× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিদায় ২০২৪

ফ্যাশনে ছিল পরিবেশ ভাবনা

সুবর্ণা মেহ্‌জাবীন

প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৫:৪০ পিএম

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৫:৪৮ পিএম

মডেল: সিগ্ধা ও সিয়াম: পোশাক: তাভাস; ছবি: ফারহান ফয়সাল

মডেল: সিগ্ধা ও সিয়াম: পোশাক: তাভাস; ছবি: ফারহান ফয়সাল

ফ্যাশন ট্রেন্ড সব সময়ই দেশের সংস্কৃতি, বাজারের চাহিদা এবং বৈশ্বিক প্রভাব দ্বারা গঠিত হয়। ২০২৪ সালে এসে বিশ্বব্যাপী ফ্যাশনে একটি সুস্পষ্ট পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে, যার মধ্যে দেখা মিলছে টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব ফ্যাশন।

মডেল: আয়েশা; পোশাক: অঞ্জন’স

বিশ্বজুড়ে ফ্যাশন ডিজাইনাররা এখন টেকসই উপকরণ এবং পরিবেশবান্ধব নকশার দিকে ঝুঁকছেন। রিসাইকেলড ফেব্রিক, প্রাকৃতিক রঙ এবং বায়োডিগ্রেডেবল উপকরণের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। শুধু স্টাইলিশ হওয়াই নয়, বরং পরিবেশ রক্ষার প্রতি দায়বদ্ধতা প্রকাশও এখন ফ্যাশনের একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে।

এ ট্রেন্ডের প্রভাব কেবল পশ্চিমা বিশ্বের ডিজাইন হাউসগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলোতেও এর ছাপ স্পষ্ট। স্থানীয় কারুশিল্প এবং ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিগুলোকে আধুনিক ফ্যাশনে মিশিয়ে পরিবেশবান্ধব ডিজাইন তৈরি করা হচ্ছে। ২০২৪-এর এ পরিবর্তনশীল ফ্যাশন ট্রেন্ড আমাদের ভবিষ্যৎ পোশাকশিল্পের দিকনির্দেশনা নিয়ে আশাবাদী করে তোলে।

এ বছর ফ্যাশন হাউসগুলো নিয়ে এসেছে উদ্ভাবনী ডিজাইন। ডিজাইনাররা দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনে নিজেদের পরিচিতি তৈরি করেছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ট্রেন্ডও বাংলাদেশের ফ্যাশনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। ঐতিহ্যবাহী পোশাকের পুনর্জাগরণ, আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের প্রভাব এবং দেশি ডিজাইনারদের সৃজনশীলতাÑ সব মিলিয়ে এ বছরটি হয়ে উঠেছে ফ্যাশনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।

জেন-জির ফ্যাশন

তরুণদের ফ্যাশনে এ বছর দৃষ্টিগ্রাহ্য ছিল স্ট্রিট ফ্যাশনের উত্থান। ওভারসাইজড টি-শার্ট, বাগি প্যান্ট এবং কনভার্স টাইপ জুতা তরুণদের প্রতিদিনের ফ্যাশনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের স্টাইলিং তরুণদের ফ্যাশনে বড় ভূমিকা রেখেছে।

তরুণরা এ বছর নিজেদের স্টাইল নিয়ে নানা ধরনের পরীক্ষানিরীক্ষা করেছে। ইউনিসেক্স পোশাকের চল বেড়েছে, যেখানে জেন্ডারনিরপেক্ষ টি-শার্ট, হুডি এবং টপ বেশ জনপ্রিয় ছিল। এ ছাড়া তরুণ প্রজন্ম মিনিমালিজম ধারণা গ্রহণ করেছে। মসৃণ ডিজাইন, বর্ণিল রঙের পোশাক এবং হালকা প্রিন্ট পোশাকের চল বেশি দেখা গেছে।

পার্টি এবং উৎসবের ক্ষেত্রে তরুণদের মধ্যে ঝলমলে প্যালেট এবং সিকুইন কাজের পোশাকের চাহিদা ছিল তুঙ্গে। এ ছাড়া আড্ডায় এবং ক্যাজুয়াল পরিবেশে তাঁত ও খাদির তৈরি হালকা ব্লেজার এবং কুর্তার চাহিদা বেড়েছে।

তরুণীদের মধ্যে এ বছর ক্রপ টপ, ডেনিম জ্যাকেট এবং স্কার্টের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী পোশাকের আধুনিক ভার্সন যেমন জামদানির টপ এবং মসলিনের কেপ পরার প্রবণতা লক্ষণীয় ছিল। পুরুষদের ক্ষেত্রে ন্যাচারাল টোনের পাঞ্জাবি, স্ট্রেট-কাট প্যান্ট এবং লোফারের মতো আনুষঙ্গিক উপকরণ ফ্যাশনের নতুন সংযোজন হিসেবে দেখা গেছে।

মডেল: তান; পোশাক: বিবিয়ানা

ঐতিহ্যবাহী পোশাকের পুনর্জাগরণ

২০২৪ সালে দেশি ঐতিহ্যবাহী পোশাকের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। বিভিন্ন উৎসব এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে বেনারসি শাড়ি, জামদানি, মসলিন, তাঁত এবং খাদির পোশাক ছিল আলোচনার কেন্দ্রে।

এ বছর বেনারসি শাড়িতে জ্যামিতিক নকশা এবং মখমলি সুতার কাজ বিশেষভাবে জনপ্রিয় ছিল। বিয়ের আয়োজনে ভারী কাজের বেনারসি ছাড়াও হালকা বেনারসি শাড়ি অফিস পার্টি বা ছোট অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়েছে। জামদানির প্যাটার্নে কনট্রাস্ট রঙের ব্যবহার এবং সূক্ষ্ম নকশার আধিক্য লক্ষ করা গেছে। শাড়ির পাশাপাশি জামদানি কাপড় দিয়ে তৈরি সালোয়ার-কামিজ এবং ওড়নার চাহিদাও বেড়েছে। ঐতিহ্যবাহী মসলিন তার অতুলনীয় নরম আর স্বচ্ছতার জন্য আবারও ফ্যাশনে ফিরে এসেছে। ফিউশন ঘরানার পোশাকে মসলিন ব্যবহৃত হয়েছে গাউন, লং টপ ও স্কার্ট তৈরিতে। এ ছাড়া মসলিন কাপড়ে হ্যান্ড পেইন্টের নকশা করা শাড়ি বেশ জনপ্রিয় ছিল। তাঁত কাপড়ে এ বছর দেখা গেছে উদ্ভাবনী ডিজাইন, যা শাড়ি, কুর্তা এবং ড্রেসের মতো বিভিন্ন পোশাকে ব্যবহৃত হয়েছে। ফিউশন পোশাক তৈরিতে তাঁত কাপড়ের আধুনিক কাটিং এবং অ্যাকসেসরাইজড ডিজাইন ফ্যাশনে নতুন মাত্রা এনেছে। খাদি কাপড়ে হাতে আঁকা বা ব্লক প্রিন্টের কাজ এ বছর বিশেষভাবে লক্ষ করা যায়। শীতকালীন জ্যাকেট এবং ওভারকোট তৈরিতেও খাদি কাপড় ব্যবহৃত হয়েছে।

মডেল: তান; পোশাক: বিবিয়ানা

ফিউশন ঘরানার পোশাক

ফিউশন ফ্যাশন দেশে বেশ কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। শাড়ির সঙ্গে বেল্টের ব্যবহার, কুর্তার সঙ্গে প্লাজো প্যান্ট এবং ঐতিহ্যবাহী শাড়ির প্যালেটে ওয়েস্টার্ন ব্লাউজের সংযোজন; এ ছাড়া দেখা মিলছে নানা কিছু। ফিউশন শাড়িতে এ বছর আধুনিকতার ছোঁয়া ছিল লক্ষণীয়। ট্রেন্ডে ছিল ধাতব রঙের বর্ডার, অফ-শোল্ডার ব্লাউজ এবং শাড়ির সঙ্গে লেগিংস বা প্যান্টের ব্যবহার। এটি তরুণদের পার্টি লুকের জন্য বেশ আর্কষণীয় লুক দেয়। কুর্তার সঙ্গে ডেনিম জিন্স, স্কার্ট বা পালাজোর সংমিশ্রণ ফিউশন ফ্যাশনের অংশ হয়ে উঠেছে। ঐতিহ্যবাহী নানা নকশার কুর্তা আরামদায়ক ফেব্রিকের সঙ্গে মিলিয়ে তরুণ প্রজন্মের পছন্দের শীর্ষে ছিল এ বছর।

খাদি এবং মসলিন কাপড় দিয়ে তৈরি ফিউশন জাম্পসুট এবং গাউন এ বছর বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। এগুলো কেবল আরামদায়ক নয়, বরং আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ ছাড়া তাঁত এবং ব্লক প্রিন্টের টপস বা টি-শার্টের সঙ্গে ডেনিম প্যান্ট এবং হ্যান্ডলুম স্কার্ফ তরুণদের দৈনন্দিন পোশাকে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সব বয়সি নারী এসব ফিউশন পোশাক বেছে নিচ্ছেন।

মডেল: সজীব ও জুই; পোশাক: বিশ্বরঙ

আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের প্রভাব

বাংলাদেশি ফ্যাশন প্রভাবিত হয়েছে বিশ্ব ফ্যাশনের নানা ট্রেন্ড দ্বারা। বিশেষ করে ওয়েস্টার্ন  এবং মিনিমালিস্ট ডিজাইনগুলো দেশি ডিজাইনে জায়গা করে নিয়েছে। লো-ওয়েস্ট জিন্স, কার্গো প্যান্ট এবং ক্রপ টপের জনপ্রিয়তা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের প্রভাব তুলে ধরে।

গ্লোবাল ফ্যাশন ইভেন্ট যেমন প্যারিস এবং মিলান ফ্যাশন উইক থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশি ডিজাইনাররা নতুন নতুন ধারার পোশাক এনেছেন। ন্যূনতম ডিজাইন, হাই-ওয়েস্ট স্কার্ট এবং গ্লিটার অ্যাকসেসরিজের সংযোজন এ প্রভাব তুলে ধরেছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর মতো দেশের কিছু উদ্যোক্তা থ্রিডি প্রিন্টিং এবং স্মার্ট টেক্সটাইল ব্যবহারও শুরু করেছেন।

মডেল:  রশনি ও সজীব; পোশাক: রঙ বাংলাদেশ

দেশি ফ্যাশন হাউসের ভূমিকা

দেশি ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো সব সময়ই চেষ্টা করে নতুনত্ব এবং বৈচিত্র্য নিয়ে আসতে। এ বছর নতুন নতুন ডিজাইন এবং ধারণা নিয়ে এসেছে বেশিরভাগ ব্র্যান্ড, যা ফ্যাশনপ্রেমীদের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, কুর্তিসহ ছেলেদের পাঞ্জাবি, শার্ট সবকিছুতেই মিনিমালিজমের ছাপ স্পষ্ট। রঙের ক্ষেত্রেও চোখে আরাম দেয় এমন প্যালেট বেছে নিয়েছেন ফ্যাশন ডিজাইনাররা। এ ছাড়া ফেব্রিক হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছে সব ঋতুতে পরার উপযোগী আরামদায়ক কাপড়। বিভিন্ন উৎসব কেন্দ্র করে মোটিফভিত্তিক নকশার ব্যবহারও ছিল চোখে পড়ার মতো। এখন সব বয়সি মানুষ এমন মোটিভনির্ভর পোশাক বেছে নিচ্ছেন উৎসব-পার্বণে। কিছু মোটিফ আবার সারা বছরই পরতে দেখা গেছে ফ্যাশন সচেতনদের। এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব ফেব্রিক দিয়ে পোশাকে নতুনত্ব এনেছে অনেক ফ্যাশন হাউস। ব্লকপ্রিন্টের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ এবং টপসের আবেদন এ বছরও ছিল। সঙ্গে এমব্রয়ডারি এবং হাতে করা নানা কারুকাজও চোখে পড়ার মতো। ঐতিহ্যবাহী এসব কাজের সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধনের দেখা মিলেছে পোশাকে।

এ ছাড়া বিভিন্ন ফ্যাশন শোতে ব্র্যান্ডগুলো তাদের বৈচিত্র্যময় নানা পোশাক নিয়ে হাজির হয়েছে, যেখানে সমন্বয় ঘটানো হয়েছে স্থানীয় সংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক ট্রেন্ডের। এখন সারা বছরই উৎসব কেন্দ্র করে তিন-চার দিনব্যাপী মেলা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা অংশ নেন তাদের বৈচিত্র্যময় কালেকশন নিয়ে; যা দেশি ফ্যাশনের অগ্রগতির অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি আরও নতুন এবং সৃজনশীল ধারায় এগিয়ে যাবেÑ এটাই প্রত্যাশা।


লিপি খন্দকার
স্বত্বাধিকারী, বিবিয়ানা
এ বছর ফ্যাশনে বড় ধরনের পরিবর্তন তেমন একটা দেখা যায়নি। এর পেছনে একটি বড় কারণ হলো দেশি পোশাকের বিকাশ মূলত উৎসবকেন্দ্রিক, আর এ বছর অনেক উৎসব প্রায় একই সময়ে হওয়ায় ফ্যাশন হাউসগুলো নতুনত্ব আনতে কিছুটা সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এর মাঝেও একটা ইতিবাচক দিক ছিল, মানুষ ফ্যাশন নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন হয়ে উঠেছে। বর্তমানে পোশাকে ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নিজস্বতা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এখন ফ্যাশনের কোনো নির্দিষ্ট মাপকাঠি নেই, বরং ‘ফ্রিডম ইন ফ্যাশন’ বা ফ্যাশনে স্বাধীনতার ধারণা সামনে এসেছে। মানুষ এখন ইচ্ছেমতো পোশাকের মিক্স-ম্যাচ করছে, যা তাদের ব্যক্তিত্ব আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে সাহায্য করছে। ডিজাইনারদের জন্যও এটি নতুন অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে, কারণ ক্রেতারা এখন অভিনব এবং ভিন্নধর্মী পোশাকের দিকে ঝুঁকছে। এ বছর টেকসই ফ্যাশনের প্রতি আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশি ফেব্রিক যেমন তাঁত, খাদি, এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক উপকরণের পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। তরুণ প্রজন্ম দেশি ঐতিহ্য আধুনিক স্টাইলে তুলে ধরছে, যা ফ্যাশন শিল্পের জন্য দারুণ ইতিবাচক। বিশেষ করে শাড়ির ক্ষেত্রে মেয়েরা নতুন স্টাইল এবং ভিন্ন উপস্থাপনার মাধ্যমে ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটাচ্ছে। এ পরিবর্তন আমাদের ফ্যাশন শিল্পকে একটি নতুন দিশা দিয়েছে। টেকসই ফ্যাশন এবং দেশি ঐতিহ্যের প্রতি এ আকর্ষণ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা যায়। দেশি ফেব্রিক এবং নকশার সঙ্গে আধুনিক ভাবনার এ মিশ্রণ আমাদের ফ্যাশন জগতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।

খালিদ মাহমুদ খান
কর্ণধার, কে ক্র্যাফট
এ বছরের পোশাকের নকশা বা প্যাটার্নে নানা ধরনের ধারা দেখা গেছে। সুনির্দিষ্ট একক কোনো ধারার শক্তিশালী প্রভাব তেমন দেখা যায়নি। এর মাঝেও কিছু বিশেষ পরিবর্তন চোখে পড়েছে। যেমন ট্র্যাডিশনাল মোটিফে আধুনিক প্যাটার্নের উপস্থাপনে নানা কাজ হয়েছে, বিশেষত প্রিন্ট মিডিয়ায় যা গ্রহণযোগ্যতাও পেয়েছে। পাঞ্জাবি এবং কামিজের প্যাটার্নে পরিবর্তন এসেছে। পাঞ্জাবির কাটেও নিরীক্ষা এখন দেখা যাচ্ছে। ⁠শাড়ির বুননেও বৈচিত্র্য দেখা গেছে। শাড়ির সারফেস অর্নামেন্টেশন ও লেআউটে মোটিফের ব্যবহার এবং কালারের বিন্যাসে বৈচিত্র্য ছিল। যার যার নিজস্ব ধারায় ডিজাইনার বা হাউসের স্বাতন্ত্র্য দেখা গেছে। এ ছাড়া ⁠সাসটেইনেবল ফ্যাশন বিষয়ে সচেতনতা ও চর্চা বেড়েছে। নিজের বা পরিবারের পোশাক নানাভাবে রিইউজ করা, আপসাইকেল ও রিসাইকেল করবার বোধ এ বছর অনেক দেখা গেছে। ন্যাচারাল ডাইয়ের কদর বেড়েছে। আরামদায়ক কাপড়ের ব্যবহার যেমন বেড়েছে, অন্যদিকে হাতেবোনা কাপড় ও সূচিকর্মের ব্যবহার পোশাকে কম দেখা গেছে। ⁠সারা বছর পোশাক ও আনুষঙ্গিক সামগ্রীর মেলার আয়োজন ছিল। সেখানে তরুণ উদ্যোক্তা, ডিজাইনার ও ক্রেতাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা গেছে। তবে ⁠থিমভিত্তিক একক বা গ্রুপ প্রদর্শনীর আয়োজন এবারও কম দেখা গেছে। এ বছর ⁠আমদানিকৃত বিদেশি পোশাক বা বিদেশি ম্যাটেরিয়ালের ব্যবহার খুব একটা কমেছে মনে হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে সোর্স কান্ট্রি হয়তো কমেছে বা বেড়েছে। বিদেশি ফেব্রিকের অনুপ্রেরণায় দেশি টেক্সটাইলে নতুন নতুন কাপড়ের সরবরাহ বেড়েছে। ⁠দেশি পোশাক ও কারুপণ্যের উৎপাদন, বিপণন ও বাণিজ্যের খরচ বেড়েছে। পুঁজির প্রয়োজন যেমন বেড়েছে, তেমন ঋণের সুদহার বেড়ে যাওয়ায় পুঁজি বা বিনিয়োগের খরচ বেড়েছে। ফলে দেশে উৎপাদিত পণ্যের উদ্যোক্তারা চাপের মুখে আছেন।


বিপ্লব সাহা 
কর্ণধার, বিশ্বরঙ
বিশ্বরঙ সব সময়ই ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং আধুনিকতার একটি অসাধারণ সমন্বয় তুলে ধরে। প্রাত্যহিক জীবনের সাদামাটা মুহূর্তগুলো উৎসবমুখর এবং রঙিন করে তোলার ক্ষেত্রে বিশ্বরঙ তার অনন্য কৃতিত্ব বজায় রেখেছে। ২০২৪ সালেও বিশ্বরঙ ক্রেতাদের রুচি এবং ক্রয়ক্ষমতাকে গুরুত্ব দিয়ে পোশাকে এনেছে নতুনত্ব ও নান্দনিকতা। এ বছরে তাঁতের কাপড়, সুতি, ভয়েল, জয় সিল্ক এবং সফট সিল্কের মতো দেশি কাপড়ের ব্যবহার ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রতিটি পোশাকে ভ্যালু-অ্যাড করতে স্ক্রিন প্রিন্ট, ডিজিটাল প্রিন্ট, হ্যান্ড এমব্রয়ডারি, কম্পিউটার এমব্রয়ডারি, ব্লক প্রিন্ট, টাইডাই এবং কারচুপির নিখুঁত প্রয়োগ দেখা গেছে। মোটিফে এসেছে বৈচিত্র্য। ট্রাইবাল নকশা, শখের হাঁড়ি, আলপনা এবং জ্যামিতিক নকশার মাধ্যমে পোশাকে সৃষ্টি হয়েছে চিরায়ত সৌন্দর্যের ছোঁয়া। পাশাপাশি পিনটাক, প্লিট এবং পাইপিংয়ের সৃজনশীল ব্যবহার প্রতিটি পোশাকে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। ২০২৪ সালে বিশ্বরঙ তার ঐতিহ্যবাহী উপকরণের সঙ্গে আধুনিক নকশার মিশ্রণে তৈরি করেছে এমন সব পোশাক, যা সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করেছে। ফ্যাশনে এ ধারা ভবিষ্যতেও স্থায়ী হবে বলে আশা করা যায়।

সৌমিক দাস
কর্ণধার, রঙ বাংলাদেশ
২০২৪ সালের ফ্যাশনে বিশ্বব্যাপী কিছু উল্লেখযোগ্য ট্রেন্ড দেখা গেছে, যা বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ও বাজারের প্রভাব স্পষ্ট করেছে। ফ্যাশন ডিজাইনাররা এ বছর টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব উপকরণের দিকে বিশেষভাবে মনোযোগ দিয়েছেন। রিসাইকেলড ফেব্রিক এবং প্রাকৃতিক রঙের ব্যবহার ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মিনিমালিজম ও সিমপ্লিসিটি এ বছরের প্রধান ট্রেন্ড হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তবে এর সঙ্গে নতুন একটি ধারা দেখা গেছে, অ্যাথলেটিক সফিস্টিকেশন, যেখানে অ্যাকটিভওয়্যারের আরামদায়ক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মার্জিত রুচিশীলতার একটি মিশ্রণ তৈরি হয়েছে। পোশাকে আরাম এবং স্টাইলকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা ফ্যাশনের গতিশীলতা নতুন মাত্রায় উন্নীত করেছে। দেখা মিলছে পলো শার্ট এবং ওয়াইড লেগ ফরমাল প্যান্টের আধুনিক উপস্থাপনা। উজ্জ্বল ও চকচকে ফেব্রিকের ব্যবহার, যা উভয় দিকেই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এ ছাড়া বোল্ড প্যাটার্ন এবং পরিশীলিত শৈলীর মিশ্রণও চোখে পড়ার মতো। সব মিলিয়ে এ বছরের ফ্যাশন ছিল বৈচিত্র্যময় এবং উদ্ভাবনী। টেকসই ফ্যাশনের চর্চা, আরামদায়ক ডিজাইন এবং শৈল্পিক সৃজনশীলতার মেলবন্ধন ২০২৪ সালের ফ্যাশন ট্রেন্ডকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা