সন্দেহের তিরে অনেক নিরপরাধ মানুষ সাজা ভোগ করে। পরে সত্য প্রকাশিত হলেও কিছু করার থাকে না। হেনস্থা তো আর ফিরিয়ে দেওয়া যায় না। সম্প্রতি আর্জেন্টাইন নাগরিক ম্যাক্সিমিলিয়ানো অ্যাকোস্তার বেলায়ও এমনটাই ঘটেছে। ভুলবশত তাকে বন্দি করেছিল দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। ঘটনাটি এ বছর অক্টোবরের। ম্যাক্সিমিলিয়ানো অ্যাকোস্তা রাজধানী বুয়েনস আইরেসের দিকে মেন্ডোজা শহরের একটি বাসে উঠেছিলেন। কিছুক্ষণ পর বাসটি লা পাজে থামিয়ে দেওয়া হয়। জেন্ডারমেসের একটি দল নিয়মিত চেক বসায় এ স্থানে। বাসের যাত্রীদের লাগেজ চেক করার সময় জেন্ডারমেসের অ্যাকোস্তার কাছ থেকে ১৮টি পাত্রে ট্যালকম পাউডার উদ্ধার করেন। শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। অ্যাকোস্তা ব্যাখ্যা করেন এটি তার নিজের ব্যবহারের জন্য নেওয়া ট্যালকম পাউডার। তবু জেন্ডারমেসের দলটি তাকে মাদক রাখার সন্দেহে আটক করে। গ্রেপ্তারের সময় অভিযোগ ছিল ১৮টি পাত্রে কোকেন ভরা ছিল। এমনকি ম্যাক্সিমিলিয়ানোকে এ পরিস্থিতি সম্পর্কে তার পরিবারকে সতর্ক না করেই কারাগারে আটকে রাখে। অভিযুক্ত ব্যক্তিটি ১৮টি পাত্রে ট্যালকম পাউডার নিয়ে যাচ্ছিলেন। তাই এ পদার্থের প্রকৃতি পরীক্ষা করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীর তিন সপ্তাহ লেগেছিল।

জুতাপ্রেমী বেজি
দক্ষিণ জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ফুকাওয়ায় এক কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষার্থীদের জুতা হারিয়ে যায়। কয়েক দিন ধরে এ কর্মটি করে যাচ্ছে চোর। এ ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ খুব চিন্তিত হয়ে পড়ে। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রথমে ভেবেছিল এটি হয়তো কোনো চোরের কাজ। আশপাশে কোনো চোর লুকিয়ে আছে। এ কীর্তি নিশ্চয়ই কোনো চোরের। তাই পুলিশ স্কুলে তিনটি গোপন ক্যামেরা সেট করে। পরে নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধরা পড়ে চোর। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ছোট্ট একটি জুতো মুখে পুরে নিয়ে যাচ্ছে একটি বেজি। মুহূর্তে এ ভিডিও বার্তাটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ বেজির জুতো চুরির ঘটনা সম্পর্কে ডেপুটি পুলিশপ্রধান হিরোকি ইনাদা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘এটি খুব ভালো যে চোর কোনো মানুষ না হয়ে একটি বেজি।’ তিনি মজার ছলে জানান, বেজিটি আসলে জুতোপ্রেমী। বেজি মুখে করে নিয়ে যেতে পারে এমন জিনিস লুকিয়ে রাখে জাপানের মানুষ। যারা বেজি বাড়িতে পোষেন, তারা এজন্য ছোট ছোট খেলনা রাখেন, যেন বেজি সেগুলো লুকিয়ে রাখতে পারে। জাপানের ওই কিন্ডারগার্টেনে প্রথম দিন বেজি সব জুতো এলোমেলো করে এবং ১৫টি জুতো নিয়ে যায়। পরদিন আরও ছয়টি জুতো খোয়া যায়। ১১ নভেম্বর সেটি ফিরে আসে এবং আরও একটি জুতো চুরি করে। তবে বেজিটি শুধু ঘরে পরার সাদা রঙের ক্যানভাস কাপড়ের তৈরি জুতা নিয়েছে।

ব্যাঙকে সুস্থ করতে ৮০০ মাইল দূরে
অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দা মিন টিমস আপনমনে একবার ঘাস কাটছিলেন। হঠাৎ ভুলবশত তার হাতের ঘাস কাটার যন্ত্রটি একটি ব্যাঙের ওপর দিয়ে চলে যায়। সবুজ ঘাসের সঙ্গে মিশে থাকায় ব্যাঙটি তিনি দেখতে পাননি। আহত ব্যাঙটি নিয়ে তিনি ছোটাছুটি করতে থাকেন। পরে চিকিৎসার জন্য টিমস দৌড়ে তার ভাগনি ফেলিসিয়া মরগানের কাছে যান। পরে এ নারী ব্যাঙের ক্ষতস্থানে প্রাথমিক চিকিৎসা করেন। আঘাতপ্রাপ্ত স্থানটি পরিষ্কারের চেষ্টা করেন। এক দিন চলে যাওয়ার পরও সুস্থ না হলে তারা বিচলিত হয়ে পড়েন। পরে টিমস এবং মরগান কেয়ার্নসের ফ্রগ সেফ ফ্রগ হাসপাতালের সভাপতি ডেবোরা পারগোলোটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন এ চিকিৎসক ব্যাঙটিকে কেয়ার্নে নিয়ে আসার জন্য বলেন। কিন্তু বললেই তো আর হয় না। তাদের থেকে কেয়ার্ন হাসপাতালটির দূরত্ব প্রায় ৮০০ মাইল। এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে আকাশপথে যেতে হবে। তবু এ দুই নারী হাল ছেড়ে দিতে রাজি নন। ব্যাঙকে তারা চিকিৎসা করাবেনই। তাদের প্রবল আত্মবিশ্বাস ছিল ব্যাঙটিকে সুস্থ করে তুলবেন। বিমানবন্দরের বিশাল আমলাতান্ত্রিক জটিলতা মিটিয়ে তারা ব্যাঙটিকে সঠিকভাবে প্যাকেজ করে প্রায় ৮০০ মাইল দূরে আকাশপথে কেয়ার্নসের হাসপাতালে পৌঁছান। পরে চিকিৎসাসেবা দিয়ে ব্যাঙটিকে সারিয়ে তোলা হয়। তখন পারগোলোটি বলেছিলেন, ‘ব্যাঙটি সৌভাগ্যবান। টিমস এবং মরগান তার যত্ন নিতে এতটা পথ পাড়ি দিয়েছেন।’