অবন্তিকা সরকার মেঘা
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৫ ১৩:০৬ পিএম
সুন্দর ছবিটি এঁকেছে সুওয়াইবা বিনতে মাহমুদ। সে ঢাকার আজিমপুর গভঃ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী
যদি কেউ ২০২৪ সালের শুরুতে আমাকে বলত, এ বছরটাতে এত কিছু ঘটতে চলেছে; তাহলে আমি নিশ্চয়ই তার মুখের ওপর হেসে ফেলতাম। বিশ্বাসই করতাম না। কিন্তু আজ পেছন ফিরে ঘটে যাওয়া দৃশ্যগুলো দেখে আরও বেশি অবাক হই। যদিও পেছনে চলে যাওয়া প্রতিটি বছরই মানুষের কাছে স্মরণীয়। তবে গত বছরটি আমাদের কাছে বেশি উল্লেখযোগ্য। কেননা অনেক উত্থানপতন হয়েছে। আমার ব্যক্তিজীবনে অনেক লক্ষ্য অপূর্ণ থেকে গেছে। কিন্তু এ বছরটি আমার জীবনে কতখানি পরিবর্তন এনেছে তা আসলে ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। শুরুতে আমার পরিকল্পনা ছিল খুবই সহজ-সরলÑ আগের বছরের চেয়ে পড়াশোনায় বেশি মনোযোগ দেওয়া। সে অনুযায়ী কাজ শুরু করলেও বছরের মাঝামাঝি এসে সবকিছু কেমন যেন এলোমেলো হয়ে যেতে শুরু করল। পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছিলাম না, আগের উৎসাহ হারিয়ে ফেলছিলাম। আমি ভেতরে ভেতরে অনুভব করছিলাম যে এর একটা পরিবর্তন দরকার। যদিও আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম কিন্তু আমার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাটি ঠিক প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছিল না।
এ তো গেল লেখাপড়ার অংশ। গত বছরে আমার আরেকটি লক্ষ্য ছিল পাঠক্রমের বাইরে কিছু কার্যক্রমে অংশ নেওয়া। যেমন এ বছর আমি তায়কোয়ান্ডোতে ব্ল্যাকবেল্ট অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। এ ছাড়া অলংকরণের প্রতি মনোযোগও দিয়েছিলাম। আমার সব সময়ই ইচ্ছা ছিল গিটার শেখার। অবশেষে এ বছর আমি গিটার শিখতে শুরু করেছি। তবে এ বছরের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো ‘কুইন্স কমনওয়েলথ’ রচনা প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জপদক।
তবে যা এ বছরটিকে সত্যিই স্মরণীয় করে তুলেছে তা হলো আমার পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো সুন্দর সময়। সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনার মধ্য দিয়ে আমার পরিবারের মধ্যে এমন সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। বন্ধুদের সঙ্গে মাঝেমধ্যে কিছু সমস্যা হলেও শেষ পর্যন্ত তারাই সেসব মানুষ যাদের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ২০২৪ ছিল কিছুটা সামনে এগিয়ে যাওয়া, কিছুটা পাওয়া, কিছুটা না পাওয়ার গল্প। যদিও আমি সবকিছু অর্জন করতে পারিনি, তবু যখন এ বছরটা শেষ হচ্ছে তখন আমি প্রতিটি মুহূর্তের জন্য গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আশা করি পরবর্তী বছরগুলোও এমনই অসাধারণ হবে।