প্রেমের অণুগল্প
কুমার প্রীতীশ বল
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৩:০৩ পিএম
তুমি তো আমাকে কোনো মূল্য দাওনি কোনো দিন। ভালোবাসনি। রবিনের এমন খোঁচায় অন্য দিন নীরব থাকে, আজ বীণা তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছে। আগুনে পুড়তে থাকা ইটের মতো ওর মাথাটা গরম হয়। কফির কাপে পানি ঢেলে প্রথম প্রতিক্রিয়াটা প্রকাশ করে। রবিনের করোটির আগুনটা অন্য দিনের চেয়ে আজ একটু বেশি। বীণার ওপর অভিমানের প্রকাশটা এখানে শেষ হলো না তাই।
রবিন বলল, এমন কী করেছ, যা তুমি অন্যদের জন্য করোনি?
নীরবতা ভঙ্গ করে বীণা। গোটা কফি হাউস কাচের গেলাস ভাঙার মতো ঝনঝন করে উঠল। তোমাকে আমি কী দিইনি রবিন? সাজেকের নির্ঘুম রাতগুলো তোমাকে দিয়েছি, মেঘের মাঠে তাই মেঘেদের সঙ্গ হারিয়েছি। শ্রীমঙ্গলের কনকনে রাতগুলো ফিরিয়ে দিয়েছি। শাহজালাল মাজার-শাহপরান মাজারে তোমার হাতে হাত রেখে দাঁড়িয়ে ছিলাম গোটা গোধূলিসন্ধ্যা। তুমি নিখোঁজ ছিলে। তোমাকেই হন্যে হয়ে খুঁজেছি। পার্টি অফিসে, কাঙালিনী সুফিয়ার গানের আসরে, ফোক কনসার্টে বাঁ পাশের সিটটা তোমার নামে খালি রেখেছি। জাফলঙের দুপুরগুলো বুক করেছিলাম তোমার নামে। এসব তুমি ভুলে গেলে রবিন? ভুলে গেলে চা-বাগানে জ্যোৎস্নারাতে সবাই যখন বনে ডাকবাংলোর ব্যালকনিতে তুমি আমি একা! বলেছিলাম, কানুগাঁয়ের চিলেকোঠাটা লজ্জা পাবে। তুমি গিয়ে লণ্ঠনটা নিভিয়ে দিলে আমায় দেখবে বলে। ভুলে গেলে রবিন! জন্মদিনের কেক, সুখ-দুঃখ-ভালোবাসা, সব খবর, সব আশা সবার আগে তোমার সঙ্গে শেয়ার করেছি। এসব তুমি ভুলে গেলে?
এখানেই কি সবকিছুর ইতি টানবে? আর কিছু কি পেতে পারি না আমি? অভিমানের চাপে কিংবা বীণার তারের ঝংকারে রবিনের কণ্ঠস্বর খাদে নেমে গেছে।
একজন নারী একজন পুরুষকে যা-যা দিতে পারে, সবটুকুনই ভাসিয়ে দিয়েছি তোমার রঙের মেঘে। মান ভাঙাতে তোমার বাড়ির রঙের মেলায় দেখেছিলাম বায়োস্কোপ। সেই বায়োস্কোপের নেশা আমায় ছাড়েনি। আমার গ্যালারিতে লক করেছি তোমার-আমার হাজার দস্যিপনার ছবি। সে দস্যিপনায় নরকের চুল্লি ভয় পেয়েছে আগুনকে। তোমার সন্তুষ্টি হয়নি। কারণ, তুমি ভালোবাসার মানে বোঝনি। পোড়াকপাল কি স্বপ্নের ভার সয়?