ফারহাত মাইশা অর্পা
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৫ ১০:১৯ এএম
মডেল : জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল। ছবি : মঞ্জুরুল আলম
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা দিনদিন কঠিন হচ্ছে। পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালো না হলে টিকে থাকা সম্ভব নয়। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করার জন্য কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করবেন, সেসব নিয়ে থাকছে আজকের পরামর্শ
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়াটা বেশ কঠিন ও সৌভাগ্যের বিষয়। তবে যারা পরিকল্পনা অনুযায়ী মাঝের এ সময়টুকু যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারবেন, তাদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এখন আসি একদম শুরুতে কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তুতি শুরু করবেন।
লক্ষ্য স্থির করুন
আপনি প্রথমে কমপক্ষে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়কে টার্গেট করুন, ‘আমি এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়তে চাই’ এবং সে লক্ষ্যে নিজেকে প্রস্তুত করতে সচেষ্ট হোন।
বিগত সালের প্রশ্নব্যাংক সমাধান
আপনার লক্ষ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ বছরের প্রশ্নগুলো প্রাথমিকভাবে ঘেঁটে দেখুন। এরপর সেখান থেকে বের করুন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় কোন টপিক থেকে প্রশ্ন বেশি আসে, কোন কোন টপিক থেকে প্রশ্ন কম আসে, আর কোন কোন টপিক থেকে প্রশ্ন আসেই না। আপনার টার্গেটেড বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আলাদা টপিকগুলো নোট করলে বেশি ভালো হয়। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা একটি নির্দিষ্ট সিলেবাস ধরে পড়াশোনা করেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় প্রস্তুতির জন্য কৌশলী হতে হয়। কারণ, এ ক্ষেত্রে পড়ালেখাকে কোনো সিলেবাসের গণ্ডিতে ফেলা যায় না। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার ধরনে থাকে ভিন্নতা। ফলে সবকিছু মাথায় নিয়ে একটি পরিপূর্ণ পরিকল্পনা সাজাতে হয়।
কেউ যদি পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে চান, তার পাঁচ রকমের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ ও সময় হাতে থাকে না। এ কারণে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবেন, শুরু থেকেই সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আগের বছরগুলোর প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে প্রস্তুতির রুটিন তৈরি করুন। আগের বছরের প্রশ্নব্যাংকের পাশাপাশি বিসিএস ও অন্যান্য সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংকও সংগ্রহে রাখতে পারেন। এ ছাড়া সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে নিয়মিত পত্রিকায় নজর রাখা দরকার।
গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো আগে শেষ করুন
এবার দেখুন আপনার চিহ্নিত টপিকগুলোর মাঝে কোন টপিকগুলো আপনি ভালো পারেন, কোন টপিকগুলো মোটামুটি পারেন আর কোন টপিকগুলো একদমই পারেন না। আপনি যে টপিকগুলো ভালো পারেন, সেগুলো আগে পড়ে ফেলুন। কারণ, পারা বিষয়গুলো দ্রুত শেষ করা যায়। এরপর যেগুলো মোটামুটি পারেন, সে টপিকগুলো পড়ুন। এরপর যে টপিকগুলো একদমই পারেন না; সেগুলো পড়ুন। নিজে না পারলে সহপাঠী বা অভিজ্ঞদের সহযোগিতা নিন।
অনলাইনে চোখ রাখুন
বর্তমানে অনলাইনে বিভিন্ন সাইট থেকে ভর্তি পরীক্ষাসংক্রান্ত তথ্য ও সহযোগিতা পাওয়া যায়। বাড়িতে খবরের কাগজ না রাখা হলে ই-পেপার পড়ার অভ্যাস করতে পারেন। যেকোনো তথ্যের জন্য চোখ রাখতে পারেন উইকিপিডিয়া ও বাংলাপিডিয়ায়। তবে তথ্যটি যেন নির্ভুল হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অনলাইনে নির্ভুল তথ্য খুঁজে বের করাও কিন্তু এক ধরনের দক্ষতা, যে দক্ষতা এখন থেকেই গড়ে তোলা উচিত। পাঠ্যবইয়ের অনেক বিষয়সংশ্লিষ্ট ক্লাস পেয়ে যেতে পারেন অনলাইনে। ইউটিউবের ভিডিও ক্লাসগুলোও অনেক সময় বুঝে পড়তে খুব সাহায্য করে। যে কোচিংগুলো ভর্তি পরীক্ষায় সহায়তা করে, তাদের প্রায় প্রতিটিই ইউটিউব চ্যানেলে আছে। বিনামূল্যে সহায়তা পেতে এসব ইউটিউব চ্যানেলেও চোখ রাখতে পারেন। যেমন টেন মিনিট স্কুল, উদ্ভাস-উন্মেষ শিক্ষা পরিবার, হাল্কস্টেইন এইচএসসি, প্রো উইথ স্বাধীন।
টেক্সটবুক পড়ুন
আপনার টেক্সটবুক তথা পাঠ্যবইগুলো লাইন বাই লাইন পড়ুন। মনে রাখতে হবে, এইচএসসি পরীক্ষার জন্য পাঠ্যবই থেকে বেছে বেছে পড়ে ভালো রেজাল্ট করা গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে ভালো করা যায় না। এ ক্ষেত্রে পাঠ্যবইয়ের সবকিছু পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। তবে পড়ার সময় অবশ্যই লাল কলম বা হাইলাইট দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ও লাইনগুলো পড়বেন। এতে মনে থাকবে বেশি।
পাঠ-পরিকল্পনা তৈরি করুন
নিজের সময় ও সুবিধা অনুযায়ী একটা পড়ার রুটিন তৈরি করে নেবেন এবং পাশাপাশি প্রতিদিন ও প্রতি সপ্তাহে কী কী পড়বেন তার একটি স্টাডিপ্ল্যান বা পাঠ-পরিকল্পনা তৈরি করে নেবেন। পাঠ-পরিকল্পনা তৈরি করার সময় বড় বড় অধ্যায় ও কঠিন বিষয়গুলো অল্প অল্প করে ভাগ করে নেবেন। এতে আপনার পড়তে ভালো লাগবে।
প্রতিদিন পড়া রিভিশন দিন
প্রতিদিন যা পড়বেন তা ঘুমাতে যাওয়ার আগে একবার রিভিশন দেবেন। সম্ভব হলে আগামী দিন যা পড়বেন, সেটাও ঘুমাতে যাওয়ার আগেই একবার চোখ বুলিয়ে নেবেন। এতে কঠিন পড়াও সহজে আয়ত্ত হয়ে যাবে। কারণ, পরদিন যখন পড়তে যাবেন, তখন পড়াগুলো কিছুটা পরিচিত মনে হবে। এমনকি মনেও থাকবে বেশিদিন। তবে পড়া দীর্ঘদিন মনে রাখার একটি কার্যকর উপায় হলো পড়া লিখে লিখে এবং হালকা শব্দ করে পড়া।
অনলাইনে মডেল টেস্ট
অনলাইন বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আছে মডেল টেস্ট দেওয়ার সুযোগও। অনলাইনে পরীক্ষা দিলে সময় ও শক্তি দুটিই বাঁচে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা ও ফ্রি মডেল টেস্টের আয়োজন করে। এ ছাড়া লাইভ এমসিকিউ, স্যাট একাডেমি, জব অ্যাসিস্ট্যান্ট, পাঠশালা প্রশ্নব্যাংকের মতো বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমেও অনলাইনে মডেল টেস্ট দেওয়া যায়।
আরও কিছু পরামর্শ
এ সময়টায় অহেতুক ঘোরাঘুরি ও আড্ডা দেওয়া থেকে বিরত থাকুন, অর্থাৎ এমন কিছু করবেন না, যা আপনার সময় নষ্ট করে কিংবা পড়াশোনার প্রতি অমনোযোগী করে তোলে। কোনো মডেল টেস্টে কম নম্বর পেলে হতাশ হবেন না; আবার বেশি নম্বর পেলে অত্যধিক উচ্ছ্বসিতও হবেনে না। কারণ, এগুলো চূড়ান্ত পরীক্ষা নয়। এগুলো কেবল নিজেকে উন্নীত করার জন্য যাচাই করা। এসব মডেল টেস্ট পরীক্ষায় কখনও কম, আবার কখনও বেশি নম্বর পেতে পারেন। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস রাখুন এবং অন্যের সঙ্গে নিজের পড়াশোনা তুলনা করে হতাশ হবেন না। নিজের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করুন এবং প্রতিদিন নিজেকে আরও এগিয়ে নিতে চেষ্টা করুন।