নুসরাত খন্দকার
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ ২১:৪৬ পিএম
ত্বকের যত্নে এখন প্রতিটি মানুষই বেশ সচেতন। নারীরা বেশ কিছু বছর ধরে প্রাকৃতিক উপাদানে ত্বকচর্চা করছেন। কেমিক্যালযুক্ত পণ্যের চেয়ে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারে মানুষ এখন বেশ সচেতন।
বর্তমান যুগে
সৌন্দর্য এবং রূপচর্চায় ইকো-ফ্রেন্ডলি বা পরিবেশবান্ধব পণ্যগুলোর চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে
বেড়ে গেছে। ইকো-ফ্রেন্ডলি স্কিন কেয়ার পণ্যগুলো কেবল আপনার ত্বকের জন্যই ভালো নয়
বরং এটি পরিবেশের জন্যও ভালো। প্লাস্টিক দূষণ, রাসায়নিক উপাদানের অতিরিক্ত ব্যবহার
এবং প্রাণীদের ওপর পরীক্ষানিরীক্ষার বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে মানুষ এখন বেশি করে
প্রাকৃতিক এবং টেকসই পণ্যের দিকে ঝুঁকছে।
আগে জেনে নিই
ইকো-ফ্রেন্ডলি স্কিন কেয়ার কী
ইকো-ফ্রেন্ডলি
স্কিন কেয়ার বলতে বোঝায় এমন পণ্য, যা তৈরির সময় পরিবেশের ক্ষতি কমিয়ে আনা হয়।
এগুলো প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি এবং রাসায়নিকমুক্ত। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ পণ্যগুলো
পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্যাকেজিংয়ে আসে এবং এতে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল যেমন প্যারাবেন, সালফেট
এবং সিনথেটিক ফ্র্যাগ্রান্স থাকে না। এ পণ্যগুলো সাধারণত প্রাণীদের ওপর পরীক্ষা করা
হয় না এবং এগুলো ‘ক্রুয়েলটি-ফ্রি’ লেবেলযুক্ত থাকে।
যে কারণে ইকো-ফ্রেন্ডলি
পণ্য বেছে নেবেন
পরিবেশ রক্ষা
করতে : ইকো-ফ্রেন্ডলি পণ্য বেছে নিতে হবে। রাসায়নিক উপাদানযুক্ত পণ্য প্রাকৃতিক জলাশয়
এবং মাটিতে দূষণ সৃষ্টি করে। প্রাকৃতিক উপাদাননির্ভর পণ্য ব্যবহার করলে পরিবেশের ভারসাম্য
রক্ষা হয়।
ত্বকের জন্য ভালো
: প্রাকৃতিক উপাদান ত্বকের জন্য কম ক্ষতিকর। এতে অ্যালার্জি, র্যাশ বা অন্যান্য সমস্যা
হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।
টেকসই প্যাকেজিং
: ইকো-ফ্রেন্ডলি ব্র্যান্ডগুলো পুনর্ব্যবহারযোগ্য বা বায়োডিগ্রেডেবল প্যাকেজিং ব্যবহার
করে, যা প্লাস্টিক দূষণ কমায়।
ইকো-ফ্রেন্ডলি
স্কিন কেয়ার পণ্য তৈরিতে বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে কয়েকটি
হলোÑ
যেভাবে সঠিক
পণ্য বাছাই করবেন
লেবেল পড়ুন :
পণ্যের লেবেলে থাকা উপাদানগুলোর তালিকা পড়ুন। প্রাকৃতিক এবং রাসায়নিকমুক্ত উপাদান
আছে কি না নিশ্চিত হয়ে তারপর পণ্য কিনুন।
সার্টিফিকেশন
চেক করুন : ইকো-ফ্রেন্ডলি, অর্গানিক বা ক্রুয়েলটি-ফ্রি লেবেলযুক্ত পণ্য বেছে নিন।
পুনর্ব্যবহারযোগ্য
প্যাকেজিং : এমন ব্র্যান্ড নির্বাচন করুন যাদের প্যাকেজিং পরিবেশবান্ধব।
ত্বকের ধরন বুঝে
কিনুন : ত্বকের ধরন অনুযায়ী পণ্য বাছাই করতে হবে। যেমন শুষ্ক ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজিং
প্রোডাক্ট এবং তৈলাক্ত ত্বকের জন্য অয়েল-ফ্রি ফর্মুলা বেছে নিতে হবে।
ঘরে তৈরি ইকো-ফ্রেন্ডলি
স্কিন কেয়ার
অনেক সময় বাজারের পণ্যের চেয়ে ঘরে তৈরি প্রাকৃতিক পণ্য ত্বকের জন্য বেশি কার্যকর। ঘরে সহজলভ্য উপাদান দিয়ে আপনি ত্বকের যত্ন নিতে পারেন। নিচে কিছু ঘরে তৈরি স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টের রেসিপি দেওয়া হলো-
ইকো-ফ্রেন্ডলি
স্কিন কেয়ার শুধু ট্রেন্ড নয়, বরং এটি আমাদের ত্বক এবং পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল
আচরণের প্রতীক। প্রাকৃতিক উপাদান ও টেকসই পণ্য ব্যবহার করে সৌন্দর্যচর্চায় ইতিবাচক
পরিবর্তন আনতে সম্ভব।