× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

হিমশীতল অ্যান্টার্কটিকায় অনন্য কিছু দিন

মহসিনুল হক

প্রকাশ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪ ১২:২০ পিএম

শুভ্র শীতল রূপকথার রাজ্যে চার দিকের সৌন্দর্য অবলোকন করছেন অভিযাত্রীরা  ছবি : লেখক

শুভ্র শীতল রূপকথার রাজ্যে চার দিকের সৌন্দর্য অবলোকন করছেন অভিযাত্রীরা ছবি : লেখক

বরফ আচ্ছাদিত মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকায় ৬ থেকে ২৫ ডিসেম্বর ২০ দিনের ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন একদল অ্যডভেঞ্চারপ্রিয় মানুষ। পেঙ্গুইন, সিল, তিমি, অ্যালবাট্রস, স্কুয়াসহ দক্ষিণ মেরুর নানা প্রাণীর সঙ্গে দেখা হয় তাদের। ঘুরিয়ার পাঠকদের জন্য সেই ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন দলের অন্যতম সদস্য মহসিনুল হক 

পেনিনসুলায় পা রাখার মুহূর্তে এক অনন্য অনুভূতি আমাদের মাঝে কাজ করছিল। আমরা যেন কল্পনার জগতে হারিয়ে যাচ্ছিলাম। দেখলাম একদম দুধের মতো এক দেশ কিংবা উঠান লেপার মতো করে সাদা বরফ দিয়ে সাজানো পাহাড়! এমন দৃশ্যে কোনো মানুষ নির্বাক না হয়ে পারে না। এক অপরূপ বিস্ময় যেন চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে ধরা দিল! আমরা হারিয়ে গেলাম সেই অপার সৌন্দর্যে! পথের পাঁচালীর অপু-দুর্গার ট্রেন দেখা যেমন শেষ হয় না, তেমনি সারা দিনেও এই বরফঢাকা অ্যান্টার্কটিকা দেখা শেষ হয় না আমাদের! আমরা হারিয়ে যাই রূপকথার সেই দেশে!

অ্যান্টার্কটিকার অন্যতম আকর্ষণ এখানকার পেঙ্গুইন
অ্যান্টার্কটিকা ভ্রমণের স্বপ্ন অনেক, অনেক দিনের। এ বছর আমার জীবনে সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ এলো। ঢাকা থেকে সরাসরি আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সে এসে নেমেছি ৪ ডিসেম্বর। পর দিন বুয়েন্স আয়ার্স থেকে পৃথিবীর সর্ব দক্ষিণের শহর উশুইয়া এসে একটা রাত কাটাই। এরপর এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ! ৬ ডিসেম্বর বিকাল ৪টায় শুরু হয় আমাদের যাত্রা। ১০৮ জন অভিযাত্রী নিয়ে আমাদের নির্ধারিত জাহাজ ওশানওয়াইডের ‘প্লানসিয়াস’ যাত্রা শুরু করে। অভিযাত্রী দলের ২৭ জনই ছিলাম বাংলাদেশি আর বাংলাভাষী ছিল ৩০ জন। এ ছাড়া ক্যাপ্টেন, গাইড, ডাক্তার কুকসহ জাহাজের স্টাফ ছিলেন ঊনপঞ্চাশ জন। প্লানসিয়াস জাহাজটি একসময় ব্যবহার হতো বিভিন্নরকমের অনুসন্ধানী পরীক্ষণে বিজ্ঞানীদের বহন করার কাজে। সেই বিখ্যাত জাহাজটিকেই এখন পর্যটক উপযোগী করে আমাদের মতো অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী মানুষদের বেড়াতে নিয়ে যাবার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। সেই জাহাজে চলেছি আমরা।


বুয়েন্স আয়ার্স থেকে উশুইয়ার দূরত্ব তিন হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। পৃথিবীর সর্বদক্ষিণের শহর এই উশুইয়া, যা টিয়েরা দেল ফুয়েগো দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত। এটি দক্ষিণ আমেরিকার শেষ প্রান্তে হওয়ায় ‘দ্য এন্ড অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ বা ‘পৃথিবীর শেষ প্রান্ত’ নামে খ্যাত। উশুইয়া থেকে আমাদের প্রথম গন্তব্য মালভিনাস দ্বীপ, যা ফকল্যান্ড নামেই বেশি পরিচিত। এর ওয়েস্ট পয়েন্ট আইল্যান্ড এবং স্যান্ডার্স দ্বীপে অবতরণ করে পরদিন সকালে যাই ফকল্যান্ডের রাজধানী পোর্ট স্টানলি আইল্যান্ডে। ওয়েস্ট পয়েন্ট আইল্যান্ডে আমি প্রথমবারের মতো পেঙ্গুইন দেখি। একটা বা দুটো নয় অসংখ্য, এটা যেন পেঙ্গুইনের রাজ্য। এখানে আলবাট্রাসও ছিল প্রচুর। অন্যদিকে পোর্ট স্টানলি সাজানো গোছানো এক শহর। এখানকার মিউজিয়াম ঐতিহাসিকভাবে ইতিহাস সংরক্ষণাগার। 

বরফে আচ্ছাদিত নির্জন গুহা
সেখান থেকে টানা তিন দিন জাহাজ চলার পর আমরা পৌঁছে যাই রাইট হোয়েল বে এবং সালিসবারি প্লেইন অঞ্চলে। এখানেও দেখা গেছে পেঙ্গুইন আর অ্যালবাট্রসসহ স্কুয়া পাখি। এই দ্বীপটিতে সিলেরও দেখা মেলে। 
১৩ ডিসেম্বর আমরা পৌঁছে যাই নাবিক স্যাকলটন এর স্মৃতিবিজড়িত সাউথ জর্জিয়ার গ্রাইটভিকেন অঞ্চলে। এখানকার একটি কবরস্থানে নাবিক স্যাকলটনের মরদেহ সমাহিত করা আছে। এখানে পোস্ট অফিস, মিউজিয়ামসহ একটি গবেষণাকেন্দ্র রয়েছে। সীমিত সংখ্যক মানুষ এখানে কাজের কারণে বসবাস করেন।

সাউথ পয়েন্ট লিভিংস্টোন দ্বীপে দেখা মেলে সিলের 
পরের দিনের যাত্রাবিরতি ছিল সাউথ জর্জিয়ার গডথুলে। ১৯০৮ থেকে ১৯২৯- এই ২১ বছর শিকারিরা এখানকার তিমিদের জীবন চরম বিপন্ন করে তুলেছিল। অ্যান্টার্কটিক চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পর সাউথ জর্জিয়ায় তিমির জন্য অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হয়। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় আমরা এখানে অসংখ্য তিমির দেখা পাই।

বিজয় দিবসে গহিন সমুদ্র যেন এক টুকরো বাংলাদেশ
১৫ ডিসেম্বর সাউথ জর্জিয়া অঞ্চলের ‘কপার বে’তে জাহাজ অবতরণ করে। এখানেও তিমি, সিলসহ হরেক প্রজাতির পেঙ্গুইন দেখি আমরা। রাতে জাহাজে ফিরেই ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস পালনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়। 
১৬ ডিসেম্বর জাহাজের কোনো অবতরণসূচি ছিল না। আমরা সবাই লাল সবুজ টি-শার্ট পরে নিই। অ্যান্টার্কটিকায় বিজয় উৎসব, ভাবা যায়! এ এক অন্যরকম অনুভূতি। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ সব শহীদদের। অনুষ্ঠান ঘিরে ভিনদেশি অভিযাত্রীদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। দেশাত্মবোধক গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই বিজয় উৎসব। গভীর সমুদ্রে আমরা যেন এক টুকরো বাংলাদেশ।
এলিফ্যান্ট আইল্যান্ডে আমাদের অবতরণের কথা ছিল ১৯ ডিসেম্বর। অ্যান্টার্কটিকা পেনিনসুলা অঞ্চলের আবহাওয়ার বিরূপ থাকায় সেখানে নামা সম্ভব হয়নি। তবে আমাদের জাহাজ পেনিনসুলার চারপাশ দিয়েই চলতে থাকে। 
সেই ফাঁকে কয়েকটি খুব জরুরি কথা বলে রাখিÑ অ্যান্টার্কটিকায় ভ্রমণের জন্য শারীরিকভাবে অবশ্যই অবশ্যই পরিপূর্ণ সুস্থ এবং শারীরিকভাবে সক্ষম হওয়া জরুরি। হাঁটা, দৌড়ানো বা জিম করার মতো নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস থাকতে হবে। অ্যান্টার্কটিকার আবহাওয়া গ্রীষ্মকালেও অত্যন্ত শীতল। তাই ভ্রমণের সময় উষ্ণ পোশাক, ওয়াটারপ্রুফ জ্যাকেট, গ্লাভস, টুপি এবং ভালোমানের বুট থাকা প্রয়োজন।

এলিফ্যান্ট দ্বীপে নামা না হলেও পরদিন প্রায় একই রকম বরফঢাক ট্রিনিটি দ্বীপে নামতে পারি আমরা। ছোট নৌকা, যেটাকে এরা জডিয়াক বলে, সেটায় চড়ে দ্বীপের চারপাশের হিমশীতল সৌন্দর্য অনুভব করার চেষ্টা করেছি। ট্রিনিটি দ্বীপ মূলত অ্যান্টার্কটিকার একটি ক্ষুদ্র অংশ। যেখানে প্রকৃতির নিখুঁত সৌন্দর্য আর কঠিন পরিবেশ একসঙ্গে বিরাজ করছে। দ্বীপটির অসাধারণ বরফের ভূদৃশ্য, বিচিত্র তার প্রাণিজ জগৎ। গবেষণার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ট্রিনিটি পুরোপুরি বরফে আচ্ছাদিত। সারা বছর ধরে তুষারপাত এবং হিমবাহের গতিবিধি এই দ্বীপটিকে একটি চলমান ভূদৃশ্যে পরিণত করে। এ দ্বীপে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন দেখেছি। বিশেষ করে এমপেরর পেঙ্গুইন দেখা আমাদের জন্য ছিল এক বিশাল প্রাপ্তি।

২০ ডিসেম্বর ২০২৪, জাহাজের প্রতিটি যাত্রীর জন্য ছিল অনন্য অনুভূতির দিন। সাড়ে টায় আমরা সব যাত্রী এই পেনিনসুলায় নামার সুযোগ পাই। বাংলাদেশ থেকে এই অ্যান্টার্কটিকা পেনিনসুলায় আসা প্রথম অভিযাত্রী ছিলেন ইনাম আল হক। ৮০ বছর বয়সে সেই তিনিই আমাদের সঙ্গী এবং মনেপ্রাণে এখনও একজন তরুণ। অ্যান্টার্কটিকা পেনিনসুলার অত্যন্ত কঠিন পরিবেশ সত্ত্বেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাকেন্দ্র এখানে রয়েছে। অঞ্চলটি তার একান্ত একাকিত্ব এবং প্রতিকূল পরিবেশের কারণে পৃথিবীর জলবায়ু এবং পরিবেশ সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে থাকে।


অ্যান্টার্কটিকার অন্যতম আকর্ষণ এখানকার পেঙ্গুইন। ঠিক কত প্রজাতির পেঙ্গুইন এখানে রয়েছে, এটা বলা মুশকিল। কারণ, একেক উৎস আমাদের একেক রকম তথ্য দেয়। তবে, আমরা অ্যান্টার্কটিকা সফরে মোটামুটি আট প্রজাতির পেঙ্গুইন দেখেছি। প্রথমেই মনে আসে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ এবং তার আশেপাশে দেখা জেন্টু পেঙ্গুইনের কথা। আর কিং পেঙ্গুইনকে বলা হয় দক্ষিণ মেরুর রাজকীয় বাসিন্দা। ম্যাকোর্নি পেঙ্গুইন হলো দক্ষিণ মেরুর হলুদ চুলের সুন্দরী। তাদের চোখের ওপর হলুদ চুলের ঝুঁটির অন্য পেঙ্গুইন থেকে আলাদা করেছে। এ ছাড়া দেখা হয়েছে চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইন, ম্যাজেলানিক পেঙ্গুইন, রকহপার পেঙ্গুইন এবং সবচেয়ে বড় প্রজাতির এম্পেরর পেঙ্গুইনের সঙ্গে। আর সবশেষে এবং সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় দেখেছি আডেলি পেঙ্গুইন।

অ্যান্টার্কটিকা ভ্রমণে এসে তিমির সঙ্গে সময় কাটানো ছিল আমাদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতার বিষয়। এত অল্প সময়ে আমরা এত অধিক সংখ্যায় তিমির দেখা পাব তা স্বপ্নেও ভাবিনি। আবহাওয়া অনুকূলে ছিল, আর যে সময় আমরা তিমি দেখতে বেরিয়েছিলাম সেটি ছিল তিমির ভেসে ওঠার সময়। সবার মন ভরে যায় তিমির এমন অবাধ বিচরণে। অ্যান্টার্কটিকার একাধিক পেনিনসুলায় আমরা অবতরণ করি। সবই ছিল সাদা দুধের মতো একেকটি চাদরে ঢাকা। এই সাদা শান্তিময় পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের প্রাণীর আবাসস্থলের জন্য অনুকূল অবস্থা সৃষ্টি করেছে। পেঙ্গুইন সিল এবং বিভিন্ন ধরনের পাখি এই হিমশীতলে মনের আনন্দে বাস করে। তবে সারা বছর মানুষ বাসের জন্য অনুকূল পরিবেশ নেই বললেই চলে। সেই পেনিনসুলায় অবতরণের অনুভূতি জানাতে গিয়ে ঢাকার স্কলাস্টিকা স্কুলের শিক্ষক তুলান বলেন, এত সৌন্দর্যের বর্ণনা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. নিয়াজ বলেন, অ্যান্টার্কটিকা ভ্রমণের মধ্য দিয়ে আমার সাত মহাদেশ দেখা শেষ হলো। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছি। তবে অ্যান্টার্কটিকা এসে জীবন যেন পূর্ণতা পেল। অনন্য এক অনুভূতি নিয়ে তিনি ফিরছেন বলে জানালেন। 

লাল সবুজ পতাকা হাতে অভিযাত্রী মহসিনুল হক
এ ছাড়া ভ্রমণ যুবরাজ খ্যাত তারেক অণু ও তার অগ্রজ তানভীর অপু সাত মহাদেশ ভ্রমণ শেষ করলেন। অ্যান্টার্কটিকা ভ্রমণ শুধু একটি ভ্রমণ নয় একটু জীবনের একটি চিরস্মরণীয় অভিজ্ঞতা। যারা প্রকৃতির নিবিড় স্পর্শ অনুভব করতে চান এবং ভ্রমণ জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করতে চান, তাদের জন্য এটি হবে একটি সেরা পছন্দ। তবে পৃথিবীর সব দেশ দেখা সম্ভব না হলেও শুধু অ্যান্টার্কটিকা ভ্রমণ হলেই আপনার মনে হবে পৃথিবীর ভূস্বর্গ দেখা হলো এবার!
এসব ভাবতে ভাবতে আমরা পৌঁছে যাই ডিসেপশন আইল্যান্ডে। এটি ছিল অ্যান্টার্কটিকার একটি জীবন্ত আগ্নেয়গিরি দ্বীপ।

অ্যান্টার্কটিকার অদ্ভুত ও রহস্যময় দ্বীপগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো এই ডিসেপশন আইল্যান্ড। এই দ্বীপটি তার অস্বাভাবিক আকৃতি ও প্রকৃতির জন্য বিখ্যাত। এর কালো বালির উপকূল, গরম জলের উৎস এবং সক্রিয় আগ্নেয়গিরির কারণে এটি বিজ্ঞানী ও পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিকালে আমরা পৌঁছে যাই সাউথ পয়েন্ট লিভিংস্টোন দ্বীপে। এটিই আমাদের অ্যান্টার্কটিকা ভ্রমণের সর্বশেষ অবতরণ। আসলে অ্যান্টার্কটিকার আরেকটি অবিশ্বাস্য দ্বীপ হলো সাউথ পয়েন্ট লিভিংস্টোন দ্বীপ। এই দ্বীপে আমরা নানা প্রজাতির পাখি, সিল ছাড়াও বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীর দেখা পাই। বিশেষ করে এখানে জেন্টু পেঙ্গুইনদের বড় বড় কলোনি দেখেছি আমরা।


সবশেষে সাউথ জর্জিয়া হয়ে অ্যান্টার্কটিকা পৌঁছে জেনেছি বিগত ৫০ বছরে এই মহাদেশের তাপমাত্রা পৃথিবীর অন্য যে কোনো মহাদেশের তাপমাত্রার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া ৪০ বছরে ১০ গুণ সবুজ হয়ে উঠেছে অ্যান্টার্কটিক উপদ্বীপ। ১৯৮৬ সালে সেখানে উদ্ভিদ ছিল মোট এক বর্গকিলোমিটারেরও কম। তবে ২০২১ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটারে। এগুলো খুব উদ্বেগজনক খবর। অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশকে যদি আমরা রক্ষা করতে চাই তাহলে এসব পরিবর্তনের বিষয় মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। অ্যান্টার্কটিকা পৃথিবীর সবচেয়ে দূরবর্তী ও নির্জন মহাদেশ হলেও এই মহাদেশের বরফ গলার ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধি, জলবায়ু ব্যাঘাত এবং বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর বাসস্থান হারানোর মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে। দিনে দিনে তা প্রকট আকার ধারণ করছে।


অ্যান্টার্কটিকায় অনেক বিশেষ প্রজাতির প্রাণী বাস করে। এই প্রাণীগুলোর অস্তিত্ব বিপন্ন হতে চলেছে। এটা অব্যাহত থাকলে পুরো পৃথিবীর জৈববৈচিত্র্যের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। আমাদের সকলেরই দায়িত্ব অ্যান্টার্কটিকা ও পৃথিবীর প্রাণিকুলকে রক্ষা করা। ছোট ছোট পদক্ষেপ নিয়ে আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ কাজে অবদান রাখতে পারি। অবহাওয়া অনুকূল থাকায় আমরা প্রাণভরে উপভোগ করেছি হরেক রকম পেঙ্গুইন, সিল, তিমি, অ্যালবাট্রস, স্কুয়াসহ বিভিন্ন পাখিদের বিচিত্র অনুভূতি আর বিদায় বেলায় পেয়েছি মেরু এলাকার জীবদের অজানা এক আকুতি!

তিমির সঙ্গে সময় কাটানো ছিল অভিযাত্রীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতার বিষয়  ছবি : সোহানী হুমায়ারা
২০ দিনের এই অভিযানে এখন মনে হচ্ছে সময় যেন একটু দ্রুতই চলে গেছে। মন বলছে- আরো কয়েকদিন থাকতে পারলে কত ভালো হতো! সেই সুন্দর পরিবেশ। নতুন নতুন দেশের মানুষ। নতুন অভিজ্ঞতা। সব মিলে মনে হয় যেন একটি স্বপ্নের ভেতর ছিলাম। আর সেই স্বপ্ন থেকে জেগে ওঠার সময় যে বেদনা হয় তা তো অন্য কোনো কিছুর সাথে তুলনা করা যায় না! তেমনি মনে হয়েছে এবার। যদিও এরপর এই অ্যান্টার্কটিকা আসা হবে কি না তা আমরা কেউ জানি না, তবু বলি- এই সুন্দর স্থানের অনন্য কিছু স্মৃতি আমাদের হৃদয়ের গভীর থেকে যাবে বহু দিন।

লেখক : জেলা ও দায়রা জজ, চাঁদপুর
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা