× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সাঙ্গু নদের বুকে

মোহাম্মদ ইয়াসিন সিকদার

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৫ ১১:১৮ এএম

সাঙ্গু নদ

সাঙ্গু নদ

এক নদের রয়েছে দুটো নাম। কোথাও শঙ্খ আর কোথাও সাঙ্গু নদ। এটি একটি পাহাড়ি নদ। আবার এই সাঙ্গু নদের নামে রয়েছে চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক পত্রিকা ‘দৈনিক সাঙ্গু’। বান্দরবানের মিয়ানমার সীমান্তের কালাপাহাড় থেকে উৎপত্তি। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অসংখ্য পাহাড়ি ছড়া আর ঝরনার জলপ্রবাহ। রুমা, থানচির শত কিলোমিটার পাহাড়ি পথ ঘুরে বান্দরবান শহরকে প্যাঁচিয়ে, দোহাজারী, চন্দনাইশ, বাঁশখালীর বুক চিরে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে সাঙ্গু নদ। বর্ষায় তার দুরন্ত রূপ। শীতে সে শীর্ণ, দীনহীন। 

সেদিন বন্ধুরা গিয়েছি সাঙ্গু নদ বেয়ে অনেকটা উজানে। যাব কী যাব না বলতে বলতে বন্ধুদের জোরাজুরিতে আমার যাওয়া।

এবার আসি যাওয়ার কথায়, রওনা দিলাম নির্দিষ্ট স্থানে। উঠলাম বাসে। গান ও নাচ করতে করতে পৌঁছালাম বান্দরবান। সেখানে অপেক্ষা করছে আমাদের আগে থেকে ভাড়া করে রাখা চাঁদের গাড়ি। মূলত পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তায় এই চাঁদের গাড়িতে করে যেতে হয়। চাঁদের গাড়ি থেকে ক্যাচিংঘাট নামক স্থানে পৌঁছে আমরা উঠে পড়লাম নৌকায়। এবার এলো আমাদের কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। নৌকায় করে নদের উজান বেয়ে আমরা ছুটে চলছি নদের সৌন্দর্য উপভোগ করতে। সাঙ্গুর দুপাড়ে যেন জেগে উঠেছে জীবন। বছর কু্ড়ি আগেও সাঙ্গুর ঢালে যেসব জায়গা ছিল ঘাস-জঙ্গলার অরণ্যভূমি, সেখানটায় এখন শ্যামল শস্যের ব্যাপক উপস্থিতি। ক্যাচিংঘাটা থেকে নৌকায় চেপে আঁকাবাঁকা নদের পথে একটু এগোতেই চোখে পড়বে মারমাদের গ্রাম। আগে যারা ছিল শতভাগ জুমিয়া এখন তারা দক্ষ হালচাষি। নদের তীরে লাগিয়েছে আলু, বেগুন, টমেটোসহ শীতের সবজি। সবচেয়ে বেশি লাগিয়েছে বাদাম, ফেলন ডাল, তামাক। জলের কাছাকাছি লাগিয়েছে ধানের চারা। নতুন পলির এই নদের তীরবর্তী গ্রামগুলোতে কাজের ব্যস্ততা বেশি। নারী, পুরুষ, কিশোর, কিশোরী সবাই ব্যস্ত কৃষিকাজে। মাস দেড়েকের মধ্যেই ঘরে উঠবে ফসল। সেগুলো বান্দরবান বাজারে বিক্রি করে পাওয়া যাবে নগদ টাকা। 

আমরা ১০ কিলোমিটারের মতো উজানে গিয়েছি। আরও ৫০ কিলোমিটার নদীপথ আছে রুমা অবধি। সেখানেও চলছে অনুরূপ উৎপাদন। অনেকে বলেন, চীনের দূঃখ হোয়াংহো, বান্দরবানের দুঃখ সাঙ্গু। এ বছরের প্রলয়ংকরী বন্যার কথা ভাবলে মনে হবে উক্তিটি অমূলক নয়। কিন্তু এটি যে এখন পাহাড়ের শষ্যভান্ডার হয়ে উঠেছে, সেই খবর জানেন কজনা? যাহোক নদের বুক দিয়ে নৌকা চলতে চলতে আমরা আরও দেখতে পাই সুন্দর একটি পাহাড়ি ঝরনা।ঝরনার পাদদেশে সবাই দাঁড়িয়ে উক্ত মুহূর্তটা ফ্রেমে বন্দি করে রাখলাম।

ঝরনা দর্শন শেষে আমাদের নৌকা চলতে শুরু করল। আমরা ফিরে এসে আবারও চাঁদের গাড়িতে উঠে আমাদের আগে থেকেই রিজার্ভ করা নীলাদ্রি হোটেলে পৌঁছে দুপুরের ভোজন সম্পন্ন করে আবারও উঠে পড়ি চাঁদের গাড়িতে। আমাদের এবারের গন্তব্য নীলাচল। নীলাচল গিয়ে আমরা সবাই বিভিন্ন সুন্দর সুন্দর জায়গায় নিজেদের ক্যামেরাবন্দি করতে লাগলাম। সাঙ্গুর রূপ দর্শনের মাধ্যমে দারুণ কিছু স্মৃতি জমা হয়ে গেল মনের মাঝে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা