সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৫ ১০:২৪ এএম
৪০ বছর ধরে হাওয়াই মিঠাই বিক্রি করেন আবদুর রশিদ
হাওয়াই মিঠাই লাগবে, হাওয়াই মিঠাই? মিষ্টি নরম গোলাপি, হাওয়াই মিঠাই! এমন হাঁকডাক দিয়ে স্কুল-কলেজ, পাড়ামহল্লা ও শহরের অলিগলিতে সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত ঘুরে বেড়ান ষাটোর্ধ্ব আবদুর রশিদ। প্রায় তিন দশক ধরে গ্রামবাংলায় সমাদৃত ঐতিহ্যবাহী এ হাওয়াই মিঠাই বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাঁকডাক শুনেই ছুটে আসে শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সের লোকজন।
গ্রামগঞ্জে ফেরি করে কটকটি, হাওয়াই মিঠাই, নারকেল আইসক্রিমসহ বিভিন্ন জিনিস বিক্রির দৃশ্য এখন আর খুব একটা দেখা যায় না। কালের পরিক্রমায় নানা ধরনের লোভনীয় জিনিস শিশুদের হাতের নাগালে আসায় কদর কমেছে এসবের। এর পরও কিছু কিছু অঞ্চলে ধানের মৌসুম ও বৈশাখ, চৈত্রসংক্রান্তি, বৈসাবি, সাংগ্রাই, বিজুসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মেলায় হাওয়াই মিঠাই পাওয়া যায়। গ্রামবাংলার প্রিয় খাবার এ হাওয়াই মিঠাই ৪০ বছর ধরে বিক্রি করে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন মোহাম্মদ আবদুর রশিদের মতো দিন এনে দিন খাওয়া কিছু মানুষ। হাওয়াই মিঠাই বানিয়ে শিশু-কিশোরদের মন জয় করার চেষ্টায় তিনি অবিরাম পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
সম্প্রতি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের কোনামাঠি এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশের লাঠির এক পাশে ব্যাগ ও আরেক পাশে স্বচ্ছ কাচের বাক্স। এতে রয়েছে হাওয়াই মিঠাই। তার পিছে রয়েছে দুরন্ত শিশু-কিশোররা। হাতের ঘণ্টা বাজিয়েই নজর কাড়ছেন শিশু-কিশোরদের। হাওয়াই মিঠাই দেখতে গোল। মিষ্টি স্বাদ এবং মুখে দিলেই নিমেষে মিলিয়ে যায়। তুলার মতো তুলতুলে গোলাপি রঙের হাওয়াই মিঠাই।
শিশুদের প্রিয় এ হাওয়াই মিঠাই এখন কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার এলাকা, গ্রাম যেখানে মেলা, উৎসব, সভা হয় সেখানেই হাওয়াই মিঠাই নিয়ে হাজির হন আবদুর রশিদ। প্রায় তিন দশক ধরে হাওয়াই মিঠাই বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। অন্য পেশা আরও লাভজনক হলেও ছাড়ছেন না মিঠাই বিক্রির কাজ। ঐতিহ্য আঁকড়ে ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
হাওয়াই মিঠাই বিক্রেতা আবদুর রশিদ বলেন, ‘হাওয়াই মিঠাই বানাতে বেশি কিছু লাগে না। একটি মেশিন, আর উপকরণ হিসেবে স্পিরিট, চিনি, তেল এবং হালকা ভোজনযোগ্য রঙ। চলন্ত মেশিনের উপরিভাগের থালার মতো জায়গার মধ্যে ছিদ্রতে দেওয়া হয় এ উপকরণ। মেশিনের ঘূর্ণিতে যে তাপ উৎপাদন হয় তা থেকে রূপ নেয় হাওয়াই মিঠাই। ১ কেজি চিনি দিয়ে প্রায় ৫৫০ থেকে ৭০০ হাওয়াই মিঠাই বানাই। এরপর সকাল হলে গ্রামাঞ্চলে হেঁটে হেঁটে বিক্রি করি। প্রতি প্যাকেট হাওয়াই মিঠাই ২০ টাকা করে বিক্রি করছি। নগদ টাকা দিয়েও বিক্রি করি, আবার চুল ও ভাঙাচোরা মোবাইল নিয়েও বিক্রি করি। তবে মোবাইল ও চুল নিয়ে বিক্রি করলে লাভ বেশি হয়। হাওয়াই মিঠাই বিক্রি করে খরচ বাদে দৈনিক ৩০০ টাকা লাভ থাকে। এ দিয়ে কোনোমতে সংসার চালানো হচ্ছে।’