× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রেমের অণুগল্প

প্রেম ও পাপ

রোমানুর রোমান

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১২:৪৫ পিএম

প্রেম ও পাপ

রাসুর সঙ্গে জেরির  প্রথম দেখায় তাদের কথা হয়নি ঠিকই। তবে প্রথম দেখায় জেরিকে ভালো লাগে রাসুর।

পরে মাঝে মাঝে চোখাচোখি হয়। এভাবে অল্প দিনে আকর্ষণও বেড়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, নারী ও পুরুষ প্রতিদিন পরস্পরের চোখের দিকে দুয়েক মিনিট তাকিয়ে থাকলে তাদের আকর্ষণ, ভালো লাগা, গভীরতা, মায়া বেড়ে যায় বহুগুণ।

তাই তাদেরও ‌বেড়ে গেছে।

কিছুদিন পরেই প্রেমের প্রস্তাব দেয় রাসু।

তা অ্যাকসেপ্টও করে জেরি। না করে বা উপায় কী! উঠতি একটা বয়স সে সময়। যৌবনের ছোঁয়া। আর রাসুর মতো হ্যান্ডসাম ছেলে যদি হয় তাহলে তো কথাই নেই।

এরপর ভালোই চলে তাদের প্রেমময় স্কুলজীবন। মাঝে মাঝে এখানে সেখানে ঘোরাঘুরি। বন্ধুত্বের ছলে আড্ডা।

প্রাইভেটের ছলে দেখা করা।

ক্লাস শেষে বা টিফিনে বা কোনো সুবিধাময় ফাঁকা মুহূর্তে টাচ ফোনের যুগে একটু টাচ করা। মানে বোঝেন তো?

কিসটিস এই আর কি!

এসব ছাড়া নাকি প্রেমই জমে না। তাই জমিয়ে প্রেম করছিল দুজনে।

শিক্ষকদের কাছে ধরাটরা পড়েনি কোনো দিন। বন্ধুদের কাছে একটু পড়েছিল বইকি!

তাতে কী? মৌলিক জৈবিক চাহিদাই আসল! প্রেম ছাড়া কি বাঁচা যায়?

তাদের কথা, প্রেম করছি বেশ করছি।

করবই তো।

কিন্তু বেশিদিন স্থায়ী হলো না তাদের মজার সময়।

সুযোগসন্ধানী ছেলেরা এক গেরস্থের ডাব খেয়ে আবার অন্য গেরস্থের খোঁজ করে। এ জায়গায় মেয়েরা ছেলে চিনতে ভুল করে আবার কেউ কেউ নিজেরাও তেমন।

যেমন আমার দেখা একটা মেয়ে নাইনে দুইটা, টেনে দুইটার সঙ্গে প্রেম করে ইন্টারে একটাকে বিয়ে করেছে।

আবার আরেকটা মেয়ে তো সরাসরি বলেছে আমাদের, সে দুই বছর পরপর বয়ফ্রেন্ড চেঞ্জ করবে। শুধু নাকি টাইম পাসের জন্যই প্রেম করে।

যা হোক, স্কুলের গণ্ডি পর্যন্ত যে অল্প সময় পেল গোপনে এনজয় করে পার করেছে দুজনে। পরে দুজনের টানাপড়েন শুরু হলে একটু জানাজানি হয়। গ্রাম্য পরিবারের বাবারা তো প্রেম শব্দ শুনলেই মনে করে পাপ।  কোনোভাবেই এসব মানা যায় না। জেরির বাবা-মাও মানল না।

বোঝানোর চেষ্টা করে মেয়েকে। মেয়ে তো বোঝে না।

সে রাসুর জন্য পাগল। শুধু সে এবং তার মনই জানে রাসুকে ছেড়ে থাকা কতটা অসম্ভব।

আর কেউ না বোঝাই স্বাভাবিক ও বাস্তবতা। তাই তার বাবা অন্য একটা ছেলের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করে ফেলে দ্রুতই।

এখানে বলি,

বর্তমান প্রেমিক/প্রেমিকার ছন্দ,

নিজের পছন্দে বিয়ে করলে নিজের গার্লফ্রেন্ড/বয়ফ্রেন্ডকে পাবে।

আর বাবা-মার পছন্দে করলে অন্যের গার্লফ্রেন্ড/বয়ফ্রেন্ডকে পাবে। তাই জাগো প্রেমিক/প্রেমিকা জাগো, বাবা-মার থেকে ভাগো। বা প্রেমিক/প্রেমিকা নিয়ে ভাগো।

এ স্লোগান মাথায় নিয়েই হয়তো জেরি ভেগে গেল রাসুর কাছে।

কিন্তু বাবা-মায়েদের কি সহজে মেনে নেওয়ার কথা?

মোটেও না। কিছু বাবা জীবনেও আর খোঁজ বা সমঝোতা করে না। আবার অনেকে করে এবং পরে মেনেও নেয়।

আর কেউ কেউ জোর করে ফিরিয়ে আনে, যেমন জেরির বাবা।

তিনি তার মেয়েকে ফিরিয়ে আনেন।

কিছুদিন পর আবার সে পালিয়ে যায়।

তখন কী করা যায়? বাবার তো একটা আত্মসম্মান আছে।

আবার তিনি নিয়ে আসেন, আর যেতে না দিয়ে জোর করে বিয়ে দিয়ে দেন।

স্বামীর বাড়ি গিয়ে হয়তো সব ভুলে যাবে, জেরি ঠিক হবে, এমনটা ভাবে তার পরিবার।

হুম! ধারণা সঠিক। তবে সব মেয়ের ক্ষেত্রে নয়। খুব জেদি ও হার না মানা মেয়েদের কাছে ব্যতিক্রম।

কিছুদিন থাকতে থাকতে প্রায় ছয় মাস ছিল এরপর আবার পালিয়ে যায় সেই রাসুর কাছে। এবার আর কিছুই করল না তার বাবা।

বিয়ে করে ফেলে তারা তখনই। তারপর তারা এখন একসঙ্গেই আছে। জানি না তাদের মনে প্রশান্তি না অশান্তি বিরাজ করছে!

তবে এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে হ্যাপি এন্ডিং লাভ। প্রেমিক-প্রেমিকার জয়। এসব প্রেমের ভবিষ্যৎ কী? তা সময়ই বলে দেবে। সে অপেক্ষায় থাকুন। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা