নুসাইবা নাওয়ার
প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৩:৫৪ পিএম
আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৪:৪০ পিএম
ছবিটি এঁকেছে রুদ্রদীপ পাল। সে মুন্সীগঞ্জ টংগিবাড়ী সানরাইজ কিন্ডারগার্ডেনের নার্সারিতে পড়ছে ,
আচ্ছা আম্মু, নানুভাইয়ের গল্পটা বলো না একটু। ঘুমানোর সময় অর্ষা প্রায়ই এ গল্পটা শুনতে চায়। রুদমিলা গল্প শুরু বলা করলÑ ১৯৭১ সাল। সারা দেশে যুদ্ধ। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে যাওয়ার চিন্তাই করতে পারে না। সবাই ঘরবন্দি। বড় খালার বয়স তখন তিন আর বড় মামার দুই বছর। উঠোনে বের হতেই পারে না তারা। পাকিস্তানি মিলিটারিদের ভয়ে কেউ বাইরে বের হতে পারত না। পাশের বাড়ির ইজ্জত আলী দাদাকে মিলিটারিরা মেরে ফেলে রেখেছে রাস্তায়। ভাঙাপুলের সামনে। হঠাৎ শোনা গেল চেয়ারম্যান চাচাদের গোয়ালঘরে আগুন দিছে মিলিটারিরা। তিন তিনটে দুধেল গাই সঙ্গে সঙ্গে পুড়ে ছাই হয়ে গেল। চেয়ারম্যান চাচার মা দুই সেকেন্ড আগেই গরুর দুধ দোহন করে গোয়ালঘর থেকে বের হয়েছে। এক সেকেন্ড আগে হলে উনিও আগুনে পুড়ত। চেয়ারম্যান চাচা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের কমান্ডার। উনার খোঁজে এসে উনাকে না পেয়ে আগুন লাগাল গোয়ালঘরে। তার দুই দিন পরই মিলিটারি খবর পাঠাল তাদের ক্যাম্পে রান্না করা খাবারদাবার পাঠাতে। তোমার নানুভাই অমিত সাহস নিয়ে গেলেন শত্রুর ঘাঁটিতে। একটুও সাহস হারাননি। শত্রুবাহিনীর ঘাঁটি দেখে এসে গ্রামের লোকজন নিয়ে তাদের ওপর আক্রমণ করলেন। তোমার নানুভাই সাহসিকতার সঙ্গে তা মোকাবিলা করলেন। গ্রামটি রক্ষা পেল।’ মায়ের মুখে নানুভাইয়ের বীরত্বের কত যে গল্প শোনে অর্ষা। জেনে নানুদের মতো মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা বেড়ে যায়।
অষ্টম শ্রেণি, বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা, উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, চট্টগ্রাম