বাংলাদেশ থেকে অ্যান্টার্কটিকার পথে-৭
মহসিনুল হক
প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৬:৪৫ পিএম
আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৬:৫৯ পিএম
গডথুল বর্তমানে শিল, পেঙ্গুইন এবং তিমিসহ সামুদ্রিক জীবদের জন্য পরিপূর্ণ একটি অভয় আশ্রয়স্থল
পৃথিবীর দক্ষিণতম প্রান্তের মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকা। বিশাল এ নির্জনতম মহাদেশ ভ্রমণে রয়েছেন ২৭ বাংলাদেশি। সফরে থাকা মহসিনুল হক অ্যান্টার্কটিকা ভ্রমণ অভিজ্ঞতা প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর পাঠকের জন্য নিয়মিত তুলে ধরবেন। আজ থাকছে সপ্তম পর্ব।
দক্ষিণ জর্জিয়ার পূর্ব উপকূলে অবস্থিত গডথুল (Godthul) এলাকাটি তিমি শিকারের জন্য বিখ্যাত। নরওয়েজিয়ান শব্দ 'Godthul' থেকে নেওয়া 'গডথুল' নামটির অর্থ 'ভালো খাঁড়ি'। যা এই এলাকাকে সুন্দরভাবে বর্ণনা করে।
-6761546832927.jpeg)
তিমি শিকারের যুগ
১৯০৮ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত গডথুল তিমি শিকারের অপারেশনের একটি ঘাঁটি হিসেবে ছিল। যদিও এখানে কোনো স্থায়ী স্থাপনা ছিল না। তবু এটি কৌশলগতভাবে তিমি শিকার শিল্পকে বিকশিত করতে ভূমিকা রেখেছে। বড় জাহাজগুলো এই উপসাগরে ভেড়ার পর এখান থেকে ছোট ছোট শিকারি নৌকা বড় জাহাজ থেকে নামানো হতো।
-6761548e9a6ad.jpeg)
মূলত ছোট নৌকা দিয়ে তিমি ধরার পর তা প্রক্রিয়া করার জন্য বড় জাহাজে তোলা হতো। এই অপারেশনগুলো অতীত চিহ্ন গডথুল এলাকায় এখনও দেখা যায়। যেমন মরচে ধরা যন্ত্রপাতি এবং তিমির হাড় দেখেছি সেখানে। এগুলো অতীতের ভয়ংকর স্মারক হিসেবে মূর্তমান রয়েছে।
-676154b4a6d22.jpeg)
গডথুল বর্তমানে শিল, পেঙ্গুইন এবং তিমিসহ সামুদ্রিক জীবদের জন্য পরিপূর্ণ একটি অভয় আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আজকের গডথুল অ্যান্টার্কটিক ক্রুজ জাহাজের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য। যার ফলে আমরা জডিয়াকে (ছোট নৌকা) করে ঘোরাঘুরি করার সময় আইসবার্গ, সামুদ্রিক জীবন এবং শীলসহ প্রচুর পেঙ্গুইন সেখানে দেখেছি।
-676154a31e95d.jpeg)
প্ল্যানসিয়াস জাহাজে প্রতিদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় আগের দিন বিকালে। সেখানে সকলকে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে উঠেই সকালের নাশতা সেরে ফেলতে হয়। এরপর মাঝে বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে থাকে অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ সম্পর্কে খুঁটিনাটি অনেক অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা, তথ্যচিত্র প্রদর্শনী এবং প্রশ্নোত্তর পর্ব। এর মধ্যে কিছু কিছু পর্বে জাহাজের সকল যাত্রীকে অংশগ্রহণ করতে হয়।

রাতের খাবার মেন্যু দুপুরে নির্বাচন করে জানিয়ে দিতে হয়। সকালে ডিমসহ ব্রেড, সবজি, টকদই, আপেল/কমলার শরবত থাকে। এ ছাড়া চা-কফি বিস্কুট জাহাজের মিলনায়তনে (পাঁচ তলায়) ২৪ ঘণ্টা পাওয়া যায়।
-6761556bc6fb0.jpeg)
সব মিলিয়ে ৩০ জন বাংলা ভাষাভাষী যাত্রী থাকায় এবং জাহাজের প্রধান কুক ভারতের গোয়ার অধিবাসী কবীর থাকায় আমরা বেশিরভাগ সময় ভাত-মাছ-মুরগি-গরুর মাংস দিয়ে এবং সময় সময় আলু ভর্তা দিয়েও তৈরি খাবার পাচ্ছি।
-67615586ed2d6.jpeg)
এ যেন অ্যান্টার্কটিকার পথে বাঙালি রেস্টুরেন্টে বসে খাওয়া বলে মনে হয় আমাদের।
আগামী পর্বে থাকবে
দক্ষিণ মেরুতে অবতরণকারী প্রথম মানুষ সম্পর্কে এবং জাহাজে বিজয় দিবস পালনের গল্প।
লেখক : জেলা ও দায়রা জজ, চাঁদপুর