প্রেমের অণুগল্প
শাম্মী নাজ সিদ্দিকী
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১২:৫৩ পিএম
শীতের ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন দিন। ঢাকার ধানমন্ডির রাস্তার পাশেই একটি বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি। একটা লাল চাদরে গা জড়িয়ে, চুলগুলো এক পাশে সরিয়ে এক কাপ কফি হাতে বারান্দায় বসা একটি মেয়েকে প্রায়ই দেখা যায়। কিন্তু চেহারাটা স্পষ্ট বোঝা যায় না। ওদের পাশের বাড়িতেই টিউশনি করতে যাতায়াত আমার।
স্বভাবত কারণে আমিও চেষ্টা করতাম চুপিসারে দেখতে। একদিন বাড়ির দারোয়ান এসে হঠাৎ আমায় বলে গেল মেয়েটির নাম রৌদুসি। আমি অবাক হয়ে যাই। বুঝে গিয়েছিলাম আমার আর চুপিসারে দেখা উচিত নয়। তার পর থেকে ওই বাড়ির সামনে দিয়ে মাথা নিচু করে যাতায়াত করতাম।
দেখতে দেখতে এক শীত গিয়ে আরেক শীত চলে এলো। কেটে গেছে বছর দুই।
রিকশার জন্য দাঁড়িয়ে আছি। দারোয়ান এসে একটি কাগজের টুকরো হাতে দিল। ফোন নম্বর লেখা। সঙ্গে সঙ্গে কল দিলাম। ওপাশের শ্রুতিমধুর নারীকণ্ঠ শুনে আমি অবাক। দেখার ইচ্ছাটা বেড়ে গেল দ্বিগুণ। মেয়েটি বলল তার নাম রৌদুসি। আর কোনো কথা হয়নি। প্রায় মাস তিনেক পর একই নম্বর থেকে কল এলো। এবার নানান টপিকস নিয়ে কথা। কিন্তু আমার সম্পর্কে কিচ্ছু জানতে চায়নি সে। এভাবে আরও এক মাস। তারপর নিয়ম করে কথা। ভালো লাগা, পছন্দ-অপছন্দ, বিধিনিষেধ।
জানার মধ্যে শুধু তার নামটিই জেনেছি। ভালোবাসে কি না তা ছিল অজানা।
ওকে সাহস করে একটি পিঙ্ক কালারের পুতুল উপহার পাঠিয়ে ছিলাম। পরদিন দারোয়ান এসে তা ফেরত দিয়ে গেল। গিফট করা কিছু ফেরত দেওয়ার মানে বুঝতে আর বাকি থাকে না।
ভাঙা মন নিয়ে দিন কদিন পর আবার টিউশনিতে যেতে লাগলাম। দারোয়ান এসে জিজ্ঞাসা করল রোজ পড়াতে আসব কি না? উত্তরে বলেছিলাম, ‘মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেদের অনুভূতির চেয়ে বেঁচে থাকার তাগিদ বেশি।’
এভাবে আরও একটি বছর কেটে আবারও শীতের আগমন। প্রায় তিনটি বছর হয়ে গেল। আমিও স্বভাবিক হতে শুরু করলাম। সেদিনের পর থেকে আর কখনও জানা হয়নি রৌদুসি বারান্দায় বসে কি না। রৌদুসিও আর কখনও কল করেনি। দারোয়ানও আর কখনও কিছু জিজ্ঞাসা করেনি। আমিও স্বাভাবকি হতে লাগলাম।
রোজকার মতো হেঁটে যচ্ছিলাম। শীতের একটা ঠান্ডা বাতাস বইতে লাগল চারদিকে।
হঠাৎ রৌদুসি একটি লাল চাদর বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছুড়ে দেয় আমার দিকে। কোনো কিছু বোঝার আগেই রৌদুসি হাসিমাখা মুখে বলে, প্রশ্ন কোরো না, স্বাধীনহীন জীবনের এক অজানা ভালোবাসা তুমি।
বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে যায়। আমি অবাক চোখে তাকিয়ে চাদর হাতে নিয়ে চলে আসি। ভালোবাসার রঙ নাকি লাল। চাদরের আদরে সেই মায়াবিনী মুখটা আজও না-পাওয়ার কথা বলে ‘ভলোবাসার’।