অরিজিৎ মণ্ডল কৃষ্ণ
প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৩:৫৯ পিএম
আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৪:৪০ পিএম
সুন্দর ছবিটি এঁকেছে অর্নিলা ভৌমিক। সে ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী
আকাশের ছোট ভাই অভি ছবি আঁকার খাতার পৃষ্ঠা ওল্টাচ্ছিল। একটা করে ছবি দেখে আর প্রশ্ন করে-
-দাদা, এই লোকটার একটা হাত কেন?
-দেখছিস না অন্য পাশ থেকে গুলি করছে?
-কেন গুলি করছে?
-আরে বোকা মেরে ফেলতে চেয়েছিল।
-লোকটা প্রাণে বেঁচেছে তবু ভালো।
পৃষ্ঠা ওল্টাতে ওল্টাতে আবার জানতে চায় অভিÑ
-দাদা, তোমার নতুন খাতার সবকটি ছবিতে এমন যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব কেন?
-এটা বিজয়ের মাস ডিসেম্বর তো তাই।
-এ মাসে যুদ্ধের ছবি আঁকতে হয়?
-আমি আঁকি।
-কেন আঁকো?
-তুই আগে বল তুই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনেছিস?
-হুম। মা বলেছে। পাকিস্তানিদের সঙ্গে বিশাল যুদ্ধে আমাদের মামা মারা গিয়েছিলেন। সেটাই হলো মুক্তিযুদ্ধ।
-আমাদের মামার মতো আরও কত লোকের প্রাণ গেছে সেই যুদ্ধে। অনেক অনেক ক্ষতি হয়েছে আমাদের।
-মামার ছবি দেখে মা কাঁদে।
-এ ডিসেম্বর মাসেই মামা শহীদ হয়েছিলেন। আমাদের দেশের মুক্তির জন্য যারা যুদ্ধ করেছিলেন তাদের শ্রদ্ধা জানাতে, ভালোবাসতে আমি এ ছবিগুলো আঁকছি।
অন্য একটা ছবি দেখে কান্না শুরু করে অভি।
-দাদা, তুমি এত মানুষ মেরেছো কেন?
-দূর বোকা! মুক্তিযুদ্ধে তো ৩০ লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল।
ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়ার ছবি, মানুষকে পশুপাখিতে খাচ্ছে এমন ছবি দেখে অভির কান্না আর থামে না।
এমন সময় মা এলেন ঘরে। হাতে দুটি ঘুড়ি। অভিকে বুকে টেনে নিয়ে বললেন, চলো আমরা ছাদে ঘুড়ি ওড়াব। দুই ভাই-ই ঘুড়ি ওড়াতে খুব পছন্দ করে। ঘুড়ি ওড়াতে গিয়ে দেখল ঘুড়ির বুকে মা লিখেছেন, ‘বিজয় ৭১’। অভি আবার প্রশ্ন করে জেনে নেয় ১৯৭১ সালে নয় মাস যুদ্ধ করে পাওয়া বিজয় দিবসের কথা। দুই ভাই ঘুড়ি ওড়াতে ওড়াতে যেন বিজয় উৎসবে মেতে ওঠে।
অষ্টম শ্রেণি, মানিকগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মানিকগঞ্জ