এম এ ইউসুফ আলী
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৫ ০৯:৪৭ এএম
চরমোন্তাজ থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে হেয়ার আইল্যান্ড
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হেয়ার আইল্যান্ড। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় অবস্থান এ দ্বীপটির। বঙ্গোপসাগরের বুক চিড়ে জেগে ওঠা এ দ্বীপের সৌন্দর্য ইতোমধ্যে পর্যটক আকৃষ্ট করতে শুরু করেছে। পরিকল্পিত উন্নয়নে পর্যটনশিল্পে আইল্যান্ডটি নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারে। পর্যটকরা বলছেন, অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্র থেকে এ দ্বীপের সৌন্দর্য কোনো অংশে কম নয়। ঝাউবাগান, বিস্তীর্ণ জলরাশি, রঙবেরঙের অতিথি পাখির কোলাহল, পাখা মেলে মুক্ত আকাশে উড়ে বেড়ানো আর নদীর জলে খুনসুটি। সাদা বক, বালিহাঁস, পানকৌড়ি, গাংচিলসহ নানা পাখির অবাধ বিচরণ। লাল কাকঁড়ার দলবেঁধে ছুটে চলা; যা একজন প্রকৃতিপ্রেমীকে বিমোহিত করবে। স্থানীয়দের কাছে ‘কলাগাছিয়ার চর’ হলেও বর্তমানে এটি চর হেয়ার নামে বেশ পরিচিত। সাগরকন্যা খ্যাত জেলা পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে দ্বীপ হেয়ার আইল্যান্ড। সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত সবুজ বনায়ন, দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, অতিথি পাখির কোলাহলসহ প্রাকৃতিক সব মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখার সুযোগ রয়েছে এ দ্বীপটিতে; যা দেখে বারবার ছুটে আসবেন পর্যটক। জেগে ওঠা এ চরের পুব পাশে রয়েছে বন বিভাগের সংরক্ষিত বনভূমি সোনার চর। পশ্চিমে চরতুফানিয়া, উত্তরে টাইগারদ্বীপের পাশে আছে চরকাশেম। কুয়াকাটা থেকে সাগরপথে এ চরের দূরত্ব ৩৫.১৯ কিলোমিটার। আর রাঙ্গাবালী উপজেলা থেকে এ চরটির দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। সৌন্দর্যে ঘেরা এ চরে রয়েছে ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বালুকাময় সৈকত। ঘুরতে আসা বেসরকারি সংস্থা কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক)-এর স্বপ্নের ঠিকানা প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. রাগীব আহসান বলেন, ‘আমরা ভ্রমণপিপাসু মানুষ কক্সবাজার গিয়েছি, কুয়াকাটা গিয়েছি এ ছাড়া বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করেছি কিন্তু সেসব জায়গার চেয়ে এটি কোনো অংশে কম সুন্দর নয়।’ পর্যটকরা আরও বলছেন, সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে হোটেল-মোটেল নির্মাণের পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন হলে সব ছাপিয়ে এগিয়ে যাবে পর্যটন স্পটটি। সম্প্রতি কুয়াকাটা থেকে এ চরে পর্যটকের আনাগোনা বেশ বেড়েছে।
এখানে ঘুরতে এসে মুগ্ধ পর্যটকরা। তারা বলেন, এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে বেশ ভালোই লাগছে। ঘুরে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে এখানে। প্রকৃতি দেখতে অনেক সুন্দর। এখানে অতিথি পাখি এবং লাল কাঁকড়া আমাদের মুগ্ধ করেছে। এখানে সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত একসঙ্গে দেখা যায়। এ ছাড়া চর হেয়ার হচ্ছে বনাঞ্চলে ঘেরা খুবই সুন্দর একটি পর্যটন এলাকা।
স্থানীয় পর্যটন উদ্যোক্তা মো. আইউব খান জানান, পটুয়াখালী থেকে রাঙ্গাবালী হয়ে এখানে আসা যাবে, অথবা ঢাকা থেকে সরাসরি দোতলা লঞ্চে চরমোন্তাজ হয়ে চর হেয়ার ঘুরে কুয়াকাটা থেকে ঢাকায় ফিরতে পারেন। এ ছাড়া কুয়াকাটা থেকে পর্যটকরা ইঞ্জিনচালিত ট্রলার বা স্পিডবোটে করে সহজেই এ চর হেয়ারে আসতে পারেন। সেখান থেকে সোনার চর কিংবা চরমোন্তাজের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে সহজেই ঢাকা ফেরার সুযোগ রয়েছে।
পর্যটকরা আরও বলছেন, পরিকল্পিত উন্নয়নে দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটনশিল্পে ‘হেয়ার আইল্যান্ড’ নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারে। বিদেশি পর্যটকদের জন্য থাইল্যান্ডের ফিফি আইল্যান্ড কিংবা ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের মতো সাজানো সম্ভব এ দ্বীপটি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকে কক্সবাজার, কুয়াকাটা অথবা সুন্দরবনের চাইতে কোনো অংশে কমতি নেই এ ছোট্ট দ্বীপটিতে। এ দ্বীপে এলে দেখা মিলতে পারে বন্য হরিণেরও। হেয়ার আইল্যান্ড ছাড়াও নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে ঘেরা সোনার চর, জাহাজমারা ও তুফানিয়া নিয়ে পর্যটন জোন করা হলে দেশিবিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে। দক্ষিণাঞ্চলে পর্যটনশিল্পে যুক্ত হবে নতুন দিগন্ত।
ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মুহাম্মাদ জাবের বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকার পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে মাস্টারপ্ল্যান হাতে নেওয়া হয়েছে।’
রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হাসান বলেন, ‘এ অঞ্চলের পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে আমরা কাজ শুরু করছি। সামনের দিনে এ পলিকল্পনা যাতে সমুন্নত থাকে এবং সরকারের অন্য দপ্তরগুলো সংযুক্ত থাকে আমরা সেজন্যও কাজ করছি।’
যেভাবে যাবেন : দ্বীপটি যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম রাঙ্গাবালী থেকে ২০ কিলোমিটার আর চরমোন্তাজ থেকে ৫ কিলোমিটার নৌপথ। ঢাকা থেকে আসতে চাইলে সদরঘাট থেকে রাঙ্গাবালীর চরমোন্তাজগামী লঞ্চে আসতে পারেন খুব সহজে। চরমোন্তাজ ঘাট থেকে স্পিডবোট বা ট্রলারযোগে হেয়ার আইল্যান্ড পৌঁছাতে হবে।
দ্বীপটি সাগরের মাঝে হলেও মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। ফলে যোগাযোগের কোনো প্রকার সমস্যা নেই। খাবার পানির জন্য রয়েছে টিউবওয়েল, ওয়াশরুম ও শৌচাগারের সুন্দর ব্যবস্থা। এ ছাড়া দ্বীপটিতে একটি দোকান রয়েছে। শুকনা খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় জিনিস সেখানেই কিনতে পারবেন।