প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১১:২১ এএম
পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল ছবি: সংগৃহীত
প্লাস্টিক দূষণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশরক্ষায় টেকসই সমাধান প্রচারের জন্য জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) ইয়ুথ অ্যাডভোকেট হলেন বাংলাদেশের পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল। ইউএনডিপি ও কোকা-কোলা ফাউন্ডেশনের যৌথপ্রকল্প ‘টিসিসিএফ প্লাস্টিক সার্কুলারিটি’র আওতায় এই প্রচারণায় অংশ নিলেন তিনি।
ইকরামুল হাসান কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত থেকে পায়ে হেঁটে এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণের পরিকল্পনা করছেন। এভারেস্টচূড়ায় আরোহণের এ অভিযানে পথে যেতে যেতে পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও ছড়িয়ে দেবেন। এর মধ্যে থাকবে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জন এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর কথা। ৯০ দিনের এই অভিযানে তিনি বাংলাদেশ থেকে ভারত হয়ে নেপালের এভারেস্ট বেজক্যাম্প পৌঁছাতে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার পথ হেঁটে পাড়ি দেবেন। রোমাঞ্চকর অভিযানটি সম্পন্ন হলে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের হাতছানিও আছে তাঁর সামনে।
ইকরামুল হাসান বলেন, ‘এই অভিযান শুধুই পর্বতারোহণ নয়, এটি তারুণ্যের সাহস, অধ্যবসায় ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রতীক। যদি সফল হই, তবে ইতিহাসের পাতায় বাংলাদেশের নাম উঠে আসবে সুনামের সঙ্গে।’

ইউএনডিপি বাংলাদেশ-এর আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘প্লাস্টিক দূষণ আমাদের সময়ের অন্যতম বড় পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ। এটি জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করছে, মহাসাগরগুলোকে দূষিত করছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন-জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলছে। এই সংকট মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ এবং ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। আমি আশা করি, শাকিলের এই অভিযান মানুষকে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কমাতে এবং টেকসই অভ্যাস গড়ে তুলতে উৎসাহিত করবে। তাকে নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়ার প্রস্তুতি জন্য শুভকামনা জানাই।’
ইকরামুল হাসান পর্বতারোহণের প্রাথমিক ও উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ভারতের নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিংয়ে। হিমালয়ের ‘কেয়াজো-রি’, ‘দ্রৌপদী কা ডান্ডা-২’ ও ‘হিমলুং’, ‘ডোলমা খাং’ পর্বতশৃঙ্গ আরোহণ করেছেন সফলভাবে। ২০২৩ সালে ‘গ্রেট হিমালয়া ট্রেইল’ নামে পরিচিত হিমালয় পর্বতমালার মধ্য দিয়ে নেপালের পূর্ব থেকে পশ্চিমে চলে যাওয়া ১ হাজার ৭০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দুর্গম পথ হেঁটে পাড়ি দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন ইকরামুল।