× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রেমের অণুগল্প

রাতের চিরকুট

সৈয়দ নূরুল আলম

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৩:১১ পিএম

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৫:৩০ পিএম

রাতের চিরকুট

নবারুণ লিজাকে বিয়ে করতে আসছে। লিজা সেটা জানে না। বিয়ে তো দূরের কথা, এভাবে হঠাৎ চলে আসবে সেটাই বলেনি। বলবে কী, ও তো বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে এসেছে। তাই লিজাকে কোনো কিছুই বলার সময় বা সুযোগ কোনোটা-ই পায়নি। ও শুধু ভেবেছে মনিরার হাত থেকে বাঁচতে হলে আজই ওকে বিয়ে করতে হবে। ও যখন সন্ধ্যায় মনিরাদের বাসা থেকে ওয়াল টপকে বড় রাস্তায় এসে একটা রিকসায় চড়ে বসে, তখন একটু নিশ্চিন্ত বোধ করে। হাফ ছেড়ে বাঁচে। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দম আটকা অবস্থায় ছিল। যেন বিনা অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। এখনই কালো কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে জল্লাদের মুখোমুখি হতে হবে।

 হঠাৎ জানালা দিয়ে একটা চিরকুট এসে লিজার টেবিলে পড়ে। লিজা একটু ভয় পায়। কাগজটা ধরবে কি ধরবে না, কী লেখা আছে পড়বে কি পড়বে না। অবশেষে না খুলে পারে না, এতরাতে জানালা দিয়ে চিরকুট! নিশ্চয় প্রেম ট্রেমের চিঠি হবে। এসময় সতের বছরের মেয়ের পক্ষে নিজেকে দমিয়ে রাখা কঠিন। তাই আর দেরি না করে কাগজটা খুলে মেলে ধরে চোখের সামনে। আর দেখা মাত্র চিৎকার দিয়ে ওঠে। নবারুণের চিঠি! নবারুণ এসেছে!

টেলিফোনে, ফেসবুকে ওদের পরিচয়। পরিচয়ের শুরুর দিকে লিজা বলেছিল, ‘মাঝে মাঝে তোমার চিঠি পাবো তো?’ 

নবারুণ হেসে বলেছিল, ‘এযুগে কেউ চিঠি লেখে?’ ‘আমার খুব ইচ্ছে, আমাকে কেউ চিঠি লিখুক। আমি কারো চিঠির অপেক্ষায় থাকি।’

কথা রেখেছিলো নবারুণ। চিঠি আসতো লিজার কাছে খুব গোপনে। সে চিঠি শুরু হত 'স্নেহের লিজা ' দিয়ে, আর শেষ হত 'তোমারই নবারুণ ' দিয়ে । তখন 'স্নেহের' শব্দটার উপর খুব রাগ হত লিজার। ও কি খুব ছোট? 

লিজা ঠিকই "প্রিয় নবারুণ" বলে চিঠি শুরু করত।

লিজা ভেবে ছিল তার চিৎকার শুনে পাশের রুমে ঘুমানো বাবা-মা জেগে উঠবেন। তারা ঘুমানোর আগে লিজাকে বলে গিয়েছিলেন, বেশি রাত করে না পড়তে। কিন্তু লিজা পড়া শেষ না করে উঠতে চায়নি।

ওর চিৎকার শুনে বাবা-মা কেউ ঘুম থেকে জাগেনি। ও সন্তর্পনে দরজা খুলে ঘর থেকে বের হয়ে আসে। নবারুণ একটু দূরে অন্ধকারে দাড়িয়ে ছিল, লিজাকে দেখতে পেয়ে এগিয়ে আসে। ওর হাতে একটা পিঠ ব্যাগ। পড়নে নতুন পায়জামা-পাঞ্জাবি, মাথার চুল এলোমেলো, চোখমুখ ভয়ার্ত ও মলিন। লিজার রুমের জানালা দিয়ে গলিয়ে আসা আলো থেকে এতটুকুই লিজা দেখতে পায়। এভাবে নবারুণকে দেখে একটা অজানা ভয়ে লিজার মধ্যে কাজ করে। একটু আগের টগবগ আনন্দ আর থাকে না। তবু কাছে যেয়ে নবারুণের হাত ধরে বলে," কী হয়েছে তোমার, এভাবে না বলেকয়ে চলে এসেছ? আর তোমাকে দেখেও কেমন মনে হচ্ছে। একদম হুজুর সেজে এসেছ। তুমি তো কখনও পায়জামা পানজামি পরো না।" একটু থেমে, একটু হেঁসে, লিজা আবার বলে," তুমি কি সাত সমুদ্র তের নদীর জল ভেঙে, বর সেজে আমাকে বিয়ে করতে এসেছ?"

লিজার রসিকতা যে নবারুণের মনের কথা কী ভাবে মিলে গেল, এটা ভেবে নবারুণ লিজাকে জড়িয়ে ধরে কাঁপা কাঁপা মুখে বলে," ঠিক ধরেছ, আমি তোমাকে বিয়ে করতে এসেছি। আমি মনিরাদের বাসা থেকে পালিয়ে এসেছি। ওরা আমাকে জোর করে অস্ত্রের মুখে মনিরার সাথে বিয়ে দিতে চেয়েছিল। " 

একটু থেমে, পায়ের গোড়ালি থেকে মশা তারিয়ে নবারুণ আবার বলে," মনিরা নিজেই ওর ভাইদের আমার পেছনে লেলিয়ে দিয়েছে। চল, তোমার রুমে যেয়ে বাকি সব কথা বলব।"

লিজা নবারুণের একটা হাত নিজের হাতের মধ্যে চেপে ধরে বলে, " আমার কাছে যখন একবার চলে এসেছ, আর ভয় নেই। মনিরা তোমার কিছু করতে পারবে না। তা মনিরা ইবা কে? ওর কথা তো কোনো দিন বলোনি। আর শুনেছি ছেলেরা সুন্দরী মেয়েদের জোর করে অস্ত্রের মুখে বিয়ে করে। তোমার ক্ষেত্রে উল্টো। তোমার ভাগ্য তো ভালো বলতে হবে। শেষ কথাটুকু বলে লিজা হা হা করে হেঁসে ওঠে। 

ওর হাসির শব্দে পাসের রুম থেকে বাবা বলে ওঠেন, " ওখানে কে, কে কথা বলে?"

বাবার কথা শুনে লিজা ভয়ে নবারুণের হাতটা দ্রুত ছেড়ে দেয়। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা