রোবোতে একজোড়া ব্রোঞ্জ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৪ ১১:৩০ এএম
প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জজয়ী বাংলাদেশের ‘ওয়েভ সেইভার’ একটি ভাসমান রোবট
তুরস্কের পশ্চিম সীমান্তের মহানগর ইজমিরে ২৮-৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয় ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াডের ২১তম আসর।
সিনিয়র সেশনের এ প্রতিযোগিতার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘ফোর্স অব নেচার’। প্রকৃতির ক্ষতি রুখতে রোবটের উদ্ভাবনী ব্যবহার দেখাতে গেমিং ঘরানার প্রতিযোগিতাটিতে অংশ নিয়েছে ৮৭ দেশের ৫৬০টি রোবট দল। বিশ্বের ৫৭ দেশ থেকে ১৯৭ জন বিচারকসহ মোট অংশগ্রহণকারী ছিলেন ৩ হাজার ১৫০ জন। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক পর্বের বিচারক হিসেবে যুক্ত ছিলেন সাজ্জাদ ইসলাম, রেদওয়ান ফেরদৌস ও সিহাব সারার আহমেদ।
বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় ফিউচার ইঞ্জিনিয়ার্স, ফিউচার ইনোভেটরস এবং রোবো স্পোর্টস সেগমেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বাংলাদেশের মোট ১২ জন প্রতিযোগী। তবে শেষ পর্যন্ত দেশের জন্য এক জোড়া ব্রোঞ্জ জিতেছে তিন সদস্যের দুটি দল। এ দুই দলের নেতৃত্বেই আছেন একজন করে নারী। এর মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ পাবলিক কলেজের শিক্ষার্থী আফিয়া হুমায়রা নেতৃত্ব দিয়েছেন ‘সাইবার স্কোয়াড’ দলের। তিনি এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া আনজুম পুষ্পর তত্ত্বাবধানে ‘চেইঞ্জ মেকার্স ২০২৪’ এ বছর মান রেখেছে বাংলাদেশ দলের। কেননা গত বছরও সেরাদের মধ্যে পঞ্চম স্থান অর্জন করে বাংলাদেশের টিম। কিন্তু এবার অবস্থানটি না এগিয়ে বরং পিছিয়েছে।
প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জজয়ী বাংলাদেশের ‘ওয়েভ সেইভার’ একটি ভাসমান রোবট। নদী বা সমুদ্রে পানি থেকে তেলদূষণ রোধে কাজ করতে সক্ষত স্বয়ংক্রিয় এবং সৌরশক্তিচালিত রোবটটি। এজন্য এর ক্যামেরার চোখ ইমেজ প্রসেসিং করে পানিতে থাকা তেল শনাক্ত করে। একই সঙ্গে বিশেষ প্রক্রিয়ায় চারপাশে বৃত্তাকার বাউন্ডারি তৈরি করে তা ছড়িয়ে পড়া ঠেকায়। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় রোবটটি এর ইমারজেন্সি চেম্বার থেকে শুকনা খাবার, কাপড়, ওষুধ, পানযোগ্য পানিসহ প্রযোজনীয় জিনিসপত্র জোগান দিতে সক্ষম।
রোবটটির ইমেজ প্রসেসিংয়ের কাজটি করেছেন ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের রাগিব ইয়াসার রহমান। থ্রিডি মডেলে সঙ্গী ছিলেন সরকারি মদন মোহন কলেজের বি এম হামীম। বিজয়ী রোবট বিষয়ে দলনেতা পুষ্প বলেন, ‘আমাদের ওয়েভ সেভার রোবটটি যেহেতু তেল ছড়াতে না দিয়ে বরং সংরক্ষণ করে ফলে এটি ব্যবহারে একদিকে যেমন সামুদ্রিক প্রাণীদের জীবন রক্ষা পাবে; অন্যদিকে সংগৃহীত তেল পুনর্ব্যবহার করা যাবে।’

বন্যাকবলিত এলকায় উদ্ধারকাজের জন্য দেড় ফুট আকারের দ্বিতল ‘অ্যাকুয়া মাস্টার’ নৌ-বট দিয়ে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের পক্ষে অন্য ব্রোঞ্জ মেডেল জিতেছে ‘সাইবার স্কোয়াড’। এ দলের দলনেতা বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ পাবলিক কলেজের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আফিয়া হুমায়রা। এটি তৈরিতে তার সঙ্গে আছেন ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজের ওমেরা ফিদান ও এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজের নুজহাত জাহান। তাদের উদ্ভাবিত রোবটটির বিল্ট ইন ক্যামেরা বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে সক্ষম। এটি জিপিএস এবং ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে পরিচালনা করা যায়। স্টেবিলাইজ ট্যাংক ব্যবহার করায় প্রবল ঢেউয়ে উল্টে যাওয়ার ঝুঁকি নেই। রোবটটিতে প্রোপেইলারের পরিবর্তে ইম্পাইলার ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে পেছন দিকে পানির ধাক্কায় সামনে ছুটে চলে নৌ-বট।