু রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় রক্তের ব্যবস্থা করতে। ব্লাডম্যানের রয়েছে রক্তদাতাদের একটি বড় ডাটাবেজ, একটি ২৪ ঘণ্টার কলসেন্টার এবং জিপিএস সুবিধাসহ একটি মোবাইল অ্যাপ।
পাশাপাশি রয়েছে একটি অভিনব সুবিধা যার মাধ্যমে ঢাকার যানজট সমস্যার মধ্যেও ঠিক সময়মতো রোগীর কাছে রক্তদাতাকে পৌঁছে দেয় ব্লাডম্যান। প্রয়োজনে রক্তদাতাকে মোটরসাইকেলে করে রোগীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। রক্তের প্রয়োজনে যে-কেউ ০১৬২৭২৬০৯৩৩ নম্বরে ফোন করলেই পেতে পারেন এ সুবিধা। ২০১৬ সালে ‘গ্লোবাল লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করে ব্লাডম্যান প্রজেক্টটি। আর ২০১৭ সালে বিজয়ী হয় ‘ব্র্যাক আরবান ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’ প্রতিযোগিতায়। ব্লাডম্যানের প্রতিষ্ঠাতা শাহরিয়ার হাসান জিসান। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই স্বেচ্ছায় রক্ত দিয়ে আসছেন তিনি। বিভিন্ন সময় দেখেছেন কীভাবে সময়মতো প্রয়োজনীয় রক্ত না পেলে রোগী মৃত্যুঝুঁকিতে পড়ে। এ উপলব্ধি থেকেই ২০১৪ সালে বন্ধুদের নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন অনলাইনভিত্তিক ব্লাডব্যাংক ব্লাডম্যান।
জিসান বলেন, ‘২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। গ্রাম থেকে কোনো আত্মীয়স্বজন ঢাকার কোনো হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এলে রক্তের প্রয়োজন হলেই ফোন করত। যখনই রক্তের জন্য কোনো সংগঠনের কাছে সাহায্য চাইতাম, দেখতাম খাতা থেকে খুঁজে খুঁজে নম্বর সংগ্রহ করে ফোন দিচ্ছে। পরে হাতে একটি টোকেন ধরিয়ে দিচ্ছে। যে লোকটিকে ফোন দেওয়া হচ্ছে তার সম্পর্কে কেউ কিছু জানে না। তখন থেকেই মাথায় ভাবনাটা ঘুরছিল যে অনলাইনভিত্তিক কিছু একটা করব।’ ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সায়েন্সে পড়ার কারণে বিভিন্ন ধরনের ডাটাবেজ বা তথ্যভান্ডার নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা ছিল জিসানের। তাই মাথায় আসে ঢাকার কিছু লোকের রক্তের গ্রুপ, ফোন নম্বর ও ঠিকানা একটি ডাটাবেজে সংরক্ষণ করলে রক্তের ব্যবস্থা করা সহজ হবে। এ ভাবনার কথা প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই রিয়াজুল ইসলামকে জানান জিসান। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে তৎক্ষণাৎ জিসানকে ৬০ হাজার টাকা দেন রিয়াজুল। সে টাকা দিয়ে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সাত বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে জিসান প্রতিষ্ঠা করেন অনলাইনভিত্তিক সংগঠন ব্লাডম্যান।
ব্লাডম্যানের চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখেন সংগঠনটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ডা. মঞ্জুর হোসাইন চৌধুরী। এ ছাড়া অন্য কার্যক্রমগুলো তদারক করেন অন্যতম সহপ্রতিষ্ঠাতা আবু সালমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ও নাঈম। ভলান্টিয়ার কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরব উপস্থিতি থাকে নওরিন সুলতানা নিশাতের।
আবু সালমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, ‘তবে শুধু ব্লাড ডোনেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আমরা চিন্তা করেছি দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঠিক চিকিৎসাসেবা পাওয়ার যে অধিকার, তা নিয়ে আমরা কাজ করতে পারি। তখন আমরা যেটা করলাম, একদম প্রান্তিক অঞ্চল যেমন চরাঞ্চলে, পাহাড়ে, একেবারেই প্রত্যন্ত জায়গায় যেখানে হয়তো খুব ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই, যেখানে মানুষ হাতুড়ে ডাক্তারের ওপর ভরসা করে সেখানে আমরা শহরের ভালো ডাক্তার নিয়ে গিয়ে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করলাম এবং এখন পর্যন্ত আমাদের এ কাজটা চলমান রয়েছে।’ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্লাডম্যান তাদের স্বেচ্ছাসেবীদের একসঙ্গে করে এ জায়গাগুলোয় সহায়তা প্রদানের জন্য সর্বদা নিরলসভাবে কাজ করে থাকে।
নওরিন সুলতানা নিশাত বলেন, ‘ব্লাডম্যানের ১০ বছরের পথচলা পূর্ণ হয়েছে। এ সময়টাতে আমরা কয়েক লাখ মানুষের জন্য রক্ত জোগাড় করে দিতে পেরেছি।