× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চোখ জুড়ানো হাওড়া ব্রিজ

 জারাদ ত্রিস্তান

প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৫ ১৩:৫৮ পিএম

ছবিটি এঁকেছে অর্নিলা ভৌমিক। সে ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী

ছবিটি এঁকেছে অর্নিলা ভৌমিক। সে ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী

পর্দার ফাঁক দিয়ে ভোরের আলো চোখে পড়তেই ঘুম ভেঙে গেল। উঠে তো আমি অবাক! আজ সবার আগে উঠেছি। আমিই সবাইকে ডেকে তুললাম। মা নিজেও অবাক। তিনি বললেন, ‘আগে তো জানতাম সময়ের আধা ঘণ্টা দুই মিনিট পার্থক্য। এখন তো মনে হচ্ছে সূর্যও পশ্চিম দিকে ওঠে!’ হাতে সময় কম তাই নুচি (লুচি)-তরকা খেয়ে সোজা পুরোনো হাওড়া স্টেশন। পথে আমরা জগদ্বিখ্যাত রবীন্দ্র সেতু অর্থাৎ ‘হাওড়া ব্রিজ’ দেখতে পেলাম। কী অভিনব স্থাপত্যশৈলী! যেন গঙ্গার ওপর মাত্র দুই পিলারে ভর দিয়ে ইস্পাতের বিস্ময় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

হাওড়া স্টেশনে হাজারো মানুষ গিজগিজ করছে। কোলাহলে মুখরিত। এরই মধ্যে আমরা আমাদের ‘শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস’ খুঁজে বের করে চড়ে বসলাম। প্রথম দিকে লোকাল ট্রেন ভালো না লাগলেও ছাড়ার পর হিমেল বাতাসে মনে প্রশান্তি চলে এলো। দুই পাশেই সবুজ-হলুদ ক্ষেত বা সবুজ বিস্তৃত ভূমি। তার মাঝে কিছু লাল টালির ঘর, ছোটবড় মন্দির, একটা দুটি গোরস্থান আর কখনও বা ছোট্ট কোনো শহর।

ট্রেনে আমাদের এক কাকুর সঙ্গে পরিচয় হলো। তিনি একটি রিসোর্টে আর্ট ম্যানেজার। তিনি আমাদের তাদের রিসোর্টে থাকতে অনুরোধ করলেন। প্রস্তাবটা আমরা লুফে নিলাম। রিসোর্টটার নাম ‘পঞ্চবন আর্ট রিসোর্ট’। অপূর্ব প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে এটি অবস্থিত। এটি একটি শিল্পকলাভিত্তিক রিসোর্ট। এখানে প্রতি সপ্তাহে থিয়েটার হয়।

আমরা সেখানেই খেয়ে নিয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করলাম। তারপর গেলাম ‘সোনাইঝুড়ি হাট’ দেখতে।

এখানের সবকিছুই অপূর্ব। চারদিকে গাছপালা। চারদিক মুখরিত পাখির কূজনে। তার মাঝে সুন্দর সুন্দর নামধারী ছোট্ট ছোট্ট কটেজ। এখানের মানুষও বেশ ভালো, তাদের একজন টোটোওয়ালা দুর্গা আঙ্কেল। পুরোটা শান্তিনিকেতন ট্যুরে তিনি আমাদের গাইড ছিলেন।

আজ লক্ষ্মীপুজোর পরদিন, সবাই ধনদেবী লক্ষ্মীকে বিসর্জন দিতে যাচ্ছে। তাই রাস্তায় বেশ জ্যাম। তবে আমাদের পৌঁছাতে বেশি সময় লাগল না।

শান্তিনিকেতন সাঁওতাল এলাকা। সোনাইঝুড়ি হাট একটি সাঁওতালি হাট। কাছে যেতেই মাদলের শব্দ শুনতে পেলাম। দেখি একদল সাঁওতাল রমণী নৃত্য করছেন। অনেক সাধারণ নারীও যোগ দিচ্ছেন দেখে আমার ছোট বোন তাদের সঙ্গে যোগ দিল। সোনাইঝুড়ি হাট এখানকার সাঁওতালদের আয়ের একটি বিরাট উৎস। এখানে তারা তাদের নিজেদের হাতের তৈরি নান্দনিক জিনিসপত্র বিক্রি করে।

সোনাইঝুড়ি হাট অনেক বড়। এখানে স্বল্পমূল্যে এত দারুণ নান্দনিক সব জিনিস পাওয়া যায় দেখে আমি অবাক হলাম। সেখানে কিছু কেনাকাটা করে আমরা আবার টোটোতে উঠলাম। তারপর রাস্তার পাশে একটি দোকান থেকে মোমো খেয়ে নিলাম। দুর্গা আঙ্কেলকে সাধলে তিনি জানালেন তার আজ সারা দিন নিরামিষ খাবার ব্রত। মোমো খেয়ে আমরা চা খেতে চাই শুনে তিনি আমাদের একটি চায়ের দোকানে নিয়ে গেলেন। দোকানটির পাশে একজন বাউল শিষ্যকে নিয়ে বসে আছেন। গানের আবদার করতেই তিনি টুংটাং করে একতারা এবং পা দিয়ে ঘুঙুর বাজিয়ে গান ধরলেনÑ ‘জাত গেল জাত গেল বলে একি আজব কারখানা, সত্য পথে কেউ নয় রাজি সবই দেখি তা-না-না-না।’ শব্দ উচ্চারণে কিছুটা ভুল থাকলেও বাউলের কণ্ঠ এবং গানে মন মেতে উঠল।

কোপাই নদীর পারে একটি ফলকে লেখাÑ ‘এপারে বাউল গান/ওপারে মহাশ্মশান।’ কথাটা আমার মন ছুঁয়ে গেল। সেখানে কিছুক্ষণ কাটিয়ে আমরা আবার রিসোর্টে ফিরে এলাম। সারা দিন অনেক ধকল গেছে, তাই বসে বসে একটু বিশ্রাম নিচ্ছি, এমন সময় পরিচিত অনন্ত বিশ্বাস কাকু এলেন।

গল্পগুজব করতে করতে তিনি হঠাৎ জিজ্ঞেস করলেন, 

‘কবিতা শুনবেন?’

‘অবশ্যই কাকু’, উৎসাহের সঙ্গে বললাম আমি।

‘কবিতাটা সাঁওতালি বাংলায়, তবে বুঝতে পারবে নিশ্চয়ই’ এই বলে তিনি সুন্দর কণ্ঠে কবিতাটি আবৃত্তি করলেন।

হাততালি দিয়ে উঠলাম আমরা।

কবিতাটি জমিদার রবীন্দ্রনাথের প্রতি তার সাঁওতালি প্রজাদের আবেগ নিয়ে।

‘আরও কবিতা শুনবেন?’

‘অবশ্যই’, একসঙ্গে বলে উঠলাম আমরা।

তিনি আরও বেশ কিছু কবিতা আবৃত্তি করলেন।

আমার বাবা একজন কবি, তিনি হঠাৎ প্রশ্ন করে বসলেন,

‘অনন্ত দাদা, এ কবিতাগুলো কি আপনার লেখা?’

অনন্ত কাকুর গাল লজ্জায় লাল হয়ে গেল। লাজুক হেসে বললেন ঠিক ধরেছেন।

অনেকক্ষণ গল্পগুজবের পর আমরা খাওয়াদাওয়া করে নিলাম। কাল আবার সকাল সকাল উঠতে হবে। তাই কিছুক্ষণ পরই আমরা ঘুমিয়ে পড়লাম। কাল আমরা আবার ভ্রমণে বের হব।

চলবে...

পঞ্চম শ্রেণি, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা