লেখা ও আঁকা : সিম্মল ধূলি
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৫ ১২:৫৮ পিএম
আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৫ ১৪:১৬ পিএম
আঁকা : সিম্মল ধূলি
গাছেদের জীবন আছে
আমি বিজ্ঞান বইতে পড়েছি উদ্ভিদ এক ধরনের জীব। বিজ্ঞান বইয়ের শেষে শব্দের মানে আছে। সেখানে পড়েছি জীব মানে যার জীবন আছে। উদ্ভিদের জীবন আছে। বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু এ কথা বলেছেন। উদ্ভিদ মানে গাছপালা। আবার বৃক্ষও বলা যায়। তবে কিছু গাছ ছোট হয়, কিছু গাছ লম্বা আর কিছু হয় মাঝারি গড়নের। একবার আমরা স্কুলের শিক্ষাসফরে সোনারগাঁ পানাম সিটি গিয়েছিলাম। পুরোনো ইটে অনেক শ্যাওলা দেখেছি। আপুমণি বলেছেন এরাও গাছ। আমরা যে মাশরুম খাই ব্যাঙের ছাতা এগুলোও গাছ। বাংলাদেশে অনেকরকমের গাছ আছে। সব রকমের গাছ আমাদের জীবন বাঁচায়। সাদা শাপলা আমাদের জাতীয় ফুল। কাঁঠাল জাতীয় ফল। আম গাছ জাতীয় বৃক্ষ। জাতীয় পাখি দোয়েল গাছে বাসা বানায়। জাতীয় পশু বাঘ সুন্দরবনে গাছের ফাঁকে থাকে। গাছের শেকড়, ডাল, পাতা, ফুল, ফল থাকে। আমরা একটা পরীক্ষা করেছিলাম। দুটি কাচের গ্লাস নিলাম। কিছু পানি ঢাললাম। একটিতে লাল রঙ দিলাম। দুটি গ্লাসে দুটি গাছ রাখলাম। দেখেছি গাছ শেকড় দিয়ে পানি খায়। একটি গাছ লাল হয়ে গেল। পানি না পেলে গাছ মরে যায়। আমি প্রতিদিন গাছে পানি দিই। গাছ নিজের খাবার নিজেই বানায়। গাছের জন্য মাটি দরকার। আমাদের বিজ্ঞান বইতে একেকরকম মাটিতে একেকরকম গাছের ছবি আছে। দাদু বলেছে, সব গাছ সব জায়গা পছন্দ করে না। কেউ থাকে পাহাড়ে। কেউ থাকে বনে। কেউ থাকে নদীর পাড়ে। কেউ থাকে বাগানে। আমি সুন্দরবন গিয়েছিলাম। সেখানে অনেক গাছের শেকড় মাটির ওপরে থাকে। শালবনে সব পাতা ঝরে যায়। গাছেদের জায়গা নষ্ট করা উচিত না। তাহলে আমরা আর অক্সিজেন পাব না।
গাছ লাগাতে ভালোবাসি
জাতীয় সংগীত গাইতে আমার বড় ভালো লাগে। এখানে ধানক্ষেতের কথা আছে। আম গাছ, বট গাছের কথা আছে। ধান গাছ থেকেই আমরা ভাত পাই। কাজী নজরুল ইসলামের ‘আমি হব’ কবিতাটি আমার খুব প্রিয়। এখানে কুসুমবাগের কথা আছে। আমি জানি কুসুমবাগ মানে ফুলের বাগান। আমার দাদাবাড়ি ও দিদাবাড়িতে ফুলের বাগান আছে। আমি জবা ফুল, বেলি ফুল আর নিম গাছ লাগিয়েছি। আমাদের বারান্দায় ফুল গাছ আছে। থানকুনি ও তুলসী গাছ আছে। থানকুনিপাতা খাওয়া যায়। কাশি হলে তুলসীপাতার রস খায়। গাছ আমাদের বন্ধু। আমাদের অক্সিজেন দেয়। ফল দেয়। ঝড় থেকে বাঁচায়। ছায়া দেয়। গাছ থাকলে ঠান্ডা থাকে। গাছে পাখি থাকে। প্রজাপতি থাকে। জাদুঘর আর বোটানিক্যাল গার্ডেন আমি গিয়েছি। বাগানে লেখা থাকে ‘ফুল ছেঁড়া নিষেধ’। ফুল ছিঁড়লে গাছ কষ্ট পায়। বাবা বলেছে, রাতে গাছেরা ঘুমায়।
গাছ বাঁচাতে আন্দোলন
বন্দে আলী মিঞা কবিতা লিখেছেন আমার বাংলা বইতে। কবিতার নাম আমাদের গ্রাম। কবিতার শেষে প্রশ্ন আছে। আত্মীয়ের মতো মিলেমিশে কারা আছে? ক্লাসে একদিন আপুমণি জিজ্ঞেস করেছিল। আমি বলেছি আম গাছ, জাম গাছ, বাঁশঝাড় মিলেমিশে থাকে সেই গ্রামে। আমিও গ্রামে গিয়েছি। শরৎকালে নদীর পাড়ে সাদা কাশবন দেখেছি। বসন্তকালে লাল পলাশ আর শিমুল ফুল ফোটে। শীতকালে খেজুর গাছে রস হয়। তাল গাছ নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবিতা লিখেছেন আমার বইতে। তাল গাছে বাবুই পাখি বাসা বানায়। বট গাছের ছায়ায় গরু নিয়ে রাখাল থাকে। গাছ না থাকলে আমরা এসব দেখব না। আমাদের বইতে অনেক নদীর নাম আছে। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, সোমেশ্বরী। আমি নেত্রকোণায় দেখেছি নদীর সঙ্গে পাহাড়। পাহাড়ে অনেক গাছ। গাছ থাকলে বৃষ্টি হয়। আমি পড়েছি ভাষার জন্য আমরা জীবন দিয়েছি। মা বলেছে, গাছেরাও কথা বলে। গাছেদের ভাষা আছে। গাছ বাঁচাতে আমি আন্দোলন করেছি। নিজের হাতে পোস্টার লিখেছি। বন্ধুদের সঙ্গে নিয়েছি। আমাদের বইতে পড়ায়, ‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারা দিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি।’ ভালো হয়ে চলতে হলে গাছকে কষ্ট দেব না। নতুন বছরে আমি গাছ দিয়ে আমাদের দেশ সাজাব। আমরা গাছের বন্ধু হব।