× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রঙতুলিতে মুক্তিযুদ্ধ

তৌকির মুহাইমিন

প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০২৫ ১৪:২২ পিএম

আঁকা : মায়েশা মালিহা, সপ্তম শ্রেণি, শিমুল মেমোরিয়াল নর্থ সাঊথ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজশাহী

আঁকা : মায়েশা মালিহা, সপ্তম শ্রেণি, শিমুল মেমোরিয়াল নর্থ সাঊথ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজশাহী

রাতুলদের বাড়ি রুপালি গ্রামে। স্কুলে আগামীকাল স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। রাতুলের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেক আগ্রহ। কারণ রাতুলের নানা একজন মুক্তিযোদ্ধা। রাতুল দৌড়ে তার নানার কাছে মুক্তিযুদ্ধের কথা জানতে চাইল। নানা এখন অনেক অসুস্থ, ঠিকভাবে কথা বলতে পারেন না।

কিন্তু রাতুল মুক্তিযুদ্ধের কথা জানতে চাওয়ায় তার নানা খুব আনন্দিত হলেন। তারপর ভাঙা ভাঙা ভাবে বললেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা হওয়ার পর তিনি আর তার মামাতো ভাই হালিম ঠিক করেন তারা প্রথমে কিছুদিন প্রশিক্ষণ নেবেন। এজন্য তারা যাত্রা করেন। অনেক দিন হেঁটে হেঁটে তারা গন্তব্যে পৌঁছান। যাত্রাপথে বিভিন্ন বাসায় তারা রাতে থাকার জন্য আশ্রয় নিতেন। অপরিচিত মানুষ কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে যাবে বলে তাদের আশ্রয় দেয়, খাবার দেয়। তারা ডাকাতিয়া বিল পার হয়ে অনেক কষ্টে তাদের প্রশিক্ষণের জায়গায় পৌঁছান। এক মাস প্রশিক্ষণের পর তিনি এবার সিদ্ধান্ত নেন সুন্দরবনে গেরিলা যুদ্ধ করবেন। কারণ ৯ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার তার ছোটবেলার বন্ধু। সেখানে পৌঁছে দেখতে পান আরও অনেক মুক্তিযোদ্ধা প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করছেন। তারা শেলা নদীতে পাকিস্তানি সেনাদের খাদ্যবাহী জাহাজ ধ্বংস করার জন্য নদীর কাছে বড় বড় গাছের ওপর নিজেদের গামছা দিয়ে বেঁধে রাখেন। তারপর সেখান থেকে জাহাজ যাওয়ার পথে তারা ছাদের ওপর গুলি করে জাহাজ ধ্বংস করে দেন। তা ছাড়া সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্টে তারা পাকিস্তানি বাহিনীর জাহাজ ধ্বংস করে ৭-৮টি ছোট বোট নিয়ে গেরিলা আক্রমণ করেন। তারা আরও অনেক ছোট ছোট অপারেশন করেন পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে। একবার তারা বোট নিয়ে যাওয়ার সময় একটি গুলি তার বাঁ কাঁধে লাগে। তার সহযোদ্ধারা তাকে বাঁচিয়ে নেন। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো সুন্দরবনে তারা যুদ্ধের পুরো সময় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উড়িয়ে রেখেছিলেন।

রাতুল পরদিন স্কুলে গিয়ে ছবি আঁকল মুক্তিযোদ্ধারা গাছে নিজেদের বেঁধে রেখে জাহাজ ধ্বংস করছেন। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় রাতুল প্রথম স্থান লাভ করল। জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণের সময় রাতুল গর্ব করে তাকে বলল, এটা আমার নানার ছবি।

পঞ্চম শ্রেণি, বরিশাল জিলা স্কুল

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা