বাংলাদেশ থেকে অ্যান্টার্কটিকার পথে : ২
মহসিনুল হক
প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৪:২৮ পিএম
আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ ২২:৫৪ পিএম
পৃথিবীর দক্ষিণতম প্রান্তের মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকা। বিশাল এ নির্জনতম মহাদেশ ভ্রমণে রয়েছেন ২৭ বাংলাদেশি। অ্যান্টার্কটিকা ভ্রমণ অভিজ্ঞতা সফরে থাকা মহসিনুল হক প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর পাঠকের জন্য নিয়মিত তুলে ধরবেন। আজ থাকছে দ্বিতীয় পর্ব।
-675a9e8182eb8.jpeg)
উশুইয়া বন্দর থেকে অ্যান্টার্কটিকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া এমভি প্ল্যানসিয়াস জাহাজে রয়েছেন ২৭ বাংলাদেশিসহ ৩০ বাংলাভাষী পর্যটক। ৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক এ যাত্রায় রয়েছেন ইতঃপূর্বে অ্যান্টার্কটিকা ভ্রমণ করা পাখি বিশেষজ্ঞ, আলোকচিত্রী, লেখক ও পর্যটক ইনাম আল হক। সফরকারী দলে আরও রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার আবদুল জলিল। তিনি বর্তমানে কানাডাপ্রবাসী। রয়েছেন বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ডা. নিয়াজ আবদুর রহমান। এ ছাড়া বিশ্বখ্যাত পর্যটক তানভীর অপু ও তার ছোট ভাই তারেক অণু, মেক্সিকোয় বসবাসকারী স্প্যানিশ ভাষাবিদ লেখক আনিস উজ্জামান, ট্রেকার ডা. খালেদা পারভীন রেখা, ডা. তন্ময়, দুবার বাংলা চ্যানেলজয়ী সাঁতারু রফিকুল ইসলাম, কানাডায় বসবাসকারী আইনজীবী সাকিব নাজিম, ওমান থেকে যুক্ত হওয়া ডা. অপুসহ ২৭ জন। দলের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হলো ১১ বছর বয়সি জারিতা আরাইনা রহমান। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অধিবাসী ডা. দেবযানী চ্যাটার্জি, মহুলিমা ও কৌস্তুভ (এ দুজন বর্তমানে ফিনল্যান্ডে বসবাস করেন)। আরও রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ানসহ অনেক অনেক দেশের অভিযাত্রী।
-675a9e8df0ec8.jpeg)
একটানা দুই দিন জাহাজ চলার পর ৮ ডিসেম্বর ফকল্যান্ডের দুটি দ্বীপ ওয়েস্ট পয়েন্ট ও স্যান্ডার্স দ্বীপে এসে থামে জাহাজ। সেখানে নেমে দ্বীপ দুটিতেই ঘোরাঘুরি করার সুযোগ পায় পর্যটকের দল। তবে যাওয়ার সময় সমুদ্রপথে দেখা মেলে প্রচুর আলবাট্রস পাখির। এ ছাড়া দ্বীপ দুটিতেই দেখা মিলেছে আলবাট্রস, পেঙ্গুইনসহ নানা প্রজাতির পাখির।
আলবাট্রস : সমুদ্রে বিচরণকারী বিশাল পাখি। আলবাট্রস হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় উড়ন্ত পাখিগুলোর মধ্যে একটি। এরা প্রশান্ত, আটলান্টিক ও ভারত মহাসাগরের দক্ষিণাংশে বিস্তৃত। এ পাখির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো এর দীর্ঘ জীবৎকাল, দূরপাল্লার উড়ান।
-675a9ea90d1ae.jpeg)
শারীরিক বৈশিষ্ট্য
আকার : আলবাট্রসের ডানার বিস্তার ৩.৫ মিটার পর্যন্ত হতে পারে।
দেহ : এদের দেহগড়ন ভারী এবং ঠোঁট শক্ত ও বক্র।
পালক : পালকগুলেঅ সাধারণত সাদা বা ধূসর রঙের হয়।
চোখ : এদের চোখ বড় এবং তীক্ষ্ণ দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন তারা।
-675a9ebb2630b.jpeg)
জীবনধারা
খাদ্য : আলবাট্রস মূলত মাছ, স্কুইড ও ক্রাস্টেসিয়ান খায়।
প্রজনন : এরা সাধারণত দ্বীপে বা উপকূলে বাসা বাঁধে এবং একবারে একটি ডিম পাড়ে।
উড়ান : আলবাট্রস ঘণ্টার পর ঘণ্টা উড়তে এবং হাজার হাজার কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে।
মাছ শিকার, তেলদূষণ এবং আবাসস্থলের ক্ষতির কারণে আলবাট্রসের সংখ্যা ক্রমে কমছে। এ ছাড়া সমুদ্রের তাপমাত্রা এবং সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি আলবাট্রসের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। আলবাট্রস হলো প্রকৃতির এক অবিশ্বাস্য সৃষ্টি। এ পাখিগুলো সমুদ্রের বিশালতা জয় করে এবং আমাদের প্রকৃতির অসীম বিচিত্রতা সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেয়। আলবাট্রসকে বাঁচাতে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
পরবর্তী পর্বে থাকবে
ওয়েস্ট পয়েন্ট, স্যান্ডার্স ও ফকল্যান্ডের রাজধানী পোর্ট স্ট্যানলি নামার গল্প।
লেখক : জেলা ও দায়রা জজ, চাঁদপুর