এক দিনেই ঘুরে আসুন
সাদিয়া নওশিন শারিন
প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৫ ১২:৩২ পিএম
ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা বালিয়াটি জমিদার প্রাসাদ
ঢাকার অদূরে পশ্চিম কালীগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত মানিকগঞ্জ জেলা যেন বাংলার মাটির এক অসাধারণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের উদাহরণ। জেলা হিসেবে দেখার অনেক কিছু থাকলেও, মানিকগঞ্জের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আপনার মন এবং নজর কাড়তে বাধ্য। হুট করেই চোখে পড়বে বহু বছরের পুরোনো স্মৃতিবিজড়িত জমিদারবাড়ির স্থাপনা, যার লম্বা করিডোরগুলো আজও ধরে রেখেছে নানান জমিদার বংশের স্মৃতিকথা।
তাই যারা ঢাকার নগরজীবন থেকে বেরিয়ে বাংলার প্রকৃতি ও ঐতিহ্যের মাঝে হারিয়ে যেতে আগ্রহী, তারা আর দেরি না করে আজই রওনা হতে পারেন মানিকগঞ্জের জমিদারবাড়িগুলোর উদ্দেশে। ঢাকা থেকে মাত্র ৫১ কিলোমিটার দূরের এই শহরে যেতে হাতে সময় প্রয়োজন মাত্র দুই ঘণ্টা। আর যাওয়ার পথে বাংলার অপরূপ দৃশ্যের প্রশংসা না করলেই নয়।
প্রথমেই আপনি যেতে পারেন বালিয়াটি প্রাসাদ ভ্রমণে। সাধারণত রবিবার বাদে সপ্তাহের ছয় দিনই এ প্রাসাদটির দ্বার ভ্রমণকারীদের জন্য খোলা থাকে। জনপ্রতি প্রবেশমূল্য ২০ টাকা এবং এর ভেতর রয়েছে সুবিশাল সাতটি প্রাসাদ ও চারটি ঘাটবেষ্টিত একটি সুবিশাল পুকুর।
বালিয়াটি জমিদারবাড়ির গাথা হিসাব করলে আরও ২০০ বছর আগে শুরু হয়েছিল। জমিদার গোবিন্দরাম সাহা এর স্থাপক, যিনি সে সময় একজন প্রভাবশালী লবণ ব্যবসায়ী ছিলেন। প্রায় ৫ দশমিক ৮৮ একর জমির ওপর সুবিশাল এ জমিদারবাড়িটি আজও দাঁড়িয়ে আছে। প্রাসাদের সামনের ফটকদ্বারের ওপর একটি সিংহের স্থাপনা, যা সে জমিদারি ঐতিহ্যের প্রথা বহন করে।

সামনের প্রাসাদের দোতলায় রয়েছে একটি ছোট জাদুঘর, যেখানে জমিদার বংশের ব্যবহৃত কিছু দ্রব্যসামগ্রী সংরক্ষিত করে রাখা হয়েছে। জাদুঘরটি যেহেতু প্রাসাদের ভেতরে, সেহেতু আপনি সহজেই প্রাসাদের অবকাঠামো সম্পর্কে একটি ধারণা নিতে পারবেন। প্রাসাদের দোতলা থেকে নিচে তাকালে জলসা ময়দানেরও দেখা পাবেন, যা সত্যি আপনার মনকে তখনকার উৎসবমুখর দিনগুলোর অবস্থান কল্পনা করতে বাধ্য করবে।
প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে আপনি পাশের গলি দিয়ে প্রাসাদের পেছনের অংশে গেলেই দেখতে পাবেন আরও একটি ছোট প্রাসাদ স্থাপনা। মূলত প্রাসাদগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যা একটি আরেকটির পাশাপাশি বসে ভেতরে বদ্ধ খোলা মঠ তৈরি করেছে। এ খোলা মঠগুলোই মূলত তখনকার সময়ের জলসা উপস্থাপনা, বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানের আয়োজন, অথবা পরিবার-পরিজনের সঙ্গে বসে সময় কাটানোর স্থান ছিল।
জমিদারবাড়িগুলো ছাড়িয়ে সোজা হেঁটে চলে গেলে দেখতে পাওয়া যায় সেই ঐতিহাসিক পুকুরপাড়ের। চতুর্ভুজাকৃতির এ পুকুরটি ঘিরে রয়েছে চারটি ঘাট এবং বেশ কয়েকটি কুয়া। কুয়াগুলো লোহার জাল দিয়ে আটকে দেওয়া হলেও, পুকুরের ঘাটগুলোয় নামার অনুমতি রয়েছে। তাই আপনি চাইলেই সেখানে বেশকিছু ছবি তুলে নিতে পারেন।
বালিয়াটি জমিদার প্রাসাদ বাংলার মাটির এক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা, যা আজও বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান্গুলোর মধ্যে অন্যতম। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরে আসার মতো একটি জায়গা এটি, বিশেষ করে ছোটমণিদের বাংলার জমিদারদের ঐতিহ্য সম্পর্কে জানানোর জন্য উপযুক্ত স্থান। তাই আপনি যদি আজও এ জমিদারবাড়িটি ভ্রমণ না করে থাকেন, তাহলে একবার হলেও দেখে আসার প্রস্তুতি নিন এবং ব্যস্ততম জীবন থেকে বেরিয়ে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিন।